Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোকে জন্মান্তর ও পুণর্জন্মের তত্ত্ব


                    জন্মান্তর বা পুনর্জন্ম কি?

পুনর্জন্ম— (সংস্কৃত: पुनर्जन्म)
পুনরুৎপত্তি, পুনরুদ্ভব, পুনর্জন্ম (বিশেষ্য পদ—মৃতু্যর পর পুনরায় জন্মগ্রহণ। বিশেষণ পদ— পুনরুৎপন্ন পুনরুদ্ভূত, পুনর্জাত।

পুনরুত্পত্তি, পুনরুদ্ভব, পুনর্জন্ম, পুনর্জীবন এর বাংলা অর্থ অভিধানে দেখা যায় —
পুনরুত্পত্তি, পুনরুদ্ভব, পুনর্জন্ম, পুনর্জীবন এর বাংলা অর্থ হলো - (p. 523) punarutpatti, punarudbhaba, pūnarjanma, punarjībana বি. পুনরায় জন্ম ও উত্পত্তি; মরে গিয়ে আবার জন্মলাভ।
[সং. পুনঃ + উত্পত্তি, উদ্ভব, জন্ম, জীবন]।
বিণ. পুনরুত্পন্ন, পুনরুদ্ভত পুনর্জাত, পুনর্জীবিত। 66)

পুনর্জন্ম বা জন্মান্তরবাদ হল— দার্শনিক বা ধর্মীয় ধারণা যে জীবের অ-ভৌত সারাংশ জৈবিক মৃত্যুর পরে ভিন্ন শারীরিক আকারে বা শরীরে নতুন জীবন শুরু করে। পুনরুত্থান হল অনুরূপ প্রক্রিয়া যা কিছু ধর্ম দ্বারা অনুমান করা হয়েছে যেখানে আত্মা একই দেহে জীবিত হয়ে ফিরে আসে।

পুনর্জন্ম জড়িত বেশিরভাগ বিশ্বাসে, আত্মাকে অমর হিসাবে দেখা হয় এবং একমাত্র জিনিস যা ধ্বংসযোগ্য হয়ে ওঠে তা হল শরীর। মৃত্যুর পরে, আত্মা আবার জীবিত হওয়ার জন্য নতুন শিশু বা প্রাণীতে স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তর শব্দের অর্থ মৃত্যুর পরে এক দেহ থেকে অন্য দেহে আত্মা চলে যাওয়া।

জন্মান্তরবাদ অন্য জন্মের অর্থ জন্মান্তর। আর এই জন্মান্তর সম্বন্ধে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা তাকে জন্মান্তরবাদ বলে। এ প্রসঙ্গে #শ্রীমদ্ভগবদগীতায় অর্জুনকে অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উক্তিটি প্রনিধানযোগ্য—

श्रीभगवानुवाच बहूनि मे व्यतीतानि जन्मानि तव चार्जुन ।
तान्यहं वेद सर्वाणि न त्वं वेत्थ परन्तप ॥

      "বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন ।
      "তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেথ পরন্তপ ।।
                    (শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ৪/৫)

অর্থাৎ— হে অর্জুন, তোমার ও আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সে সবই আমার মনে আছে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ যে অর্জুনের সখা এবং তার রথের সারথী এ সত্য অতিক্রম করে আর একটি পরম সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তা হলো শ্রীকৃষ্ণ সর্বজ্ঞ, পরমেশ্বর। তিনি শাশ্বত, অব্যয় পরমাত্মা। আবার যখন বলা হলো অর্জুনেরও বহুবার জন্ম হয়েছে, এ থেকে বোঝা যায় অর্জুনের মধ্যেও পরমাত্মার ন্যায় কোন শাশ্বত বস্তু রয়েছে যা বহুবার জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েও নষ্ট হয়ে যায়নি। শাস্ত্রের ভাষায় জীবদেহের ঐ শাশ্বত বস্তুটি হলো জীবাত্মা, সংক্ষেপে আত্মা।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে—

न तद्भासयते सूर्यो न शशाङ्को न पावकः ।
यद्गत्वा न निवर्तन्ते तद्धाम परमं मम ॥

ন তদ্ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ ।
যদ্গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ১৫/৬)

অর্থাৎ— যে পদ প্রাপ্ত হইলে সাধক আর সংসারে প্রত্যাবর্তন করেন না, যে পদ সূর্য, চন্দ্র বা অগ্নি প্রকাশ করিতে পারে না, তাহাই আমার পরম স্বরূপ।

                         "দেহ ও আত্মা"
দেহ ও আত্মার মধ্যে রয়েছে গভীর সম্বন্ধ। দেহকে আশ্রয় করেই আত্মার অভিযাত্রা ; আবার আত্মাকে লাভ করেই দেহ সজীব। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়, আত্মাহীন দেহ জড়। তবে দেহের মধ্যে যে আত্মার অবস্থান এটা উপলব্ধি করা সহজ কাজ নয়। আত্মা যে দেহকে আশ্রয় করে সেটি কিন্তু নশ্বর। ক্ষিতি (ভূমি), অপ (জল), তেজ (অগ্নি), মরুৎ (বায়ু) ব্যোম অর্থাৎ আকাশ— এই পঞ্চভূতে গড়া হলো দেহ। এই দেহের বিনাশ আছে। যিনি জীবদেহ ধারন করে এসেছেন তারই দেহনাশ নিশ্চিত হয়ে রয়েছে। গীতায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে 'জাতস্য হি ধ্রবো মৃত্যুঃ'— জাত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। তবে ঐ দেহে যে জীবাত্মা ছিল তার কিন্তু বিনাশ নেই। ঐ জীবাত্মা এক দেহ ত্যাগ করে  অন্য নতুন দেহ ধারন করে।

अव्यक्तोऽक्षर इत्युक्तस्तमाहुः परमां गतिम् ।
यं प्राप्य न निवर्तन्ते तद्धाम परमं मम ॥

অব্যক্তোহক্ষর ইত্যুক্তস্তমাহুঃ পরমাং গতিম্ ।
যং প্রাপ্য ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ৮/২১)

অর্থাৎ— যাহা অব্যক্ত অক্ষর নামে কথিত হয়, যাহাকে শ্রেষ্ঠ গতি বলে, যাহা পাইলে পুনরায় ফিরিতে হয় না, তাহাই আমার পরম স্থান বা স্বরূপ; (অর্থাৎ) আমিই পরম গতি, তদ্‌ভিন্ন জন্ম অতিক্রম করিবার উপায় নাই।

वासांसि जीर्णानि यथा विहाय नवानि गृह्णाति नरोऽपराणि ।
तथा शरीराणि विहाय जीर्णा न्यन्यानि संयाति नवानि देही ॥

বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্ণাতি নরোহপরাণি । তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ২/২২)

অর্থাৎ— যেমন মনুষ্য জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেইরূপ আত্মা জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করিয়া অন্য নূতন শরীর পরিগ্রহ করে।

                       "জন্মান্তর প্রক্রিয়া"
জীবাত্মার পক্ষে মৃত্যুর অর্থ হলো দেহত্যাগ। জীবাত্মা কেমন এবং কেনইবা দেহত্যাগ করে, গীতায় এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে দেহত্যাগ ব্যপারটি একটি সহজ কাজ, যেমন একই দেহে বাল্য, কৈশোর, যৌবন বার্ধক্য আসে, তেমনি আত্মাও স্বাভাবিকভাবেই জীর্ণ দেহ ছেড়ে চলে যায়। যেমন লোকে পুরাতন ছিন্ন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, সেইরূপ জীবাত্মাও জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারন করে।

এভাবে পুরাতন দেহ ত্যাগ করে জীবাত্মা যে নতুন দেহ ধারণ করছে অর্থাৎ দেহের সাথে তার যে সংযোগ-বিয়োগ ঘটছে এটাই জন্মান্তরবাদ।

                             "কর্মবাদ"
জন্মান্তরবাদের সাথে কর্মবাদ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। আত্মার অবিনাশিতা ও জন্মান্তরবাদের ন্যায় কর্মবাদও সনাতন ধর্মের ভিত্তি ও প্রস্তর স্বরূপ। কর্মবাদের মূল কথা হলো বিশ্বজগৎ ঈশ্বরের এক বিরাট কর্মক্ষেত্র। এখানে জীব ভাবনা, বাসনা ও চেষ্টার দ্বারা নানা রকম কর্ম করে যাচ্ছে। আর প্রত্যেকটা কর্মের রয়েছে পৃথক পৃথক কর্মফল। সনাতন ধর্মমতে কর্ম করলেই কর্মফল উৎপন্ন হবে, আর কর্মকর্তাকে তা অবশ্যই ভোগ করতে হবে। আর এই কর্মফল ভোগ না শেষ হওয়া পর্যন্ত মোক্ষপ্রাপ্তি বা জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসারচক্র থেকে মুক্তি হবে না।

आब्रह्मभुवनाल्लोकाः पुनरावर्तिनोऽर्जुन ।
मामुपेत्य तु कौन्तेय पुनर्जन्म न विद्यते ॥

আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোহর্জুন ।
মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে ।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ৮/১৬)

অর্থাৎ— হে অর্জুন, ব্রহ্মলোক পর্যন্ত সমস্তলোক হইতেই লোক সকল ফিরিয়া পুনরায় জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু হে কৌন্তেয়, আমাকে পাইলে আর পুনর্জন্ম হয় না।

                          "মুক্তির উপায়"
তবে জীবের মুক্তির উপায় কি?

নিষ্কামভাবে কর্ম করলে, সে কর্মের যে ফল উৎপন্ন হবে তা আর কর্মকর্তাকে ভোগ করতে হবে না। সুতরাং নিষ্কাম কর্মের অনুশীলন করাই সঙ্গত কাজ । নিষ্কাম কর্ম করে জীব মুক্তিলাভ করতে পারে।

         "শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও বিজ্ঞান প্রমাণিত"

উপর্যুক্ত শ্লোকগুলোর মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদেরকে পুনর্জন্ম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখানে তিনি অর্জুনকে বলেছেন- মানুষ মরে গেলেও শোক করার কিছুই নেই। কেননা আপাত দৃষ্টিতে আমাদের কাছে মানুষের মরণ হলেও প্রকৃতপক্ষে আত্মার কোনো মৃত্যু নেই। শুধু আমাদের এই নশ্বর দেহের পতন হয়। এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য এবং নিত্য সর্বব্যাপী, অচল, স্থির, সনাতন। শরীর বিনষ্ট হলেও আত্মা বিনষ্ট হয় না। অর্থাৎ যখনই কোনো জীবের দেহ থেকে এই জীবাত্মা চলে যায় তখনই আমাদের কাছে জীবটিকে মৃত বলে মনে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে- "এই আত্মা যায় কোথায়?" এই আত্মা দেহের ভেতরের এবং বাইরের পরিবর্তন সত্ত্বেও মানুষের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে। আমরা যারা সনাতন ধর্মাবলম্বী তারা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি, গৌতম বুদ্ধ পুনর্জন্মে বিশ্বাস করতেন। এমনকি যীশুখ্রিস্টের একটি বাক্যে পুনর্জন্মের ধারণা পাওয়া যায়, (Math. Xi. 14,15).

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মানুষ তার কর্মফল অনুযায়ী পুনর্জন্ম লাভ করে। অর্থাৎ তিনি 'কর্মবাদ'কে বোঝাতে চেয়েছেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে আমাদের অবশ্যই জন্মান্তরবাদ বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা যদি আগের জন্মে মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকি তাহলে সে জন্মের কথা কেন আমাদের মনে থাকে না? আর তা যখন আমাদের মনে পড়ে না, তখন পুনর্জন্মকে সত্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে- আমাদের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব আমাদের স্মৃতির উপর নির্ভর করে না। এমনকি শৈশবকালের কথাও কালের তফাতে আমাদের স্মরণে আসে না। তার অর্থ কি এই যে আমাদের শিশুকাল বলে কোনো অবস্থা ছিল না? এই জীবনেই আগেকার অবস্থা যখন ভুলে যেতে পারি, আমাদের ঠিক আগের জীবন বা তার আগের জীবন মনে রাখতে না পারাটা খুবই স্বাভাবিক। আর যারা মনে রাখতে পারে তাদেরকে বলে 'জাতিস্মর'। অবশ্য পৃথিবীতে বহু মানুষের প্রমাণ পাওয়া গেছে যারা তাদের আগের জন্মের কথা স্মরণ করতে পারে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ বাদ দিলে ব্যবহারিক এবং পরিসংখ্যানের দৃষ্টিতে এসব মানুষের মাধ্যমে গবেষণায় পুনর্জন্মের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আধুনিক জীববিজ্ঞান দেহ ও মনের (Brain) অস্তিত্ব স্বীকার করে, কিন্তু আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে না। কিন্তু দেহ ও মনকে একীভূত করা এবং তাকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যাভিমুখী করে কে? ঠিক তখনই আমরা আত্মার অস্তিত্ব অনুধাবন করতে পারি।

যারা পুনর্জন্ম নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন তাদের মধ্যে Dr. Ian Stevension, Dr. Brian Weiss এর নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া Dr. Michael Newton, Carol Bowman, Dr. Bruce Goldberg, Roger J. Woolger, phd, Morris Nerherton, phd, Edgar Cayce সহ আরও অনেকের গবেষণার মধ্যে আমরা পুনর্জন্ম বিষয়ক স্পষ্ট ধারণা পেতে পারি। এগবেষণাগুলোর মৌলিকত্ব সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য।

Dr. lan Stevension (1918-2007, Carlson Professor of Psychiatry and Director of Division of Personality Studies at the University of Virginia) প্রায় ৪০ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। প্রায় ৩০০ জনকে নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন যাদের মধ্যে অনেকেই পুনর্জন্ম স্মরণ করতে পারে। তিনি ভারত, আফ্রিকা, ব্রিটেন, আমেরিকা ও প্রাচ্যের শিশুদের মাঝে গবেষণা করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুধু শিশুদের মাঝে গবেষণা করেছেন। তিনি উত্তরে বলেন– পূর্ণবয়স্করা অনেক সময় বানিয়ে বলে সেটা যুক্তিহীন এবং প্রকৃত ফলাফলের সাথে যায় না। কিন্তু শিশুরা (বিশেষ করে ৪-১০ বছর বয়সের মধ্যে) তাদের আগের জন্মের অনেক স্মৃতি সঠিক বলে দেয় এবং তার সত্যতাও পাওয়া গেছে। তার Children Who Remember Previous Lives বইটিতে এমন অনেক শিশুদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যেখানে তারা আগের জন্মের কথা স্মরণ করতে পারে। এছাড়া তাঁর পুনর্জন্ম নিয়ে লেখা আরও কিছু বই-

• Twenty Cases Suggestive of Reincarnation.

• Xenoglossy.

• Telepathic Impression.

তিনি অবশ্য কর্মবাদকে সমর্থন করেননি। তিনি শুধু আগের জন্মের স্মৃতি এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কিছু দৈহিক এবং মানসিক বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে পুনর্জন্মকে সত্য বলে প্রমাণ করেছেন। এদিকে Dr. Brian Weiss (Columbia and Yale trained Paychiatrist) কে আধুনিক জন্মান্তরবাদ তত্ত্ব গবেষণার জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর-

• Many lives, Many Masters.

• Message from Masters.

• Through Time into Healing.

• Only Love is Real.

• Same Soul, Many Bodies.

বইগুলোর মাঝে জন্মান্তরবাদকে সত্য বলে দেখানো হয়েছে। পুনর্জন্ম নিয়ে এইসব গবেষকদের গবেষণা থেকে জন্মান্তরবাদের অনেকগুলো প্রমাণ বা কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি। এখানে পুনর্জন্ম বিশ্বাস করার জন্য কিছু প্রধান কারণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি-

আগের জন্মের স্মৃতিঃ— Dr. Ian Stevension এর গবেষণায় প্রায় ৩০০ শিশুর মধ্যে জরিপ করা হয়েছে যারা পুনর্জন্ম স্মরণ করতে পারে বলে দাবি করত। এদের অনেকেই প্রকৃপক্ষে আগের জন্মের কথা স্মরণ করতে পারে এবং তারা আগের জন্মে কোন গ্রামে জন্মেছিল, তার আগের পরিবারের সদস্যদের কথা, পোষা প্রাণীর নাম ও প্রিয় মানুষের নাম স্মরণ করতে পেরেছে। যদিও সেই শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথে এই স্মৃতিগুলো প্রায় ভুলতে থাকে।

জন্মদাগঃ— আগের জন্মে সে কিভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল বা কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল কিনা একথাও তারা বলেছে। যে দুর্ঘটনার জন্য মৃত্যু হয়েছিল এই জন্মেও সেই দাগ বা চিহ্ন দেখা গেছে শরীরে। Dr. Ian Stevension অবশ্য সব জন্মদাগকেই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেননি।

ভীতিঃ— অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, তারা আগের জন্মে যে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে এই এই জন্মেও সেটাকে ভয় পায়। কেউ কেউ ছুরিকাঘাতে মারা গেছে যারা এই জন্মে ছুরি দেখলেই ভয় পায়। এমন বহু প্রমাণ আছে।

১) Xenoglossia:- অনেকের মধ্যে দেখা গেছে তারা এমন একটা ভাষা বলে যা আগে কারো কাছ থেকেই শেখেনি। কিন্তু কখনো কখনো পুরো বাক্য বলে ফেলছে। অর্থাৎ এটুকু বলা যায় যে তারা আগের স্মৃতিবহন করে এবং আগের জন্মের ভাষা বলতে পারে।

২) Child Prodigies:- কিছু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা অন্য শিশুদের তুলনায় বেশি পারদর্শী যেকোনো নির্দিষ্ট কাজ। 

জন্ম হলে মৃত্যু যেমন সুনিশ্চিত তেমনি মৃত ব্যাক্তির পুনজন্ম ও সুনিশ্চিত এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ নিয়ে আমি আগামীতে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন সংস্কৃতি ও বেদ
বেদান্তদর্শন প্রচারক, বাংলাদেশ।

জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রী রাম,
হর হর মহাদেব।

Post a Comment

0 Comments