Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

সনাতন ধর্মের ইন্দ্র ও অহল্যার সম্পর্কটা বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের জবাব


জানি এই পোস্টটা পড়ে মন্দমতিরা অবশ্যই বিরোধীতা করবে, করলে করুক গে। এই পোস্টটি কেবল সনাতনীদের জানার জন্য করেছি।

শুরুতেই আমাদের জানতে হবে মন্দমতিদের মিথ্যাচার বা ভন্ডামী টা কি বিষয়ে?
নিম্নে তাদের অপপ্রচারটি হলো, ইন্দ্র গৌতম ঋষির স্ত্রীর সহিত ব্যাভিচারে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। যা গৌতম ঋষি জানার পর অহল্যাকে পাষাণ হওয়ার অভিশাপ প্রদান করেন এবং ইন্দ্রকে সহস্র যোনীযুক্ত শরীর হওয়ার অভিশাপ দেন।

এই অপপ্রচারটি প্রায় সব হিন্দু বিদ্ধেষী পেজে কিংবা গ্রুপে পাবেন যা দিয়ে সনাতনীদের উল্লু বানানো হয়, আর হিন্দুরাও গ্লানিতে ভোগে ছিঃ এতো নোংরা হিন্দুধর্ম, আমি এই ধর্মে থাকবো না এই নোংরা হিন্দুধর্মে নিয়ে ব্যাস হয়ে গেলো অন্য ধর্মে ধর্মান্তর। যেখানে তার সত্যটা জানার আগ্রহ কেউর নাই সেখানে সে কীভাবে নিজ ধর্ম অধিষ্টিত ধাকবে?

উক্ত ঘটনার বিশ্লেষণ করার পূর্বেই আমাদের জানতে হবে ইন্দ্র কে?

ইন্দ্র সম্পর্কে, বৈদিক শক্তি, স্বর্গের রাজ, প্রকৃতির মায়া, বজ্রপাত, ঝড় এবং বৃষ্টির শক্তি।

                      ইন্দ্র,
ইন্দ্র দেবতা "ইদি পরমৈশ্বর্য্যে" এই ধাতুর উত্তর "রন্" প্রত্যয় করে ইন্দ্র শব্দ সিদ্ধ হয়ে থাকে। "য় ইন্দতি পরমৈশ্বর্য্যবান ভবতি স ইন্দ্রঃ পরমেশ্বরঃ"। যিনি নিখিল ঐশ্বর্যশালী এজন্য সেই পরমাত্মার নাম ইন্দ্র। ইন্দ্র শব্দটি সংস্কৃত ‘ইন্দ্’ ধাতু হতে আগত যা বর্ষণ নির্দেশাত্মক। এর সাথে “র” প্রত্যয় যোগ করে ‘ইন্দ্র’ শব্দ হয়। অতএব যিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন তিনিই ইন্দ্র।

ইন্দ্র দেবতা (দেবনাগরী লিপি: इन्द्र বা इंद्र) হলেন সনাতন ধর্মের একজন বৈদিক শক্তি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আকাশ, বজ্রপাত, আবহাওয়া, বজ্র, ঝড়, বৃষ্টি, নদী প্রবাহ এবং যুদ্ধের সাথে জড়িত। ইন্দ্র তিনি দ্বাদশ আদিত্যের মধ্য একজন শক্তি, পুরাণ অনুযায়ী কশ্যপ (আদি কারণ) ও অদিতি (অনন্ত আকাশ) হচ্ছেন তার পিতামাতা। বেদে ঋষিগণ তাঁকে দেবরাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ ইন্দ্র শক্তি দ্বারাই অন্যান্য, অর্থাৎ মহাবিশ্বের অন্যান্য শক্তি পরিচালিত হয়। ঋগ্বেদে সবচেয়ে বেশি ইন্দ্র স্তুত হয়েছেন। বৈদিক শাস্ত্রে ইন্দ্র কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্যমান বস্তু বা মূর্তি নন, তিনি হচ্ছেন বৃষ্টি বর্ষণের কারণ, সূর্য। তিনি সেই কারণ যা বজ্রপাত, বৃষ্টি ও নদী প্রবাহিত করে।

                  বেদে ইন্দ্র দেবতা,
বেদে ইন্দ্র দেবতা একজন সর্বপ্রধান বিশেষ একটি শক্তি। বেদ অনুযায়ী, ইন্দ্র হচ্ছেন ঈশ্বর বা পরমব্রহ্ম এর একটি গুণবাচক নাম যিনি ঈশ্বরের বর্ষণশক্তির বিকাশস্থল। বৈদিক দেবগণের মাঝে ইন্দ্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বেদের সর্বাধিক সংখ্যক সুক্ত রয়েছে ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। বৈদিক তেত্রিশ প্রকাশ শক্তির মাঝে ইন্দ্র একজন শক্তি। বেদে সূর্যের বারোটি রূপ অর্থাৎ দ্বাদশ আদিত্যকে শক্তি বলা হয়েছে। এর মাঝে ইন্দ্র হচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণকারী সূর্য।

                   দেবরাজ ইন্দ্র,
দেবগণের মাঝে ইন্দ্র হচ্ছেন ঈশ্বরের সবচেয়ে রূপান্তর শক্তি হিসেবে প্রধান তিনি ত্রিলোকের শক্তি, ঈশ্বর ও মনুষ্যগণের শক্তি মরুৎগণ (বায়ু) হচ্ছেন ইন্দ্রের সেনা।

               ইন্দ্রের দেবতার অস্ত্র,
ইন্দ্রের অস্ত্র হচ্ছে বজ্র বা বিদ্যুৎ। ত্বষ্টা ইন্দ্রের জন্য দধীচি বা দধ্যঞ্চের অস্থি দ্বারা বর্জ্র নির্মাণ করেছিলেন। মহাভারত ও পুরাণ অনুযায়ী দধীচি মুনি জগৎ কল্যানে নিজ দেহ দান করলে তার মস্তকের অস্থি দিয়ে বিশ্বকর্মা বজ্র নামক অস্ত্র তৈরি করেন। দধীচির মস্তক ছিল অশ্বের মস্তক। সেই ছিন্ন মস্তক ইন্দ্র লাভ করেছিলেন।

ইন্দ্র দেবতা বিশেষ নয়, এটা একটা পদবী। যদিও বা ভন্ডদের মতো ইন্দ্রকে দেবতা ভেবে নিই তাহলেও উক্ত ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ কঠিন হবে না। কারণ পবিত্র বেদে ইন্দ্রকে দেবতাকে অনেক নামে স্ত্ততি করা হয়েছে, তাঁর মধ্যে একটা হলো "সহস্রাক্ষ"। (সূত্র— অথর্ববেদ ৬/৪/১)

সহস্রাযোনী নামের একটা কথা এসেছে সেটা এসেছে একটি মাত্র শব্দের কারণে সেটা হলাে "ভগ"।

ভগ শব্দটাকেই আগে ক্লিয়ার করা প্রয়োজন,
ভগ অর্থ যোনী এটা আধুনিককালের রচিত। কিন্তু "ভগ" শব্দের প্রাচীন অর্থ হলো ধন বা সম্পদ।

নিরুক্ত ১/৩/১৫ তে স্পস্ট উল্লেখ আছে,
"ভগো ভজতেঃ" ভজ ধাতুর সঙ্গে ঘঞ প্রত্যয় ক'বে ভগ শব্দ নিষ্পন্ন। ভগ শব্দের অর্থ ধন বা ঐশ্বর্য। ভগ বা ঐশ্বর্য যার আছে তিনিই ভগবান। এখানে পার্থিব ঐশ্বর্য না বুঝিয়ে ষড়ৈশ্বর্য কে বোঝায়। যার ষড়ৈশ্বর্য আছে এটা না বলে যদি বলা হয় যার যোনী আছে তবে সেটা ভগবান্ হবে না। কেননা বৈদিক গ্রন্থের শব্দ বিশ্লেষণের জন্য বৈদিক ব্যকরণ আবশ্যক। শ্রীকৃষ্ণ তার ভগ বা ঐশ্বর্যের কথা উল্লেখ করেছে শ্রীগীতার দশম অধ্যায়ে।

সকল বেদ যে পরম পদের বার বার প্রতিপাদন করেছেন এবং সকল তপস্যা যে পদের কথা বলে অর্থ্যাৎ যাঁকে পাবার সাধনার কথা বলে যাঁকে পাবার জন্য সাধকগণ ব্রহ্মচর্যের পালন করেন সেই পদ তোমাকে (আমি) সংক্ষেপে বলছি (সে হচ্ছে) ওঁ এই। (কঠোপনিষদ্, ১/২/১৫)

(শুদ্ধ) মন দ্বারা এই পরমাত্মা তত্ত্ব প্রাপ্তি-যোগ্য এই জগতে(এক পরমাত্মার অতিরিক্ত) ভিন্ন-ভিন্ন ভাব কিছুই নেই (এজন্য) যে এই জগতে বিভিন্ন প্রকার দেখে সেই ব্যক্তি মৃত্যু থেকে মৃত্যুতে গমন করে অর্থাৎ বারবার জন্মায় এবং মরে। (কঠোপনিষদ, ২/১/১১)

ইনি ব্রহ্মা, ইন্দ্ৰ, প্রজাপতি এই সমস্ত দেবতা তথা এই পৃথ্বী বায়ু, আকাশ, জল এবং তেজ এইরুপ এই পাঁচ মহাভূত এবং এই ছোট ছোট সম্মিলিত ন্যায় বীজরূপ সমস্ত প্রাণী এবং এ সমস্ত থেকে ভিন্ন অন্য ও অণ্ডজসমূহ এবং জরায়ুজ তথা স্বেদজ এবং উদ্ভিদ তথা ঘোড়াগুলি গোসমূহ হস্তিসমূহ মানবগণ যা কিছু এই জগৎ এবং যা ডানাবিশিষ্ট এবং জঙ্গম এবং স্থাবর প্রাণিসমুদয় তা সমস্ত প্রজ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মাতেই প্রতিষ্ঠিত ব্রহ্মণ্ড প্রজ্ঞানস্বরুপ পরমাত্মা থেকেই জ্ঞানশক্তিসম্পন্ন প্রজ্ঞানস্বরুপ পরমাত্মাই এইসবের স্থিতির আধার এই প্রজ্ঞানই ব্ৰহ্ম। (ঐতরেয়োপনিষদ, ৩/১/৩)

যাঁর মধ্যে সমস্ত দেবগণ ভালোভাবে স্থিত সেই অবিনাশী পরব্যোমে সম্পূর্ণ বেদ বিদ্যমান যে মানুষ তাঁকে জানে তারা এতে সম্যকরূপে অবস্থিত। (শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ, ৪/৮), (ঋগ্বেদ মণ্ডল ১ সূত্র ১৬৪-র ৩৯ নং অথর্ববেদের ৯/১৫/১৮ তে ও পরিলক্ষিত হয়)।

পরমাত্মা সর্বব্যাপক, সর্বশক্তিমান শরীর রহিত, রোগ রহিত, জন্ম রহিত, শুদ্ধ, নিষ্পাপ, সর্বজ্ঞ, অন্তর্যামী, দুষ্টের দমন কর্তা ও অনাদি। তিনি তাঁহার শাশ্বত প্রজা জীবের অন্য যথাযথা ফলের বিধান করেন। (যজুর্বেদ, ৪০/৮)

পরমাত্মা এক, তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম বা দশম ঈশ্বর বলে অভিহিত হয় না। যিনি তাঁকে শুধু এক বলে জানেন তিনিই তাঁকে প্রাপ্ত হন। (অথর্ববেদ, ১৩/৪/2)

ওই পরমপুরুষ সহস্র মস্তকবিশিষ্ট সহস্ৰ চক্ষুঃবিশিষ্ট এবং সমস্ত্র চরণবিশিষ্ট তিনি সম্পূর্ণ জগৎকে সর্বদিকে আবৃত করে নাভীর ঊর্ধ্বে দশাঙ্গুল পরিমিত হৃদয়দেশে অবস্থিত। (শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ, ৩/১৪) (যজুর্বেদ, ৩১/১ ঋগ্বেদ, ১০/৯০/১, অথর্ববেদ, ১৯/৬/১ তে ও পরিদৃষ্ট হয়)।

আরো অনেক আছে রেফারেন্স দেওয়া হল (শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ, ৩/৩), (যজুর্বেদ, ১৭/১৯, ১৬/৩), (ঋগ্বেদ ১০/৮১/৩)।

এক সত্তা পরব্রহ্মকে জ্ঞানীরা ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, দিব্য, সুপর্ণ, গরুৎমান, যম, মাতরিশ্বা আদি বহু নামে অভিহিত করেন। (ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪৬)

তাহলে উক্ত বেদ মন্ত্রে অনুসারে বুঝা গেল ইন্দ্র পরমেশ্বরের একটি শক্তি নাম। ইন্দ্র কোন দেবতা বিশেষ নয় এটা একটা গুনবাচক নাম। যদিও বা ভন্ডদের মতো ইন্দ্রকে দেবতা ভেবে নিই তাহলেও উক্ত ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ কঠিন হবে না।
পবিত্র বেদে ইন্দ্রকে অনেক নামে স্ত্ততি করা হয়েছে, তাঁর মধ্যে একটা হলো "সহস্রাক্ষ"। (সূত্র--- অথর্ববেদ ৬/৪/১)

আবার, সূর্য হলো বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঐশ্বর্যবান এতে কারো সন্দেহ নেই।
পুরাণাদিতে ভগ দ্বাদশ আদিত্যের অন্যতম—

(কূর্মপুরান, পূর্বাভাগ ৪২/২০) অনুসারে ভগ ভাদ্র মাসের সূর্য।
(স্কন্দপুরান, প্রভাসখন্ড ১০১/৬০) অনুসারে ভগ মাঘ মাসের সূর্য।
(মৈত্রয়নী সংহিতা ১/৬ এবং ১২) অনুসারে ভগ শব্দের অর্থ অনূদিত আদিত্য।

(ঋগ্বেদ, ৭/৪১/২) মন্ত্রে গকে আদিত্য রুপে বর্ণনা করা হয়েছে,

প্রাতর্জিতং ভগমুগ্রং হুবেম্ বয়ং পুত্রমদিতেঃ।
অর্থ— আমরা প্রাতঃকালে তমোবিজয়ী অদিতির অর্থাৎ প্রাতঃসন্ধার পূত্র উদ্গর্ণ অর্থাৎ উদযার্থ সমুদ্যত উদিত প্রায় ভগকেই আহ্বান করিতেছি"।

তাহলে বুঝা গেল ভগ অর্থ যোনী নয় বৈদিক ব্যকরণ অনুসারে ভগ অর্থ আদিত্য কিংবা সূর্য পরমেশ্বরের একটি শক্তি। এখানে কিংবা ত্যানাবাজির আর কোন সুযোগ রাখি নাই। ভগ অর্থ সূর্য, তাই বুঝা গেলো সহস্রাভগ মানে সহস্রা সূর্য।

এখন আসি সহস্রাযোনী নাকি সহস্রাক্ষ?
ইন্দ্রকে পরমেশ্বরের শক্তি রুপে কল্পনা করা হয়, পবিত্র বেদের অসংখ্য মন্ত্রে রয়েছে। ভন্ডদের মিথ্যাচার গৌতম ঋষির অভিশাপের ফলে ইন্দ্রের সহস্রাভগ উৎপন্ন হয়েছে ভগ মানে সূর্য সেটা তো আগেই প্রমাণ হয়েছে তাইলে সহস্রাভগকে সহস্রাসূর্য মানতে কোন সমস্যা নেই।

গীতায় সূর্যকে ঈশ্বরের চোখ রুপে কল্পনা করা হয়েছে,

অনাদিমধ্যান্তমনন্তবীর্য্যম্‌ অনন্তবাহুং শশিসূর্যনেত্রম্ ।
পশ্যামি ত্বাং দীপ্তহুতাশবক্ত্রং স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপন্তম্ ।।
(গীতা, ১১/১৯)

আমি দেখিতেছি, তোমার আদি নাই, মধ্য নাই, অন্ত নাই, তোমার বলৈশ্বর্যের অবধি নাই, অসংখ্য তোমার বাহু, চন্দ্র সূর্য তোমার নেত্রস্বরূপ, তোমার মুখমণ্ডলে প্রদীপ্ত হুতাশন জ্বলিতেছে; তুমি স্বীয় তেজে নিখিল বিশ্বকে সন্তাপিত করিতেছ।

যে চক্ষু (সূর্য) সৃষ্টির আদি থেকেই ছিলো সেটা ঋষি গৌতমের অভিশাপের ফলে কেমনে ওঠবে?

                            অহল্যা,

এবার অহল্যার সম্পর্কে কিছু জানবো, অহল্যা শব্দটি সংস্কৃত অর্থ— হল বা লাঙল, ফসল ফলানো জন্য ফলা দেওয়া চালনার অযোগ্য, কর্ষণের বা চাষের অযোগ্য; হল বা লাঙল দিয়ে কর্ষণ বা চাষ করা হয়। হল বা লাঙল,  সর্বভারতীয় অঞ্চলের আদিম কৃষিযন্ত্র। এক ধরনের যন্ত্র যা সাধারণত কৃষি কাজে ব্যবহার করা হয়। বীজ বপন অথবা চারা রোপনের জন্য, জমির মাটি তৈরি করবার ক্ষেত্রে হাল ব্যবহার করা হয়। কৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত এটি অন্যতম পুরাতন যন্ত্র। এমন (পার্বত্য অঞ্চলের মাঠে ফলা দেওয়াকে কষণকে অহল্যার বলে, অহল্যা শব্দের অর্থ হচ্ছে ভূমি)।

কিন্তু পুরাণে বর্ণিত ইন্দ্র ও অহল্যার সম্পর্কে নিয়ে রুপক কাহিনী তাহলে অহল্যা উপখ্যান যে রুপক কাহিনী সেটা নিয়ে নিশ্চয় সন্দেহ নেই কারো?

অহল্যা উপাখ্যান যে রুপক সেটা পূর্বেই উল্লেখ করেছি।  যদিও অনেকেই এটাকে বাস্তব সত্য কাহিনী বলে প্রচার করে। তাই তাদের জন্য এই ঘটনার ব্যাখ্যাটা দেওয়া অতীব জরুরী।

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অহল্যা উপাখ্যানের তাৎপর্যের বিশ্লেষন দিতে গিয়ে বলেন - " অহল্যা অর্থাৎ হলের দ্বারা কর্ষিত হয় না -- কঠিন, অনুর্বর। ইন্দ্র বর্ষণ করিয়া সেই কঠিন ভূমিকে কোমল করেন, জীর্ণ করেন এজন্য ইন্দ্র অহল্যার জার। জ ধাতু থেকে জার শব্দটি নিষ্পন্ন হয়। বৃষ্টির দ্বারা ইন্দ্র তাহাতে প্রবেশ করে, এজন্য তিনি অহল্লাতে অভিগমন করেন।

বঙ্কিম চন্দ্রের মতে আকাশই ইন্দ্র, এবং আকাশের সহস্র তারকা ইন্দ্রের সহস্র চক্ষু। "ইন্দ্র ধাতুবর্ষনে" তদূত্তর র প্রত্যয় করিয়া ইন্দ্র শব্দ হয়, অতএব যিনি বৃষ্টি করেন,তিনিই ইন্দ্র। আকাশ বৃষ্টি করে  অতএব ইন্দ্র আকাশ। ইন্দ্র সহস্রাক্ষ, কিন্তু ইন্দ্র আকাশ। আকাশের সহস্র চক্ষু কে না দেখিতে পায়?
সহস্র তারকাযুক্ত আকাশ, ইন্দ্র সহস্রাক্ষ।  বঙ্কিম চন্দ্র প্রমাণস্বরুপ গ্রীক সহস্রাক্ষ আকাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

হিন্দু দেবতার মতো গ্রীকদেবতা আর্গসও সহস্রলোচন।
"Greeks had still present to their thought the meaning of #Argos pannoptes, Io,s hundred eyed all seing  guard who was slain by hermes and change in to a peacock for macrobus writes as recognizing in him the star-eyed heaven itself; as the #Aryan #Indra the sky is the thousand eyes"

ইন্দ্র দেবতার প্রকৃত স্বরুপ পূর্বেই আলোচনা করেছিলাম, সূর্যের বা অগ্নির যে মূর্তি বারিবর্ষণের উপযোগী অনূকুল পরিবেশের সৃষ্টি করেন তিনিই ইন্দ্র। শীত ও গ্রীষ্মে মৃত্তিকা শুষ্ক থাকে, হলাকার্যের অযোগ্য— অহল্যা। এই সময়ে সূর্যের হরিদ্বর্ণ রশ্মি ভূভাগ থেকে রস আহরণ করে। বাষ্পীভূত রস আকাশে মেঘরুপে পুঞ্জিভূত হয়, ইন্দ্র বজ্র দ্বারা বারিবর্ষণের প্রতিকূল অবস্থার বৃত্রাদি অসুর কূলকে ধ্বংশ করে বৃষ্টিরুপে অহল্যা বা মৃত্তিকার সঙ্গে মিলিত হন, অহল্যা ভূমি বা হল্যা বর্ষণোপযোগী হয়ে উঠে, কিন্তু বর্ষার আগমনে সূযাগ্নি (সূর্য+অগ্নি) রুপি ইন্দ্র সহস্র কিরণ শোভিত হয়ে প্রকাশিত হন। ইন্দ্রের সহস্র চক্ষু উদ্মীলিত হয়। এই সর্বজন বিধিত প্রাকৃতিক ঘটনায় ইন্দ্র-অহল্যা সংবাদের রুপকে প্রকাশিত হয়। ইন্দ্রের সাথে অহল্যার যে একটি সম্পর্ক তা হলো প্রকৃতিগত সম্পর্ক বৃষ্টিতে ভূমির মাটি হয়েছে সবকিছুর সৃষ্টি।

শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments