পুরাণে যা লেখা আছে—
শিলাদ মুনি ব্রহ্মচারী হওয়ার কারণে, রাজবংশের অবসান দেখে তাঁর পূর্বপুরুষরা উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেন। মুনি যোগ ও তপস্যায় ব্যস্ত থাকার কারণে গৃহকর্তা আশ্রম গ্রহণ করতে চাননি। শিলাদ মুনি ভগবান ইন্দ্রকে তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট করেছিলেন এবং তাঁর কাছে জন্ম ও মৃত্যুমুক্ত পুত্র লাভের বর চান। কিন্তু ইন্দ্র ঋষিকে বলেছিলেন যে, তিনি বর দিতে অক্ষম। তিনি তাঁকে পরামর্শ দেন যে ভগবান শিবের তপস্যা করতে, কারণ জন্ম ও মৃত্যু থেকে মুক্ত হওয়ার বর দেওয়ার অধিকার একমাত্র মহাদেবেরই রয়েছে। শিবের মহিমায় ঋষি শিলাদ একটি পুত্র লাভ করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘নন্দী’।
শিবজী নন্দীকে তার ইচ্ছার কথা জিজ্ঞেস করলেন, তখন নন্দী বললেন আমি সারাজীবন শুধু তোমার সঙ্গেই থাকতে চাই। মহাদেব তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। মহাদেব নন্দীকে একটি ষাঁড়ের মুখ দিয়েছিলেন এবং তাঁকে তাঁর বাহন, তাঁর বন্ধু, তাঁর গণের সেরা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। এর সঙ্গে তিনি নন্দীকে অমর হওয়ার বরও দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি বরও দিয়েছিলেন যে যখনই শঙ্করের যে কোনও মূর্তি স্থাপন করা হবে, তার সামনে নন্দী থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সেই মূর্তিটি অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
শিব বেশিরভাগ সময় ধ্যানে মগ্ন থাকে। তাঁর তপস্যা যাতে ভগ্ন না হয়, তার জন্য নন্দী সবসময় সচেতন অবস্থায় থাকেন। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে যদি কারো ইচ্ছা নন্দীর কানে উচ্চারিত হয়, তাহলে সে অবশ্যই ভগবান শিবের কাছে পৌঁছায়। এটাও একটি বিশ্বাস যে ভগবান শিব স্বয়ং নন্দীকে এই বর দিয়েছিলেন যে, যে ভক্ত নন্দীর কানে শুদ্ধ চিত্তে তাদের ইচ্ছা বলবেন তার সমস্ত ইচ্ছা অবশ্যই পূরণ হবে।
নন্দীকে ধ্যাননিষ্ঠ ষাঁড় বলা হয় কেন?
শেখর কাপূর: আমি যেটুকু বুঝছি , নন্দী শিব এর বাহন। সে কি অপেক্ষা করে রয়েছে যে শিব বেরিয়ে এসে তাকে কিছু একটা বলবে ?আমাকে নন্দীর সম্পর্কে আরও কিছু বলুন।
সদগুরু: নন্দী এখানে শিবের বাইরে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা করছেন না। তিনি শুধুমাত্রই অপেক্ষ্যা করছেন। নন্দী চিরন্তন অপেক্ষার প্রতীক, কারণ ভারতীয় সংস্কৃতিতে অপেক্ষাকে সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ হিসাবে দেখা হয়। যিনি কেবল বসে অপেক্ষারত হতে জানেন, তিনি স্বাভাবিকভাবেই ধ্যানমগ্ন। তিনি প্রত্যাশা করছেন না যে শিব কোনোদিন বেরিয়ে আসবেন। তিনি সর্বদাই অপেক্ষারত। এই গুনটিই গ্রহণযোগ্যতার মূল।
নন্দী শিবের নিকটতম সহকারী কারণ তিনি গ্রহণযোগ্যতার মূলমন্ত্র। কোনো মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে নন্দীর মতন হয়েই প্রবেশ করা উচিত - শুধুমাত্র বসে থাকবে। আপনি স্বর্গে যাওয়ার প্রচেষ্টা করছেন না, অথবা আপনি কিছু পাওয়ার চেষ্টা করছেন না। আপনি ভেতরে যাবেন এবং শুধুমাত্র বসবেন। সুতরাং, তিনি এখানে বসে আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন,”আপনি ভেতরে গিয়ে আপনার আবোল-তাবোল কার্যকলাপগুলো করবেন না, আপনি ভেতরে গিয়ে শুধু আমার মতো করে বসবেন।”
শেখর কাপূর: তাহলে, আমি এটাই বুঝলাম, প্রতীক্ষা আর প্রত্যাশা – এই দুটো ব্যাপার আলাদা?
সদগুরু: তিনি আশা বা প্রত্যাশা কোনোটা নিয়েই বসে নেই। তিনি কেবলই বসে আছেন। এটাই ধ্যান – ব্যাস্, বসে থাকা। তিনি আপনাদের এটাই বলছেন। ভেতরে গিয়ে কেবল বসুন। সজাগ, ঝিমন্ত নয়।
শেখর কাপূর: তাহলে, আমরা ধ্যান বলতে যেটা বুঝি, নন্দি সেই ধ্যানে বসে রয়েছে?
সদগুরু: মানুষ সবসময়ই ধ্যানকে এক প্রকার কার্য ভেবে এসেছেন। এটা ভুল। এটা একটা গুণ। এটাই বোঝার মৌলিক ভুল। প্রার্থনা মানে আপনি ভগবানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন, আপনার সংকল্প, প্রত্যাশা সবকিছু ওনাকে বলার চেষ্টা করছেন। ধ্যান মানে আপনি কান পেতে অস্তিত্বের ধ্বনি শুনতে তৈরি। যেটা কিনা সৃষ্টির চরম প্রকৃতি। আপনার আর কোনো বক্তব্য নেই, আপনি তৈরি শুধুই শুনতে। নন্দির গুণ এটাই – তিনি কেবলই বসে রয়েছেন, সজাগ। সজাগ – এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঝিমন্ত বা অসাড় নন। তিনি খুবই সক্রিয়, খুব সজাগ ও প্রানবন্ত, কিন্তু কোনও আশা-প্রত্যাশা নেই। এটাই ধ্যান। ধৈর্য ধরে বসে রয়েছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো কিছুর জন্য নয়।
আপনি যদি নিজের কার্যকলাপ না করে শুধুমাত্র প্রতিক্ষারত হতে পারেন, তাহলে অস্তিত্ব নিজের কাজ করবে আপনার ওপর। ধ্যান মানে হল ব্যাক্তিগত ভাবে কিছু না করা। ব্যাস, স্থিত হওয়া। যখন আপনি স্তির হয়ে উঠবেন, আপনি তখন অস্তিত্বের বৃহত্তর মাত্রাকে অনুভব করতে পারবেন, যা কিনা সবসময়ই ক্রিয়াশীল। আপনি সেই মাত্রার সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠবেন। আপনি এখনো সেই অস্তিত্বেরই অংশ। কিন্তু সচেতন হওয়া, যে “আমি এই অস্তিত্বেরই অংশ”, এটাই ধ্যান। নন্দি এটারই প্রতীক। তিনি সবাইকে মনে করাচ্ছেন, “আমার মতন করে বসুন”।
ধ্যানলিঙ্গের সামনে নন্দী
শেখর কাপূর: ধ্যানলিঙ্গের সামনে যে নন্দীর মূর্তিটি রয়েছে, সেটি কীসের তৈরী? আমি দেখতে পাচ্ছি এটা ধাতুর তৈরী, স্টিল কি?
সদগুরু: ইনি সম্ভবত একমাত্র নন্দী, যাকে এই বিশেষভাবে বানানো হয়েছে। ছোট ধাতুর টুকরো, যার প্রত্যেকটি আকারে ছয় থেকে নয় ইঞ্চির বড় নয়, এর বাহ্যিক আকার প্রদান করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ভেতরের উপকরণের মধ্যে রয়েছে, তিলের বীজ, হলুদ, বিভূতি-পবিত্র ভস্ম, কিছু প্রকারের তেল, কিছুটা বালি আর কিছু অন্য ধরনের মাটি। প্রায় কুড়ি টনের মত পদার্থ একে ভর্তি করতে ব্যবহার করা হয়েছে, তারপর একে ভালোভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সম্পূর্ণ মিশ্রণ একটি নির্দিষ্ঠভাবে বানানো হয়েছে। এই কারণে, এই ষাঁড়টির থেকে সর্বদা এক শক্তিবলয় বিচ্ছুরিত হতে থাকে।
Nandi Gayatri Mantra
The Gayatri Mantra for Nandi, Shiva’s Bull Carrier: Nandi is the name for the bull which serves as the mount (Sanskrit: Vahana) of the god Shiva and as the gatekeeper of Shiva and Parvati. In Hindu Religion, he is the chief guru of eighteen masters (18 Siddhar ) including Patanjali and Thirumular. Temples venerating Shiva display stone images of a seated Nandi, generally facing the main shrine. There are also a number of temples dedicated solely to Nandi. Please find Vrishabha (Nandi) Gayatri Mantra also known as Nandikeshwar Gayatri Mantra in Hindi and English lyrics below.
Nandi Gayatri Mantra | नंदी गायत्री मंत्र
ॐ तत्पुरुषाय विद्महे, नन्दिकेश्वराय धीमहि, तन्नो वृषभ: प्रचोदयात् ।।
Om Tatpurushay Vidmahe Nandikeshwaray Dheemahi Tanno Vrishabhah Prachodayat.
ॐ तत्पुरुषाय विद्महे चक्रतुण्डाय धीमहि तन्नो नन्दिः प्रचोदयात् ||
Om Tatpurushay Vidmahe Chakratunday Dheemahi Tanno Nandih Prachodayat.
ॐ शिववाहनाय विद्महे तुण्डाय धीमहि, तन्नो नन्दी: प्रचोदयात!
Om Shivabhahanaya Vidhmahe Tundaya Dheemahe. Thanno Nandi Prachodayath
Meaning: Om. Let me meditate on that great living being, Oh, Lord of devas, give me higher intellect, And let the God Nandi illuminate my mind.
Benefits of Nandi Gayatri Mantra
नंदी गायत्री मंत्र का पाठ बहुत ही शुभ फलदायक है. महादेव शिव जी के अनन्य सेवक नंदी जी की स्तुति और आराधना करने से महादेव शिव की भी कृपा प्राप्त होती है. मन में शान्ति आती है. जीवन सुख और शान्ति से बीतता है.
Nandi is the name of the gate- guardian deity of Kailasa, the abode of Lord Shiva. He is usually depicted as a bull which also serves as the mount (Sanskrit: Vahana) to the god Shiva. According to Saivite tradition, he is considered as the chief guru of eight disciples of Nandinatha Sampradaya – Sanaka, Sanatana, Sanandana, Sanatkumara, Tirumular, Vyagrapada, Patanjali and Sivayoga Muni who were send to eight directions to spread the wisdom of Shaivism.
How to Chant Nandi Gayatri Mantra
Chant rhythmically and with clear pronunciation and intensity of Feeling Nandi Gayatri Mantra. Number of Times to Chant : 9, 11, 108, or 1008 times.
Nandikeshwara Gayatri Mantra – नंदिकेश्वर गायत्री मंत्र
নন্দী গায়ত্রী মন্ত্র,
নন্দী গায়ত্রী মন্ত্রের উপকারিতা
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শিবের সমস্ত ক্ষমতা নন্দীর রয়েছে। তাই ভগবান শিবের আশীর্বাদে সন্তুষ্ট হওয়া নন্দীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্ত্রটি নিয়মিত জপ করলে একজন ব্যক্তি জ্ঞান ও বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ হন। অস্থির বা অস্থির মনের লোকদের জন্য নন্দী মন্ত্রের জপ সবচেয়ে বেশি সুপারিশ করা হয়। সুখী জীবনের কামনায় এই মন্ত্রটি জপ ও পাঠ করা হয়। এই পাঠটি যারা এটি জপ করে তাদের শারীরিক অসুস্থতা থেকেও মুক্তি দেয়। প্রাচীন বিশ্বাস অনুসারে, আপনি যদি আপনার ইচ্ছাকে নন্দীর মূর্তির সাথে ফিসফিস করেন তবে আপনার ইচ্ছা পূরণ হবে।
কেন এই মন্ত্রটি এত উপকারী
একজন কিংবদন্তি এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন। যখন সমুদ্র মন্থন বিষ নিয়ে এসেছিল, তখন ভগবান শিব এই বিষটি তার গলায় নিয়েছিলেন মহাবিশ্বকে রক্ষা করার জন্য। এক ফোঁটা বিষ পড়ল পৃথিবীতে। নন্দীজী মহাবিশ্বকে রক্ষা করার জন্য তার জিহ্বা দিয়ে সেই বিষের ফোঁটা সরিয়ে দেন। সেই সময় থেকে তারা ভগবান নন্দীকে ভগবান শিবের পরম ভক্ত হিসেবে পূজা করে আসছে।
হিন্দুধর্মে নন্দী গায়ত্রী মন্ত্রের গুরুত্ব
হিন্দু ধর্মে নন্দীর একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নন্দীকেশ্বর গায়ত্রী মন্ত্র একটি সিদ্ধ মন্ত্র। একজন মানুষের পক্ষে তার ক্ষমতার পরিধি জানা সম্ভব নয়। পুরাণ অনুসারে, নন্দী হলেন মহাদেবের বাহন। ভগবান শিবকে খুশি করতে, নন্দীর আশীর্বাদ পাওয়া অপরিহার্য। ভগবান শিব তাঁর সওয়ারী ছাড়া কোন স্থান ত্যাগ করেন না। অতএব, এই অলৌকিক মন্ত্রটি সরাসরি ভগবান ভোলেনাথের সঙ্গে সম্পর্কিত।
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার