Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

সনাতন ধর্মের বিবাহ বহির্ভূত বা বিবাহের প্রকারভেদ ও পদ্ধতি কি?

"বিবাহ"— দারপরিগ্রহ, পাণিগ্রহণ, পরিণয় (বিবাহ) শব্দটি বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ও ঘঞ্ প্রত্যয়যোগে গঠিত। বহ্ধাতুর অর্থ বহন করা এবং “বি” উপসর্গের অর্থ বিশেষরুপে। সুতরাং বিবাহ শব্দের অর্থ বিষেশ রুপে বহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মানসম্ভ্রমরক্ষার সার্বিক ভার বহন করতে হয়।

                 বিবাহ এর বাংলা অর্থ,
[বিবাহো] (বিশেষ্য) দারপরিগ্রহ; পরিণয়; পাণিগ্রহণ।
বিবাহিত (বিশেষণ) বিবাহ করেছেন এমন; পরিণীত।
বিবাহিতা( স্ত্রীলিঙ্গ) তিনি একজনের স্ত্রী।
(তৎসম বা সংস্কৃত) বি+√বহ্‌+অ(ঘঞ্‌)

        সনাতন ধর্মের বৈদিক বিবাহ গুরুত্বপূর্ণ,

১) বৈদিক হিন্দুধর্মের বিবাহ "বিয়ে" মানব জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৷ বৈদিক হিন্দুধর্মের চার আশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রম হলো গার্হস্থ্য আশ্রম আর এই গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশের এক অপরিহার্য সংস্কার এই বিয়ে যে এর মাধ্যমে মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার গঠন করে থাকেন, সমাজ গঠন করে থাকেন, সন্তানাদির মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে থাকেন। সমাজ, পরিবার, মানব সভ্যতা এভাবেই বিয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে যায়।

২) সনাতন ধর্মের বিবাহ বা বিয়ে হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু'জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সাধারণ ভাবে বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু'জন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে।

মনুসংহিতায় আট রকমের বিয়ের কথা পাওয়া যায়,
আদি পিতা মনু'ই এই আট প্রকার বিয়ের সংজ্ঞা ঠিক করে দিয়েছিলেন তাই হিন্দু ধর্মগ্রন্থের মনুর বাৎস্যায়নে আট প্রকার বিবাহের কথা উল্লেখ করেছেন মনুসিংহতায় অনুসারে ৮ প্রকারভেদ এর (আট) রকমের বিবাহেরর পদ্ধতির বর্ণনা আছে যেমনঃ—

১। ব্রাহ্ম বিবাহ 
২। প্রজাপত্য বিবাহ 
৩। আর্য্য বিবাহ 
৪। দৈব বিবাহ 
৫। অসুর বিবাহ বা আসুরিক বিবাহ 
৬। গন্ধর্ব বিবাহ 
৭। পিশাচ বা পৈশাচিক বিবাহ 
৮। রাক্ষস বিবাহ

জাতি এবং শ্রেণী বিভাগে এই বিবাহ গুলো হয়ে থাকে তবে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য বিবাহ রীতি গুলোই প্রচলিত।
বর্তমান মানব সমাজে ব্রাহ্ম বিবাহই স্বীকৃত এবং পালনীয়।

১) ব্রাহ্ম বিবাহঃ— কন্যাকে বিশেষ বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে স্বর্ণ অলংকার ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচর সম্পন্ন করিয়া, শাস্ত্রজ্ঞান ও সদাচার সম্পন্ন পাত্রকে (কন্যার পিতা) স্বয়ং আমন্ত্রন করে বেদবেত্তাকে আহব্বান বা অর্চনা পূর্ব্বক মঙ্গলাচরণের মাধ্যমে কন্যা দান করা হয় তাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে। (মনুসংহিতা, ৩/২৭)

২) দৈব বিবাহঃ— যে বিবাহে যজ্ঞের অনুষ্ঠানকালে সেই যজ্ঞে যিনি পৌরহিত্য করেন তাকে যদি সালঙ্কারা কন্যা দান করা হয়, তবে সেই বিবাহকে মুনিগন দৈব নামক শাস্ত্রবিহিত বিবাহ বলে থাকেন।
অর্থাৎ— এই বিবাহে যজ্ঞবৃত ঋত্বিককে যজ্ঞ সম্পাদন কালে কন্যা দান করাকে দৈব বিবাহ বলে। এই বিবাহ প্রথাগত বেশির ভাগই দেবতারা মানব কন্যা গ্রহণকালীন সময়ে প্রাযোজ্য ছিল, বর্তমানে এই প্রথার অংশবিশেষ পর্যন্ত নেই বললে চলে। (মনুসংহিতা, ৩/২৮)

৩) আর্য্য বিবাহঃ— ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুসারে পাত্রের কাছ থেকে এক জোড়া বা দুই জোড়া পাত্রের নিকট হইতে একবার মাত্র দুইটি গোমিথুন (অর্থাৎ একটি গাভী ও একটি বৃষ) নিয়ে ঐ পাত্রকে যখন গ্রহণ করিয়া যথা বিধি যজ্ঞ করিয়া কন্যা দান করে তাকে আর্য্য বিবাহ বলে। এই বিবাহ প্রথা শুধু মাত্র ভারতের বিহারীদের মধ্যে প্রচলিত।
(মনুসংহিতা ৩/২৯)

৪) প্রজাপত্য বিবাহঃ— “তোমরা দুজনে মিলে উভয়ে একসাথে সুখে গার্হস্থ্য ধর্মের অনুষ্ঠান কর, আচরণ কর” বরের সাথে এই রকম চুক্তি করে এবং তার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতিরূপে স্বীকৃতি আদায় করে অলংকার, বস্ত্র প্রভৃতির দ্বারা সুচারু সজ্জিত কন্যাকে পাত্রের কাছে সম্প্রদান করে যে বিবাহে আর্শীবাদ করে যথাবিধি অলংকার ইত্যাদি দ্বারা অর্চনাপূর্বক বরকে যে কন্যা দান করা হয় তাকে প্রজাপত্য বিবাহ বলে। এই বিবাহ প্রথা বর্তমানে বাঙালি হিন্দু সমাজে প্রচলিত আছে। (মনুসংহিতা ৩/৩০)

৫) অসুর বিবাহ বা আসুরিক বিবাহঃ— যদি কোন লোক রুপসী তরুণীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ঐ মেয়ের পিতা মাতার সমীপে অর্থ প্রদান করে বা ঐ মেয়ের কোন আত্মীয় বা আত্মীয়কে অর্থের সাহায্যে ভুলিয়ে বা অন্য কোনও উপায়ে হাত করে, তাকে এনে বিবাহ করে; তাকে বলা হয় আসুরিক বিয়ে। আসুরিক বিয়ে আজকাল মাঝে মাঝে হয়, তবে লোকে তা বুঝতে বা জানতে পারে না। তবে কন্যার বা আত্মীয়ের অমতে এ সব করা উচিত নয়।
অর্থাৎ— যে কন্যার পিতা ও অন্য আত্মীয়স্বজনকে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী (শাস্ত্র নির্দেশ অনুসারে নয়) যথেষ্ট ধন দিয়ে এবং কন্যাটিকেও স্ত্রীধন দিয়ে যে কন্যা গ্রহণ করা হয় তাকে বলে অসুর বিবাহ (মনুসংহিতা ৩/৩১)

৬) গন্ধর্ব বিবাহঃ— পিতা মাতা প্রভৃতি গুরুজনের অজ্ঞাত সারে বরকন্যা পরস্পরের প্রতি অনুবক্ত হইয়া পরস্পরের যে পাণিগ্রহন করে, সেই বিবাহ প্রথাগতকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। অর্থাৎ— একজন যুবক-যুবতী যখন গোপনে প্রেম করে এবং কিছু সময় পর সব গুরুজনের অজান্তে পালিয়ে বিয়ে করাকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে।
অর্থাৎ— যে পাত্র-পাত্রী পরস্পরের প্রতি অনুরাগবশতঃ স্বইচ্ছায় যে সংযোগ তাকে গান্ধর্ব বিবাহ বলে৷ এই বিবাহ মৈথুনার্থক অর্থাৎ পরস্পরের মিলন বাসনা থেকে সম্ভুত এবং কামই তার প্রযোজক বা কারনস্বরূপ। (মনুসংহিতা ৩/৩২)

৭) রাক্ষস বিবাহঃ— কন্যার পিত্রাদিকে হত বা আহত করিয়া রোদন পরায়ণা কন্যাকে বল পূর্ব্বক হরণ করার নাম রাক্ষস বিবাহ। আরো একটু বিস্তারিত ভাবে বলছি:- যদি কোনও রুপসী নারীকে লাভ করা দুস্কর হয়ে পড়ে, তখন তাকে কোনও বাগান বা পথ থেকে লোকজনের সাহায্যে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে পরে ব্রাহ্মণ ডেকে হোম করে বিয়ে করার নাম রাক্ষস বিয়ে। পুরাকালে ক্ষত্রিয় রাজারা এইভাবে বাহুবলে বহু নারীকে ধরে এনে বিয়ে করত। বর্তমানে এর চলন প্রায় নাই।
অর্থাৎ— যে বিবাহে বাধাপ্রদানকারী কন্যাপক্ষীয়দেরকে নিহত করে, প্রত্যঙ্গ ছেদন করে এবং গৃহপ্রাচীর ভেদ করে, যদি কেউ চিৎকার পরায়না ও ক্রন্দনরতা কন্যাকে গৃহ থেকে জোরপূর্বক হরণ করে, তাকে বলে ‘রাক্ষস বিবাহ’।” (মনুসংহিতা ৩/৩৩)।

৮) পিশাচ বা পৈশাচিক বিবাহঃ— কন্যা সুপ্তা বা প্রমত্তা অবস্থায় থাকিলে, গোপনে ঐ কন্যার পাণি গ্রহণের নাম পৈশাচিক বিবাহ বলে। বর্তমান সামাজিক নিয়মের বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে হচ্ছে:- যদি কোন তরুণ-তরুণীর মধ্যে গান্ধর্ব বিয়ে করার উপায় না থাকে, তাহলে আর এক উপায় চলতে পারে। এ প্রথা বাৎস্যায়নের যুগে ছিল। দু’জনে আগে প্রেম করবে, তারপর সুযোগ বুঝে গোপনে নারীকে কোন মাদকদ্রব্য খাইয়ে অধজ্ঞানহীন ও উত্তেজিত করে যৌন মিলন করা, তারপর পুরোহিত ডেকে সেই নারীকে বিয়ে করা। নারী রাজী না হলে- কারণ সে জানবে তার অন্য কোনও গতি নাই।
অর্থাৎ— যে বিবাহে নিদ্রায় অভিভূতা, মদ্যপানে বিহ্বলা, বা রোগের কারনে অপ্রকৃতিস্থা নারীকে নির্জনে নিয়ে গিয়ে (বা প্রকাশ্যে) সম্ভোগ করা হয়, তবে তাকে পৈশাচ বিবাহ বলে ৷ আট রকমের বিবাহের মধ্যে এই অষ্টম বিবাহটি পাপজনক ও সকল বিবাহ থেকে নিকৃষ্ট ৷ (মনুসংহিতা ৩/৩৪)।

যে আট রকম বিয়ের কথা বলা হলো তার মধ্যে প্রথম চার রকম-ব্রাহ্ম, প্রজাপত্য, আর্য্য ও দৈব বিয়ে থাকে বিভিন্ন মন্ত্র ক্রমে। বর্তমানে প্রজাপত্য বিয়ের চলনই বেশি। বাঙালি হিন্দু বিবাহ বলতে বোঝায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালি হিন্দুদের বিবাহ-সংক্রান্ত নিজস্ব প্রথা ও রীতিনীতি। উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সমাজের বিবাহে প্রধানত দুইটি আচারগত বিভাগ লক্ষিত হয়। যথা, বৈদিক ও লৌকিক। লৌকিক আচারগুলি "স্ত্রী আচার" নামে পরিচিত। বৈদিক আচারগুলির মধ্যে অবশ্য পালনীয় প্রথাগুলি হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম, সপ্তপদী গমন, পাণিগ্রহণ, ধৃতিহোম ও চতুর্থী হোম। বৈদিক আচারগুলির সঙ্গে লৌকিক আচারগুলির কোনো সম্পর্ক নেই কারণ লৌকিক আচারগুলি অঞ্চল, বর্ণ বা উপবর্ণভেদে এক এক প্রকার হয়।

আমরা মনুসংহিতা হতে এখন থেকে জানলাম বিবাহ বিধি সম্পর্কে, এবার দেখবো আমাদেরকে কোন বিবাহ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন—

ব্রাহ্ম প্রভৃতি বিবাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চার প্রকার বিবাহে (অর্থাৎ ব্রাহ্ম, দৈব, আর্ষ ও প্রজাপত্য বিবাহে) যে সব সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তারা বেদজ্ঞান লাভ করায় ব্রহ্মতেজঃসম্পন্ন হয় ও সজ্জন ব্যাক্তিদের প্রিয় হয়। (মনুসংহিতা, ৩/৩৯)

ঐসব পুত্রেরা রূপবান, সত্ত্বগুনশালী, ধনবান, পর্যাপ্তভোগা এবং ধর্মানুষ্ঠানপরায়ন হয় ও শতবৎসর জীবিত থাকে। (মনুসংহিতা, ৩/৪০)

অবশিষ্ট (অর্থাৎ অসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ) বিবাহগুলোতে যেসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে তারা নৃশংস, মিথ্যাবাদী এবং বেদবিহীত ধর্মে বিদ্বেষপরায়ন হয় এগুলো নিন্দিত বিবাহ। (মনুসংহিতা, ৩/৪১)

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি যদিও মনুসংহিতাতে আট প্রকার বিবাহের কথা বলা আছে তবুও আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ বিবাহকে নিন্দনীয় বিবাহ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং সুস্পষ্টভাবে এই চারটি বিবাহকে পরিত্যাগ করার কথা বলছে ৷ এবং পৈশাচ বিবাহকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে।

সুস্থ সুন্দর সম্পর্কের ফলেই সুস্থ সুন্দর ধার্মিক সন্তান জন্ম হয় ৷ মা বাবার চিন্তা, কর্ম সন্তানকে প্রভাবিত করবেই৷ তাই তো মনুসংহিতা বলেঃ 

অনিন্দ্য ভার্যাগ্রহণরূপ পরিনয়ের ফলে মানুষের অনিন্দ্যনীয় সন্তান জন্মগ্রহণ করে ৷ আবার গর্হিত বিবাহের ফলে গর্হিত সন্তানই জন্মগ্রহণ করে ৷ একারনে অসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ এ চারটি নিন্দিত বিবাহ পরিত্যাগ করবে। (মনুসংহিতা, ৩/৪২)
বর্তমানে কেউ না মানলেও সমাজে গান্ধর্ব বিবাহের প্রচলন আছে। যা নারী-পুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে থাকে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। এর উদাহরণ, মহাভারতে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ গাদ্ধর্ব বিবাহ ছিল।

    পবিত্র বেদে খুব পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে,

উদীর্স্বাতো বিশ্বাবাসো নমসেলা মহে ত্বা ।
অন্যামিচ্ছ প্রফর্ব্যং সং জায়াং পত্যা সৃজ ।।
(ঋগ্বেদ, ১০/৮৫/২২)

অর্থাৎ— তুমি যাও ও অবিবাহিত নারীকে তোমার অর্ধাঙ্গিণী কর এবং তাকে সমান অধিকার প্রদান কর।

আমাদের সনাতন ধর্মে মধ্যে বিবাহে কত গুলো বিধিবিধান শাস্ত্রীয়, কিছু অনুষ্ঠান আচার রয়েছে। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, শিব, দুর্গা, গুরু ইত্যাদি দেবতাকে আহ্বান করে এবং পুরোহিত আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষী করে মঙ্গল মন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে বিবাহনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের মন্ত্রের শেষ হয় যজ্ঞের মাধ্যমে।

বিবাহের মূলমন্ত্র যা স্বামী স্ত্রীরা প্রতিজ্ঞা করে থাকে,

        যদ্যেত হৃদয়ং তব, তদস্তু হৃদয়ং মম।
        যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব।।

অর্থাৎ, আজ থেকে আমার হৃদয় তোমার হোক; তোমার হৃদয় আমার হোক। আমি আমাকে তোমায় সমর্পণ করলাম, তোমার হৃদয় আমাকে সমর্পণ কর।
তোমার এই হৃদয় আমার হোক আমার এই হৃদয় তোমার হোক। স্ত্রী ও স্বামীর একসঙ্গে আজীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। বিবাহের মাধ্যমে একজন নারীপুরুষ চিরজীবন একসাথে সুখে দুঃখে থাকবার প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহ আমাদের সনাতন ধর্মের একটি অন্যতম অংশ। প্রত্যেকেরই জীবনকে পরিপূর্ণ করতে বিবাহ করা আবশ্যক।

আমরা অনেকেই জানি না বিয়ে করার উদ্দেশ্য কি?

আমরা সনাতন সমাজের মানুষরা মনে করি বিয়ে হলো একটা ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ভোগ করার একটা ব্যাবস্থা মাত্র, আসলে ব্যাপারটা তা নয়। স্ত্রী মানে হলো সহধর্মীনি যিনি আমাকে ভগবানের সেবা করার জন্য সাহায্য করবে তাকে বলা হয় স্ত্রী। অর্থাৎ বিয়ে করার উদ্দেশ্য হলো আমি একা ভগবানের সেবা করতে পারছি না, তাই আমি একজন সহধর্মীনি গ্রহন করলাম যাতে করে সে আমাকে ভগবানের সেবা করার জন্য সাহায্য করতে পারে এবং আমরা যেন দুজনে মিলে আরো ভাল করে ভগবানের সেবা করতে পারি। বিয়ে করার মূল উদ্দেশ্যটা হলো এটাই, কিন্তু এখন বেশির ভাগ মানুষই বিয়ে করে নিজ ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ভোগ করার জন্য যার কারণে আজ প্রত্যেকটা সংসারেই শুধু দুঃখ আর কষ্ট করতে হয়।

জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব।

            শ্রী বাবলু মালাকার 
(সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ)।

Post a Comment

0 Comments