দীপাবলি নিয়ে পুরাণে ও বিভিন্ন গ্রন্থে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলে ও তার মধ্যে সনাতন ধর্মের মানুষের কাছে, রামায়ণের কথা সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—
শ্রীরাম চন্দ্রের ১৪ বছর বনবাস কাটিয়ে রাবনকে বধ করার পর সীতাকে মাকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে আসে তখন অযোধ্যা নগরীতে প্রদীপ জ্বেলে দীপাবলি উদযাপন করার হয়।
বাল্মীকি রামায়ণের কথা অনুসারে সরযূ নদীর তীরে অবস্থিত অযোধ্যা নগরী ছিল ধনধান্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। অযোধ্যার রাজা ছিলেন রাজা দশরথ।
দশরথ প্রজাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন, রাজা সর্বদা প্রজা কল্যানে ব্রতী থাকতেন। অযোধ্যা নগরে দশরথ রাজার রাজত্বে কোনো পথিক, ভিখারী, পথের পশু অভুক্ত থাকত না।
ঋষি, মুনি, ব্রাহ্মণ পন্ডিত গণ রাজার যথেষ্ট স্নেহধন্য ছিলেন। রাজা দশরথ ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং পরোপকারী একজন রাজা। দশরথ রাজার রাজ্যের সকল প্রজা অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন।
রাজ্যের প্রজারা সকলেই ঈশ্বরের পূজা অর্চনা করতেন, অগণিত মিথ্যাচার ও কটুকাজ কেউ করতেন না। সকলেই ছিলেন সত্যবাদী শাস্ত্রজ্ঞ, ধর্মপরায়ণ, প্রজাদের কেউ পরের সম্পত্তিতে আসক্ত ছিল না।
এত সুন্দর সোনার অযোধ্যা নগরী ১৪ টা বছর রঘু বংশের বংশ প্রদীপ শ্রী রাম চন্দ্রকে ছাড়া নিষ্প্রদীপ হয়ে গেছিল। টানা ১৪ বছর বনবাস জীবন কাটিয়ে লঙ্কার রাজা রাবনকে বধ করে সীতাকে সঙ্গে করে অযোধ্যা ফিরে আসে।
অযোধ্যায় ফিরে আসার খবর পেলে অযোধ্যাবাসী পুরো অযোধ্যা নগরীকে শ্রী রাম চন্দ্র, সীতা মাকে ও ভাই লক্ষণের স্বাগতম করার জন্যে সুন্দর প্রদীপের দীপ মালায় সাজিয়ে তোলেন।
তারপর থেকে হিন্দু ধর্মের শ্রদ্ধালু মানুষেরা প্রতি বছর অন্ধকারের কালিমা ঘুচিয়ে শ্রী রাম চন্দ্রের স্বগোতমার্থে ঐ দিনটাকে দীপাবলির দিন হিসাবে প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোর উৎসব হিসাবে উদযাপন করেন।
প্রতিবছর বিজয়া দশমীর ঠিক ২১ দিন পর পুরো ভারতবর্ষে দীপাবলি এবং পশ্চিমবঙ্গে কালীপুজো ও দীপাবলি পালন করা হয়। কিন্তু কোনদিন আপনারা এই বিষয়টা নিয়ে বিচার করেছেন যে বিজয়া দশমীর ঠিক ২১ দিন পরেই দীপাবলি পালন করা হয়।
বাল্মিকী রামায়ণ অনুসারে শ্রীরামচন্দ্র রাবণকে বধের পর নিজের সম্পূর্ণ সেনা সহিত অযোধ্যাতে পায়ে হেঁটে ফেরত আসতে ২১ দিন (৫০৪ ঘণ্টা) লেগেছিল। এবার আমরা যদি ৫০৪ ঘণ্টাকে ২৪ ঘন্টা দিয়ে ভাগ করি তাহলে ২১ দিন বের হয়।
এবার বর্তমানের সব থেকে বিশ্বাসযোগ্য গুগল ম্যাপের সাহায্য নিন। গুগল ম্যাপ বলছে শ্রীলংকা থেকে অযোধ্যার পায়ে হেঁটে দূরত্ব হচ্ছে ৩১৩৩ কিলোমিটার এবং এই দূরত্ব পায়ে হেঁটে পার করতে সময় লাগবে ৫০৪ ঘন্টা, অর্থাৎ ২১ দিন। আপনি চাইলে এটা আপনারা নিজেরাই এটা একবার গুগল ম্যাপে গিয়ে দেখতে পারেন।
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ)।
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার