Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

শ্রীকৃষ্ণের পত্নী ও পুত্রের সংখ্যা

হিন্দুধর্মের পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশপরিচয়—

চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতি নহুষের পুত্র। যযাতির যদু, তুৰ্ব্বসু, দ্রুহ্য, অণু, ও পুরু এই পাঁচ পুত্র। তন্মধ্যে যদু সর্বজ্যেষ্ঠ। শ্রীকৃষ্ণ এই যদুবংশে মহাত্মা বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেবের পুত্র বলে তিনি বাসুদেব নামে খ্যাত। শ্রীকৃষ্ণকে (সংস্কৃত: कृष्ण) বা শ্রীকৃষ্ণ (সংস্কৃত: श्रीकृष्ण) বলা হয়, সনাতন হিন্দুধর্মে পরম পুরুষোত্তম ভগবান। সুরক্ষা, করুণা, দয়া এবং প্রেমের ঈশ্বর, যোগেশ্বর যোগ বা যোগীদের প্রভু পরব্রহ্ম, স্বয়ং ভগবান। পুরাণ অনুযায়ী তিনি বিষ্ণুর অষ্টম অবতার তাঁকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর (পরমসত্ত্বা) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

"নারদ বললেন হে বাসুদেব আপনি সৌর, শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব ও গাণপত্য সবার উপাসনার উপাস্য"

                   (মহা.শান্তিপর্ব, ৩২৪/৪)।

হিন্দুদের মধ্যে শ্রী কৃষ্ণের স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে হাসাহাসি করা এবং কৌতুক করা খুবই সাধারণ। আপনি কি এর পেছনের আসল কাহিনী জানেন?

এটা খুবই দুঃখজনক যে আমরা কখনোই প্রামাণিক ভাগবত পুরাণের গভীরে খনন করে শ্রী কৃষ্ণের জীবনের আসল কাহিনী জানার চেষ্টা করেছি তাই আমাদের মনে খারাপ চিন্তা আসতে পারে। বিদ্বেষপূর্ণ বর্ণনা প্রচার করা হয় যা সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।


  • রাধা (পরমাপ্রকৃতি) যাকে আমরা মাতৃশক্তি হিসেবে জানি রাধা কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী নন।
শ্রীকৃষ্ণের জীবন সঙ্গী—
  • রুক্মিণী (প্রথম ও প্রধান) রূক্মিনী (মা লক্ষ্মীর অবতার, বিদর্ভ রাজের কন্যা)
  • জাম্ববতী (দ্বিতীয়) (রামায়ণে যে জাম্ববান ছিলেন, তাঁর কন্যা)
  • সত্যভামা (তৃতীয়) (দ্বারকা নিবাসী এক সমৃদ্ধ ব্যক্তির কন্যা)
  • কালিন্দী (চতুর্থ)
  • নাগ্নজিতী (পঞ্চম)
  • মিত্রবৃন্দা (ষষ্ঠ)
  • লক্ষ্মণা (সপ্তম)
  • ভদ্ৰ (অষ্টম), এবং ১৬,০০০ – ১৬,১০০ ঐষ্টিক সহধর্মিণী।

শ্রী কৃষ্ণের চার জন নীতি স্ত্রী ছিল, যা অষ্ট-ভার্য নামে পরিচিত—
তারা হলেন রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, নাগনাজিতি, কালিন্দী, মিত্রবিন্দ, ভদ্রা এবং লক্ষ্মণ।

আর হ্যাঁ, শ্রীমদ্ভাগবত অনুসারে শ্রীকৃষ্ণের ১৬,১০৮ জন স্ত্রী ছিল। আপনি নেতিবাচক মন্তব্য পেতে পারেন যেখানে শ্রীকৃষ্ণকে তার ১৬, ১০৮ স্ত্রীর মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে প্লেবয় হিসাবে দেখানো হয়েছে। সুতরাং, আসুন এখানে আসল গল্পটি অন্বেষণ করি।

শ্রীমদ্ভাগবত অনুসারে জানা যায় নরকাসুর নামে এক রাক্ষস ছিল। তিনি এই এলাকার ১৬,১০০ সুন্দরী অবিবাহিত মেয়েকে ধরে এনে বন্দী করে রেখেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যখন নরকাসুরকে বধ করেছিলেন, তখন তিনি নরকাসুরের এই থেকে ১৬,১০০ মেয়েকে মুক্ত করেছিলেন। তাদের মুক্ত করার পর, সমস্ত মেয়েরা শ্রীকৃষ্ণকে তাদের বিয়ে করার জন্য অনুরোধ করেছিল কারণ সমাজ তাদের কখনই গ্রহণ করবে না। তাই তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তাদের স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য গ্রহণ করার অনুরোধ করেছিল কারণ অন্য কেউ তাদের বিয়ে করবে না এবং যদি তিনি তাদের গ্রহণ না করেন, তাহলে তারা আত্মহত্যা করবে। সনাতন ধর্ম রক্ষার জন্য ধর্মে আটকে থাকার কারণে, শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত নারীকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন যাতে তারা একটি সম্মানজনক জীবনযাপন করে এবং কেউ তাদের উপহাস করার সাহস না করে। তাদের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে এবং তাদের রানীর মর্যাদা দিতে, শ্রীকৃষ্ণ তাদের বিয়ে করেছিলেন। এভাবেই তার ১৬,১০৮ জন স্ত্রী হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐ সকল ঋষিকন্যাকে তার নিজের পত্নী হিসেবে মান্যতা দেন, এবং সামাজিক কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেন। পত্নী রূপে স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তি দিয়েছেন এছাড়া আরকিছু নয়, এদের সাথে শ্রীকৃষ্ণের বিবাহ পরবর্তী কোনো সম্পর্ক ছিল না।

তৎকালীন প্রচলিত কথা অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণ বহু বিবাহ করেছিলেন তাঁর নাকি ১৬১০৮ জন স্ত্রী ছিলেন। তার মধ্যে প্রধান স্ত্রী হলেন রুক্মিণী মহাভারত ও অন্যান্য পুরাণে তাঁদের কথা উল্লেখ আছে।

বিশেষ করে হরিবংশ পুরাণ থেকে জানা যায় নরকাসুরের অন্দরমহল থেকে ১৬ হাজার নারীকে উদ্ধার করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ঐ নারী তাঁরা সকলেই ছিলেন ঋষিকন্যা। তাঁরা সকলে ভূদেবীর আশীর্বাদে শ্রীকৃষ্ণের পত্নী হয়েছিলেন। এদের কারোর তেমন নাম জানা যায় না, এই ১৬ হাজার পত্নী ছাড়া বিভিন্ন পুরাণ অনুযায়ী কৃষ্ণের স্ত্রীর সংখ্যা আট, নয়, সাত ইত্যাদি কত রকমের সংখ্যা যে বলা হয়।

‘মহাভারত’ অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণের পত্নী সংখ্যা আট। এঁরা হলেন রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, মিত্রবিন্দা, নগ্নজিতী, মাদ্রী, লক্ষণা ও রোহিনী।

‘হরিবংশ’ পুরাণ অনুযায়ী এই সংখ্যা সাত। তাঁরা হলেন রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, মিত্রবিন্দা, নগ্নজিতী, মাদ্রী, লক্ষণা।

‘বিষ্ণুপুরাণ’ অনুসারে কৃষ্ণ নয় জনের স্বামী। রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, কালিন্দী, মিত্রবিন্দা, নগ্নজিতী, মাদ্রী, লক্ষণা ও রোহিনী।

‘ভাগবৎ পুরাণ’ বলছে, অষ্টপত্নী রয়েছে কৃষ্ণের। তাঁরা হলেন, রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, কালিন্দী, মিত্রবিন্দা, নগ্নজিতী, ভদ্রা, লক্ষণা।

পুরাণে কৃষ্ণের স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। এমনও অনেক বিশেষজ্ঞকে বলতে শোনা যায় যে, আসলে শ্রীকৃষ্ণের এক জনই পত্নী। তিনি হলেন দেবী রুক্মিণী। বাকি পত্নীরা আসলে শরীরের ভিতরের অষ্টচক্র বই অন্য কিছু নয়।

দেবী রুক্মিণী যৌবনসম্পন্না হওয়ার পরেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে বিবাহ হয়। তাই মৌলবাদীদের বলবো সনাতন ধর্ম নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করুন।

নবযৌবনসম্পন্না রত্নাভরণভূষিতা। 
তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভা তেজস জ্বলিতা সতী।। 
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ:শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ড, ১০৫/৪)

"তিনি নবযৌবনসম্পন্না সতী নারী, তিনি বিবিধ রত্নভূষণে বিভূষিতা। তপ্ত স্বর্ণের মত জাজ্জ্বল্যমান তেজপুঞ্জময় তাঁর দেহ।"

প্রথম কথা, রুক্মিনী শ্রীকৃষ্ণের প্রথম স্ত্রী। আমরা জানি, রুক্মিনী পিতা চেদিরাজ শিশুপালের সাথে তার বিবাহ ঠিক করেন। কিন্তু তিনি শ্রীকৃষ্ণকে ভালোবাসতেন। যার উল্লেখ রয়েছে, ভাগবতের দশম স্কন্দের ৫২ অধ্যায়ের ৩৭-৪৩ নং শ্লোকে। মাতা দেবী রুক্মিনী শ্রীকৃষ্ণকে নিজের পতি রূপে বরণ করে নিয়েছিলেন, তার বর্ণনাও রয়েছে।

            "শ্রীকৃষ্ণ-রুক্মিণীর প্রেম পবিত্র"

রাধা-কৃষ্ণর প্রেমের গল্প তো সবাই জানেন। কিন্তু কৃষ্ণ ও রাধার বিয়ে হয়নি। রুক্মিণীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বিয়ে হয়েছিল। রুক্মিণী কখনও কৃষ্ণকে দেখেনি, কিন্তু দেখার আগে থেকে বাসুদেবভের প্রতি ছিল তাঁর ভালবাসা। চেদিরাজ শিশুপালের সঙ্গে রুক্মিণীর বিয়ে ঠিক হলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অপহরণ করে বিয়ে করেন।

রুক্মিণী ছিলেন বিদর্ভের রাজা ভীষ্মকের কন্যা। তিনি দেখতে খুব সুন্দরী, বুদ্ধিমতী এবং সরল প্রকৃতির ছিলেন। রাজা ভীষ্মকের দরবারে যে কেউ আসতেন তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাহস ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতেন। রুক্মিণী ছোটবেলা থেকেই বহু মানুষের মুখে কৃষ্ণের প্রশংসা শুনে তাঁকে ভালোবেসে ফেলেন। রাজা ভীষ্মক তাঁর পুত্র রুক্মিণের ইচ্ছায় চেদিরাজ শিশুপালের সঙ্গে রুক্মিণীর বিয়ে ঠিক করেছিলেন। রুক্মিণ শিশুপালের বিশেষ বন্ধু ছিলেন, তাই তিনি চেয়েছিলেন বোন চেদিরাজের গলাতেই বরমাল্য পরাক। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে কোনোদিন না দেখলেও রুক্মিণী শ্রীকৃষ্ণকে অন্তর থেকে ভালোবাসতেন। তাই শিশুপালকে বিয়ে করতে তিনি চাননি। অবশেষে রুক্মিণী সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি শুধুমাত্র শ্রীকৃষ্ণকে বিয়ে করবেন, অন্যথায় নিজের জীবন বিসর্জন দেবেন। তিনি তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের কাছে বার্তা পাঠালেন। রুক্মিণী বার্তায় জানান যে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে ভালোবাসেন, অথচ তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে শিশুপালের সঙ্গে। শ্রীকৃষ্ণকে না পেলে রুক্মিণী জীবন বিসর্জন দেবেন। শ্রীকৃষ্ণ বার্তা পেয়ে বিস্মিত হন। দ্বারকাধীশও রুক্মিণীর সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার কথা শুনেছিলেন। বার্তা পেয়ে শ্রীকৃষ্ণ বিদর্ভ পৌঁছান। শিশুপাল যখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত, তখনই শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকে নিয়ে আসার সময় রুক্মিণীর ভাই রুক্মিণ বিষয়টি জানতে পেরে সৈন্য নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পিছু নেন। এরপর শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্মিণের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়, যাতে দ্বারকাধীশ বিজয়ী হন। এর পর শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকে নিয়ে দ্বারকায় আসেন এবং দু’জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
যাঁর নাম রুক্মিণী, আপনাদের (মহারাজ ভীষ্মক ও মহারাজমহিষী) কন্যা কোনো প্রাকৃত মানবী নয়, ব্রহ্মবাক্যে স্বয়ং শ্রী (শ্রীঃ এষাং - শ্রীমহালক্ষ্মী স্বয়ং) কোনো বিশেষ প্রয়োজনে জন্মগ্রহন করেছেন।
(শ্লোক ৩১, অধ্যায় ৫১, বিষ্ণুপর্ব, শ্রীমহাভারত)

                          শ্রীহরিবংশ
রুক্মিণী দিব্যমূর্তিযুক্তা এবং এই কারণেই আমার সাথে তাঁর সম্বন্ধ।
(শ্লোক ২৭ এর অর্ধাংশ, অধ্যায় ৫১, বিষ্ণুপর্ব, মহাভারত)

আপনাদের (মহারাজ ভীষ্মক ও মহারাজমহিষী) কন্যা বরারোহা অর্থাৎ পরমাসুন্দরী ও পরমাগুণবতী বিনা পদ্মের শ্রী।
(শ্লোক ৩৫ এর অর্ধাংশ, অধ্যায় ৫১, বিষ্ণুপর্ব, মহাভারত)

               "যাঁকে মন সঁপেছেন শ্রীকৃষ্ণ"
শ্রীকৃষ্ণ সেই সময় দেবালয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ রূপসম্পন্না সাক্ষাৎ লক্ষ্মীস্বরূপা (রুক্মিণী) কে দেখলেন—

বহ্নিশিখার ন্যায় দীপ্তা, ভূমি তে আগতা মায়া, পৃথিবীতলে উত্থিতা পৃথিবীর ন্যায় গম্ভীরা। ভুবনে সোমকিরণের ন্যায় সৌম্য স্ত্রীমূর্তিধারিণী, বিনা পদ্মে সাক্ষাৎ শ্রী, ভবিষ্যৎ এর শ্রীসহায়িনী। সুরগণের দর্শনেরও দুর্লভা, তাঁকে (রুক্মিণী কে) কৃষ্ণ মানসে দর্শন করলেন। (সেই কন্যা) শ্যামা - ষোড়শবর্ষীয়া ও অতীব গৌরবর্ণা; বিশাল, চারু, আয়ত দৃষ্টি অর্থাৎ নয়নসম্পন্না তথা (তাঁর) ওষ্ঠযুগল ও দীর্ঘ নয়নযুগলের প্রান্তভাগ তাম্রের ন্যায় রক্তিম। (তাঁর) ঊরু, নিতম্ব ও স্তন স্থূল। (সেই কন্যা) বৃহতী অর্থাৎ বিকশিতদীর্ঘদেহ ও চারু সর্ব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পন্না তথা তন্বী অর্থাৎ অবাঞ্ছিত মেদহীনা - সুমধ্যমা। (তাঁর) মুখমণ্ডল শশধরের ন্যায় গৌরবর্ণ। (তাঁর) নখ তাম্রবর্ণ ও প্রলম্বিত, ভ্রু সুন্দর ও শীর্ষে কেশরাশি নীল ও কুঞ্চিত। (রুক্মিণী) অতিশয় রপবতী, কান্তিমতী, স্থূল শ্রোণি ও পয়োধর সম্পন্না ও তীক্ষ্ণ, শুভ্র, সমভাবে সজ্জিত দন্তশ্রেণীর প্রকাশে অলঙ্কৃতা। রূপ, যশ, শ্রীপূর্ণতায় সর্বলোকে অনন্যা রমণী, বরাঙ্গনা দেবী রুক্মিণী পাণ্ডুরবর্ণ ক্ষৌমবসনে বিমণ্ডিতা। হবির্দানে অগ্নিশিখার ন্যায় সেই প্রিয়দর্শনা কে দর্শন করে কৃষ্ণের কাম বিবর্ধিত হল, শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অর্থাৎ দেবী রুক্মিণীকে মন সমর্পন করে দিলেন।

মহাভারতে খিলভাগে হরিবংশে বিষ্ণুপর্বে অধ্যায় ৫৯ এ শ্লোক ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ (কিন্তু এই কাম অপ্রাকৃত কারণ দেবী রুক্মিণীর রূপগুণাদি সমস্ত কিছুই অপ্রাকৃত)।

বহুগুণশালিনী রুক্মিণীর প্রধান গুণাবলীর কয়েকটি 
হরিবংশে বিষ্ণুপর্বে (শুধুমাত্র পারিজাত হরণ অংশ থেকে সংকলিত)—

১) ত্রৈলোক্যরূপসর্বস্বা (ত্রিলোকের রূপসর্বস্বের আধারস্বরূপা)।
২) নারায়ণমনোহরা (নারায়ণ শ্রীকৃষ্ণের মন হরণ করেন যে - বিবাহ পর্বে শ্রীকৃষ্ণের রুক্মিণী কে মন সম্পূর্ণ রূপে নিবেদন করা উল্লিখিত)।
৩) কামারণি (কাম অরণি/শ্রীকৃষ্ণের দিব্য অপ্রাকৃত কামের উৎস - স্বয়ম্বর পর্বে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন রুক্মিণী স্বয়ং শ্রী, প্রাকৃত মানুষী নয়)।
৪) অনিন্দিতা (যাঁর কোনো কিছুই নিন্দাযোগ্য নয়)।
৫) পতিব্রতা (পতিপ্রেমে নিষ্ঠাযুক্তা)।
৬) অত্যর্হা (অতিশয় পূজনীয়া)।
৭) ধৃতব্রতা (ব্রতধারিণী)।
৮) কল্যাণগুণসম্পন্না (কল্যাণকারী গুণে মণ্ডিতা)।
৯) ভর্তৃবৎসলা (ভর্তার প্রতিও যাঁর সন্তানতূল্য স্নেহ)।
১০) কামিনী (কামতত্ত্বের গুণাবলীপূর্ণা)।
১১) কালজ্ঞা (সময়োচিত জ্ঞানসম্পন্না)
১২) গুণসম্মতা (যাঁর গুণ সকলের প্রীতির কারণ)।
১৩) বদতাং বরা (বাগ্মীতায় শ্রেষ্ঠা)।
১৪) দেবী (দিব্য রূপ ও গুণ সম্পন্না - শ্রীকৃষ্ণ কথিত)
১৫) বরবর্ণিনী (শ্রেষ্ঠ অঙ্গবর্ণযুক্তা)।
১৬) ধর্মিষ্ঠা (ধর্ম পরায়ণা)।
১৭) শুভা (মঙ্গলময়ী)।
১৮) কমলেক্ষণা (কমলনয়না)।
১৯) সুপ্রভা (জ্যোতির্ময়ী/ দীপ্তিমতী)।
২০) সর্বেশ্বরপ্রিয়া (সর্বেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া)।
২১) গুণোপেতা (গুণমণ্ডিতা)।
২২) ভামিনী (বাক্যালাপে পারদর্শিনী)।
২৩) সুভগা (সুন্দরী ও সৌভাগ্যমণ্ডিতা)।
২৪) সতী (সত্যপরায়ণা ও সৎচরিত্রা)।
২৫) সর্বশোভনা (সর্বদিক থেকেই সুশোভিতা)।
২৬) আত্মা দ্বিতীয় কৃষ্ণস্য (কৃষ্ণের দ্বিতীয় আত্মা)।
২৭) হরিপ্রিয়া (হরি শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া)।

                   ব্যক্তত্বং প্রথমো গুণঃ
(ব্যক্তরূপে তাঁর অর্থাৎ অব্যয়া প্রকৃতির প্রথম গুণ)।

কুটুম্বস্য ঈশ্বরী (কুটুম্ব অর্থাৎ আত্মীয়, আশ্রিত, পরিবারাদি সকলের ঈশ্বরী - এক অর্থে শ্রীকৃষ্ণেরও, কারণ তিনিও রুক্মিণীর কুটুম্ব, ঈশ্বরী)—

১) কুলশীলগুণোপেতা (কুলশীলগুণসম্পন্না)।
২) ধর্মশীলা (ধর্মযুক্ত শীলসম্পন্না)।
৩) ধর্মজ্ঞা (ধর্মের জ্ঞানসম্পন্না)।
৪) অনঘা (নিষ্পাপা)।
৫) সুমধ্যমা (যাঁর দেহের মধ্যদেশ অতি সুন্দর)।
৬) পতিদেবতা (পতিই যাঁর দেবতা)।
৭) কল্যাণী (কল্যাণময়ী)।
৮) হরিবল্লভা (হরি শ্রীকৃষ্ণের বল্লভা)।
৯) অমরবর্ণিনী (অক্ষয় কান্তিযুক্তা)।

রূপে গুণে অদ্বিতীয়া স্বয়ংশ্রীমহালক্ষ্মী বিদর্ভরাজনন্দিনী রুক্মিণীর প্রতি মথুরাচন্দ্রমা দেবকীনন্দনের প্রেম জন্মজন্মান্তরের। বিষ্ণুপুরাণে কৃষ্ণের রুক্মিণী কে প্রার্থনা করা আর ভাগবত পুরাণে রুক্মিণী কে মন সমর্পণ করে, তাঁর চিন্তায় কৃষ্ণের রাতের পর রাত জাগার যে উল্লেখ পাওয়া যায় তার সাথে আরও কিছু অসামান্য কথা ও মুহুর্ত পাওয়া যায় হরিবংশে এই প্রেমবিবাহ প্রসঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে।

রো একটা বিষয় — আবার আরো একটা আরোপ দেখা যায় বিস্ময়কর ব্যাপার শ্রীকৃষ্ণের পুত্র সংখ্যা নিয়েও ব্যাপক গোলযোগ রয়েছে। সে তো স্বাভাবিক স্ত্রীর সংখ্যা স্থির না থাকলে সন্তানের সংখ্যা নিয়েও সমস্যা তৈরি হবে। আর হয়েছেও তাই বেশ কিছু পুরাণে বলা হয়েছে, কৃষ্ণের প্রত্যেক স্ত্রীর পুত্র সংখ্যা ১০, সেই হিসাবে কখনও তা হয় ৭০, কখনও ৮০ অথবা কখনও ৯০। এ ছাড়া ১৬১০৮ জন স্ত্রী ধরা হলে তো আর কথাই নেই প্রত্যেকের দশ জন করে সন্তান যদি হয়। এদের কারোরই নাম সেই ভাবে কোথাওই পাওয়া যায় না। আবার কিছু কিছু স্থানে এদের নিয়ে কিছু গল্প কথা অবশ্যই আছে তবে তা প্রমাণসাপেক্ষ। তবে এই সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক গোলযোগ থাকলেও কৃষ্ণের একটি পুত্রের নাম ব্যাপক ভাবে জানা যায়। তিনি হলেন রুক্মিণী পুত্র প্রদ্যুমন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কৃষ্ণের একজনই স্ত্রী, তিনি হলেন রুক্মিণী। এবং রুক্মিণীর দশটি নয় একটিই সন্তান তিনি হলেন প্রদ্যুমন। এই প্রদ্যুমনের পুত্র অনিরুদ্ধ।

জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব।

শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ)।


Post a Comment

0 Comments