Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

গোপূজা, গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার, গোহত্যা নিষেধাজ্ঞা ও গোমেধ যজ্ঞ সম্বন্ধে আলোচনা

                    গোপূজা

প্রাচীন ভারতের কৃষিজীবি সমাজে প্রাণী হিসাবে গরু সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একে পবিত্র বলে বিবেচনা করা হত। মহাভারতে গরু পূজা করার কথা বলা আছে—

”গাভী সমুদায় জীবগণের প্রসূতিস্বরূপ এবং নানা প্রকার সুখের নিদান । মঙ্গলাভিলাষী ব্যক্তিদিগের নিত্য গো প্রদক্ষিণ করা অবশ্য কর্তব্য। গো শরীরে পদাঘাত এবং গোকূলের মধ্যস্থল দিয়ে গমন করা কদাপি কর্তব্য নহে। গাভী সকল সমুদায় মঙ্গলের আয়তন স্বরূপ । অতএব ভক্তি পূর্বক উহাদিগের পূজা করা অবশ্য কর্তব্য।” (অনুশাসন পর্ব/ ৬৯)

               গোমেধ যজ্ঞ

মহাভারতের অনেকস্থলেই গোমেধ যজ্ঞের কথা বলা আছে—

১) “এই পৃথিবীতে যে সমস্ত তীর্থ আছে , নৈমিষেও সেই সকল তীর্থ বিদ্যমান রহিয়াছে। তথায় সংযত ও নিয়তাসন হইয়া স্নান করিলে গোমেধ যজ্ঞের ফলপ্রাপ্তি ও সপ্তম কুল পর্যন্ত পবিত্র হয়।“ (বন পর্ব/৮৪)

২) “মনুষ্যের বহুপুত্র কামনা করা কর্তব্য; কারণ তাহাঁদিগের মধ্যে কেহ যদি গয়ায় গমন , অশ্বমেধ যজ্ঞানুষ্ঠান অথবা নীলকায় বৃষ উৎসর্গ করে , তাহা হইলে বাঞ্ছিত ফল লাভ হয়। (বন পর্ব/৮৪)

৩) “তৎপরে তত্রস্থ শ্রান্তিশোক বিনাশন মহর্ষি মতঙ্গের আশ্রমে প্রবেশ করিলে গোমেধযজ্ঞের ফল লাভ হয়।”      (বন পর্ব/৮৪)

            গোবর ও গোমূত্র

আমাদের সনাতন ধর্মে গোবর ও গোমূত্র খাওয়ার কথাও মনুসংহিতা হতে পাওয়া যায়। মনুসংহিতা হতে বলছেন গোবর ও গোমূত্র খাওয়ার বিধান বলা আছে—

"সান্তপন দুই দিবসসাধ্য, গোমুত্র এবং
গোময়, দুগ্ধ, দধি, ঘৃত, কুশোদক এই কয়েক
দ্রব্য একত্র করিয়া প্রথম দিনে খাইবে।"
               (মনুসংহিতা ১১/২১৩)

"যদি কোন ব্রাক্ষণ জ্ঞানপুর্বক সুরা পান করে তাহলে পাপ দূর করতে সে আগুনে গরম করা গোমুত্র, জল, দুগ্ধ ইত্যাদি খাবে যতক্ষননা পাপ না মরে।
                (মনুসংহিতা ১১/৯১-৯২)

এমনকি গোবর এবং গোমূত্র খাওয়ার কথাও মহাভারত হতে পাওয়া যায়। (অনুশাসন পর্ব/৭১; অনুশাসন পর্ব/৭৩) গরুর গোবর ও গোমূত্রে মানুষের স্নান করার কারণ হিসাবে খুব হাস্যকর কথা বলা হয়েছে। গরুরা কোনকালে নাকি তপস্যা করেছিল, যাতে মানুষেরা তাদের মল ও মূত্র দ্বারা স্নান করে! আরও মজার কথা অনুশাসন পর্বের ৮২ তম অধ্যায়ে বলা হয়েছে- ‘গোবরে লক্ষ্মী বাস করেন’। 

মহাভারত ভারতের দীর্ঘকালের ইতিহাসকে ধরে রেখেছে। এর ফলেই এতে প্রাচীনকালের গোহত্যার কথা যেমন মেলে, তেমনি গোহত্যার সমাপ্তি, গোপূজা এবং গোবর-গোমূত্রের পবিত্রতার কথাও এতে পাওয়া যায়।

        গোহত্যায় নিষেধাজ্ঞা

গোহত্যা নিষেধাজ্ঞা সম্বন্ধে মহাভারত হতে জানা যায়–

১)” শাস্ত্রানুসারে ছাগ পশুরেই অজ বলিয়া নির্দেশ করা যায়। মহর্ষি গণ কহিলেন, বেদে নির্দিষ্ট আছে , বীজ দ্বারাই যজ্ঞানুষ্ঠান করিবে। বীজের নামই অজ। অতএব যজ্ঞে ছাগপশু ছেদন করা কদাপি কর্তব্য নহে। যে ধর্মে পশুচ্ছেদন করিতে হয় , তাহা সাধুলোকের ধর্ম বলিয়া কখনোই স্বীকার করা যায় না। বিশেষত ইহা সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যযুগ । এই যুগে পশু হিংসা করা কিরূপে কর্তব্য বলিয়া পরিগণিত হইতে পারে।” (শান্তি পর্ব/৩৩৮)

২) "যে ব্যক্তি গোমাংস ভক্ষণ এবং যে ব্যক্তি ঘাতককে গোবধে অনুমতি প্রদান করে তাহাদের সকলকেই সেই নিহত ধেনুর লোম পরিমিত বৎসর নরকে নিমগ্ন থাকিতে হয়।” (অনুশাসন পর্ব/৭৪)

৩) “গো ও ময়ূরের মাংস পর্য্যুষিতান্ন ভোজন করা নিতান্ত গর্হিত।“ (অনুশাসন পর্ব/১০৪)

৪) “যে ব্যক্তি অতিথির সমাদর না করে তাহারে স্ত্রীহত্যা, গোহত্যা, ব্রহ্মহত্যা, গুরুপত্নীহরণ ও কৃতঘ্নতাজনিত পাপে লিপ্ত হইতে হয়।” ( অনুশাসন পর্ব/১২৬)

৫) “যাহারা ব্রাহ্মণঘাতি, গোঘ্ন, পরদারনিরত, বেদে শ্রদ্ধাশূণ্য ও জায়া জীবি সেইসমস্ত পাপাচার নিরত পামরদিগের সহিত কথোপকথন করাও অনুচিত।“ (অনুশাসন/১৩০)

মহাভারতের সময়কালে গোমাংসভোজনকে ভালো চোখে দেখা হত না। মদ্রক (কর্ণ/৪১) ও বাহিকদের (কর্ণ/৪৫) গোমাংস ভক্ষণের কথা মহাভারত হতে জানা যায়। তবে এর ফলে তাদের নিন্দার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

           (শ্রী বাবলু মালাকার)

Post a Comment

0 Comments