Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

পূজা করলে কি ফল লাভ হয়?


                          পূজা (সংস্কৃত: पूजा)
পূজা প্রতীক উপাসনা দিব্যশক্তিযুক্ত দেবতা পূজার মাধ্যমে যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এতে ক্রমিক গতিতে পূজারী কর্মে, জ্ঞানে ও ভক্তিতে উৎকর্ষ লাভ করেন। এর ফলে তিনি (পূজারী) ভগবৎ পূর্ণ সত্তার জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।

বেদান্তসারঃ উপাসনা সম্পর্কে বলা হয়েছে— 

উপাসনানি—সগুণব্রহ্ম-বিষয়ক-মানস-ব্যাপার-রূপাণি
শাণ্ডিল্যবিদ্যাদীনি ৷৷ ১২ ৷৷

অনুবাদ— উপাসনা হলো (সগুণ ব্রহ্ম-বিষয়ক মানস ব্যাপারসমূহ) শাস্ত্রবিহিত পদ্ধতি ধরে সগুণ ব্রহ্মে মনোনিবেশ করা। যেমন শাণ্ডিল্যবিদ্যা।

                             অমৃত টীকা—
মানস ব্যাপার বলতে ভাবনা। ভাবনা ও ধ্যান একই কথা। উপাসনা ও জ্ঞানের পার্থক্য আছে বলে 'মানস ব্যাপার' বলা হয়েছে। নিদিধ্যাসনের সঙ্গেও পার্থক্য নিরূপণের জন্য 'সগুণ ব্রহ্ম' বলা হলো। কারণ, নিদিধ্যাসন বলতে শ্রবণ মনন করে নেতি নেতি বিচারের শেষে যা থাকে তাতে, নির্গুণ ব্রহ্মে মন স্থির রাখা। 'সর্বং খল্বিদং ব্ৰহ্ম' (ছাঃ ৩/১৪/১) থেকে আরম্ভ করে 'মনোময়ঃ প্রাণশরীরঃ' ইত্যাদি করে ব্রহ্মকে গুণময় রূপে ভাবনার যে-বিধান ঋষি শাণ্ডিল্য দিয়েছেন, তাকে শাণ্ডিল্যবিদ্যা বলে। এখানেও মানস ব্যাপার। দীর্ঘকাল নিরন্তর আদরপূর্বক ব্রহ্ম বিষয়ে যে ভাবনা করা হলো, তা এতদূর পর্যন্ত একাগ্র হবে যে, সাধক সে-সকলের সঙ্গে একীভূত বোধ করবেন, একে উপাসনা বলে। উপ-সমীপে, আসন-স্থিতি, অবস্থান। ধ্যাতা ধ্যেয় একত্ববোধ না হওয়া পর্যন্ত ভাবনাধারা চলতে থাকবে। একত্ববোধে ধ্যান দীর্ঘস্থায়ী হলে সমাধিতে পরিণত হয়।

সম্রাজো যে সুবৃধো যজ্ঞমায়যুর পরিহৃতা দধিরে দিবিক্ষয়ম্।
তাঁ আবিবাস নমসা সুবৃক্তিভিমহো আদিত্যা অদিতিং স্বস্তয়ে॥
                       (ঋগ্বেদ, ১০/৬৩/৫)
শব্দার্থ— (যে) যাঁহারা (সম্রাজ) সম্যকরূপে উজ্জ্বল হইয়া (সু-বৃধঃ) শ্রেষ্ঠ উন্নতি লাভ করিয়া (যজ্ঞম্) শুভ কর্মকে (আ-যঃ) প্রাপ্ত হইয়া (অপরিহৄতাঃ) কুটিলতা রহিত হইয়া (দিবি) জ্যোতিতে (ক্ষয়ম্) নিবাস (দধিরে) ধারণ করিয়াছেন (তান্) সেইসব (মহঃ) মহান্ (আদিত্যান্) বিদ্বন্মণ্ডলীকে এবং (অদিতিম্) পরমাত্মাকে (নমসা) অবনত হইয়া (সুবৃত্তিভিঃ) উত্তম প্রার্থনা দ্বারা (স্বস্তয়ে) মঙ্গলের জন্য (আ-বিবাস) পূজা কর।

অনুবাদ— যে সব বিদ্বান্ জ্ঞানাগ্নিতে উজ্জ্বল হইয়াছেন, ক্রমোন্নতি লাভ করিয়াছেন, শুভ কর্ম সম্পাদনা করেন, কুটিলতা ত্যাগ করিয়াছেন এবং ধর্মানুসারে জীবন যাপন করেন, তাঁহাদিগকে এবং পরমাত্মাকে বিনয় সহকারে সুন্দর সুন্দর প্রার্থনা দ্বারা পূজা কর।

পূজা হিন্দুদের পালনীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দুধর্মতে, দেবতাগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা অতিথিদের পূজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। স্থান ও কালভেদে বিভিন্ন প্রকার পূজানুষ্ঠান এই ধর্মে প্রচলিত। যথা, গৃহে বা মন্দিরে নিত্যপূজা, উৎসব উপলক্ষে বিশেষ পূজা অথবা যাত্রা বা কার্যারম্ভের পূর্বে কৃত পূজা ইত্যাদি। পূজানুষ্ঠানের মূল আচারটি হল দেবতা ও ব্যক্তির আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশেষ উপহার প্রদান। পূজা সাধারণত গৃহে বা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়।

                      ঘরের পূজা

অনেক হিন্দুগৃহেই নির্দিষ্ট ঠাকুরঘর বা উপাসনাস্থল রয়েছে। ঠাকুরঘরে দেবদেবীর ছবি বা মূর্তি রাখা থাকে। এই ঘরেই কুলদেবতা (পারিবারিক দেবতা) ও ইষ্টদেবতার (নিজস্ব দেবতা) নিত্যপূজা হয়ে থাকে। ঘরের নিত্যপূজা খুব সাধারণভাবে করা হয়ে থাকে। এই পূজায় দেবতার উদ্দেশ্যে ধূপ, দীপ, জল ও ফল উৎসর্গ করা হয়। পূজার পর ছোটো করে আরতিও করা হয়ে থাকে। পূজার সময় জপধ্যান ও দেবদেবীর মন্ত্র ও স্তবস্তুতি পাঠের প্রথা রয়েছে।

                     মন্দিরের পূজা

মন্দিরের পূজা বিস্তারিতভাবে করা হয়ে থাকে। অনেক মন্দিরেই দিনে একাধিকবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজা সাধারণত পুরোহিত সম্পাদনা করে থাকেন। তাছাড়া, মন্দিরের দেবতা অতিথি দেবতা নন, তিনি মন্দিরের অধিবাসী। তাই তাঁর পূজায় সেই দিকটির কথা মনে রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মন্দিরে সকালে দেবতাকে জাগরিত করা হয়, তাঁকে আবাহন করা হয় না। অঞ্চল ও সম্প্রদায় ভেদে মন্দিরের পূজায় নানান প্রথা লক্ষিত হয়। মন্দিরের পূজায় পুরোহিতই সকলের হয়ে পূজা নিবেদন করেন।

                          উপচার

ঘরের বা মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ পূজায় একাধিক উপচার বা পূজাদ্রব্য দেবতাকে উৎসর্গ করার প্রথা রয়েছে। এই উপচারগুলি অঞ্চল, সম্প্রদায় বা সময় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় পূজার কয়েকটি সাধারণ উপচার হল আবাহন, আসন, স্বাগত, পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, মধুপর্ক, স্নান বা অভিষেক, বস্ত্র, অনুলেপনা বা গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, চাঁদমালা, মালা, বিল্বপত্র, প্রণাম ও বিসর্জন।                 

                  পূজার বৈশিষ্ট্য কি?

পূজার বহুমুখী বৈশিষ্ট্য আছে—
১। পূজায় সঠিক সাধনা ও আত্মজ্ঞান লাভের সুযোগ ঘটে।
২। পূজায় মানুষের মাঝে পরস্পর ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি করে ও মহামিলনের সুযোগ করে দেয়।
৩। পূজা উপলক্ষে সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ উপভোগ করে।
৪। পূজা বহুজনের সেবার সুযোগ করে দেয়।
৫। পূজা দেবগণের তথা ঈশ্বরের সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় রহস্য জানার অবলম্বন।
৬। পূজা শিল্পীর শিল্পকর্ম ও সাধকের সাধনার উৎকর্ষ বিধান করে ও উৎসাহ দান করে।
৭। পূজা মানুষের মানবিক প্রসারতা বৃদ্ধি করে ও মানুষকে পরস্পরের প্রতি একাত্মতা অনুভবের প্রেরণা যোগায়।
৮। পূজা সর্বস্তরের জনগণের পেশাগত কর্মে সমৃদ্ধি লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

                     শ্রী বাবলু মালাকার
                    সনাতন ধর্মের প্রচারক,
              সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম।

জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব।

Post a Comment

0 Comments