আজকাল পূজাতে ও আমাদের সমাজের বিশেষ করে তরুন ও যুবক, অনেক ক্ষেত্রে যুবতীরাও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছে।
কিন্তু এই বিষয়ে আপনারা কি জানেন?
বেদ মতে সাতটি পাপ কার্যের মধ্যে একটি হচ্ছে সুরা (মদ্য) পান। অর্থাৎ বেদ কখনো মদ্য পানের বিধান দেয়নি। প্রচলিত মনুসংহিতাই সুরা (মদ্য) পান কে আরো ঘৃণার সাথে দেখা হয়েছে। এমন কি বেদে এটাও বলা হয়েছে, তোমার বন্ধু নেশাকারী হলে তার সঙ্গ ত্যাগ করো।
মনুসংহিতায় বলা হয়েছে—
সুরা বৈ মলমন্নানাং পাদ্মা চ মলমুচ্যতে।
তস্মাদ্বাহ্মণরাজন্যৌ বৈশ্যশ্চ ন সুরাং পিবেৎ ॥
(মনুসংহিতা, ১১/৯৪)
অনুবাদ— সুরা হলো অন্নের মলস্বরুপ, পাপরুপ তাই ব্রাম্মণ, ক্ষত্রিয়, শূদ্র ও বৈশ্য নির্বশেষে সকলের জন্য আবশ্যই বর্জনীয়।
মহর্ষি যস্ক তার নিরুক্ত সংহিতায় বেদের সেই সাতটি মহাপাপ এর কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হল, “চুরি, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার, হত্যা, ভ্রূননিধন, অগ্নিসংযোগ, নেশা/মদ্যপান, অসততা।”
পবিত্র বেদে আরো বলা হয়েছে—
নকী রেবন্তং সখ্যায় বিন্দসে পীয়ন্তি তে সুরাশ্ব।
যদা কৃণোষি নদনুং সমূহস্যাদিত পিতেব হূয়সে।।
(ঋগ্বেদ, ৮/২১/১৪)
অনুবাদ— তোমার নেশাকারী বন্ধু যদি বিদ্বান বা ধনীও হয়, তারপরেও বজ্রপাততূল্য এবং অবশ্য পরিত্যজ্য।
শুধু নেশাজাতীয় দ্রব্য নয় বেদে জুয়াখেলাকেও নিষিদ্ধ বলা হয়েছে—
অক্ষৈর্মা দিব্যঃ কৃষিমিত কৃষস্ব বিত্তে রমস্ব বহু মন্যমানঃ।
তত্র গাবঃ কিতব তত্র জায়া তন্মে বি চষ্টে সবিতায়মর্য।।
(ঋগ্বেদ, ১০/৩৪/১৩)
অনুবাদ— "হে মনুষ্য, জুয়া বা পাশা খেলোনা, তোমার ভুমি আছে, অর্থসম্পত্তি আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো। তোমার পরিবার আছে, স্ত্রী আছে এসব নিয়ে সুখে থাকো। এটাই আলোকপ্রদর্শনকারী পরমাত্মার প্রদত্ত জ্ঞান।”
আমাদের জীবনাচরণের ও হিন্দু আইনের মূল আধার হচ্ছে বেদ। জগতে সৃষ্ট জীবের বিধি বিধান তথা জীবনাচরণ নিশ্চিত করা ঈশ্বরেরই কর্তব্য ও সৃষ্ট জীবের মধ্যে মনুষ্যের জ্ঞান প্রজ্ঞা অনান্য জীবের অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট। সেহেতু ঈশ্বর মনুষ্যের কর্তব্য কর্ম, তথা বিধি নিষেধাদিরূপ জ্ঞানের সমষ্টি বেদ এই মনুষ্যকূলের জন্য প্রকট করেছেন।
মানুষ এই জ্ঞানের ব্যবহার দ্বারা তাদের জীবনাচরণ আরো সুসঙ্ঙ্খলরূপে সাজিয়েছে, ফলে সৃষ্টি হয়েছে অনেক শাস্ত্রের। এভাবে জগতের সমস্ত শাস্ত্র তথা মহান পুরুষ মুনি ঋষি আদি বেদেরই জয়গান গেয়েছেন। এর কারণ এই যে বেদ ঈশ্বরীয় জ্ঞান হেতু এতে ভূল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে না, যা মনুষ্যের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সেই হেতু সকল শাস্ত্রের মূল শিরোমণি বেদ কে সবাই এক বাক্য স্বীকার করেছেন।
বেদে মানব জীবনের সপ্ত মর্যাদা অর্থাৎ সাতটি বিশেষ সীমার কথা বলেছেন, যার একটিও যদি কেউ প্রাপ্ত হয় তবে সে নিশ্চিতরূপে পাপী।
তাই আসুন সনাতনীরা, নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করি, সেই সাথে যারা নেশা করে তাদের সঙ্গ পরিহার করি, জুয়া বা পাশাখেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখি, আদর্শ সনাতনী সমাজ গড়ি ইহাই পরমাত্মার নির্দেশ।
পবিত্র বেদ ও মনুসংহিতায় পাপের প্রায়শ্চিত্তরূপ বিভিন্ন শাস্তি প্রদানের বিধিও রয়েছে।
জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম,
হর হর মহাদেব।
শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক,
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার