Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐশ্বরিক শক্তির লীলা

                          ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতি নহুষের পুত্র। যযাতির যদু, তুর্ব্বসু, দ্রুহ্যু, অণু ও পুরু এই পাঁচ পুত্র। তন্মধ্যে যদু সর্বজ্যেষ্ঠ, শ্রীকৃষ্ণ এই যদুবংশে মহাত্মা বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন বসুদেবের পুত্র বলে তিনি বাসুদেব নামে খ্যাত ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় কংসের কারাগারে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

প্রায় আজ থেকে ৫২০০ বছর পূর্বে এই ভূখণ্ডে জন্মে ছিলেন এক যোগেশ্বর সনাতন ধর্মের প্রাণপুরুষ পরমেশ্বরের অবতার হয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি একজন আর্দশ নেতা, রাজনীতিক, রাষ্ট্রজ্ঞ, ধর্মসংস্থাপক এবং মুক্তিদাতা ও ধর্মরাজ্য সংস্থাপক ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বহুগ্রন্থে বহু রকমের কথা বলে তার জীবনকে পৌরাণিক, অলৌকিক ও কিছুটা অবিশ্বাস্য করে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন গ্রন্থ মতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলাবিলাস করেন। ১২৫ বছর এই ধরাধামে অবস্থান করে বৈকুন্ঠে গমন করেন। মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে তিনি ইহধাম ত্যাগ করে অন্তর্ধান করেন। সেই দিনই কলিযুগের প্রবেশ ঘটে, খ্রিস্টপূর্ব ৩১০১ সালে কলিযুগ আরম্ভ হয়। বর্তমান ২০২২ খ্রিস্টাব্দ তা হলে কলির বয়স ৩১০১ + ২০২২ = ৫১২৩ বছর শ্রীকৃষ্ণের অর্ন্তধানের দিন কলির আবির্ভাব হয়। শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলা করেছেন তা হলে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ৫১২৩ + ১২৫ = ৫২৪৮ বছর পূর্বে হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৮ বছর পূর্বে এই ধরাধামে আর্বিভূত হয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের ১০৮ টি নাম আছে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমগ্র জীবন সম্পর্কে জানতে হলে মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণ গ্রন্থ গুলো পড়তে হবে। এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে জানতে বঙ্কিমচন্দ্রের "কৃষ্ণচরিত্র" ও অধ্যাপক নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ীর উপন্যাস তুল্য জীবনী পড়তে পারেন। তবে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণটিতে শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে সুতরাং আলঙ্কারিক অর্থ বুঝে পড়তে না পারলে না পড়াই ভালো। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ জুলাই, বুধবার। ৩১০১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের চৈত্রমাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে (১৭ ও ১৮ই ফেব্রুয়ারীর মধ্যরাতে) শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু ও বর্তমান কলিযুগের সূচনা হয়েছে। এত প্রাচীন এক ঐতিহাসিক মহামানবের প্রামান্য জীবনী পাওয়া অসম্ভব! তবে বিশ্ববিখ্যাত বহু মানুষের শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে প্রবন্ধ আছে। অতএব যত পড়বেন ততই ভালোভাবে জানতে পারবেন।

ড.মহানামব্রত ব্রহ্মচারী বিরচিত শ্রীমদ্ভাগবত এর দশম স্কন্ধ (৫ম খন্ড) গ্রন্থের ভূমিকা অংশে বিধৃত আছে—

          যস্মিন্ কৃষ্ণো দিবং যাত তস্মিন্নেব তদাহনি।
          প্রতিপন্নং কলিযুগমিতি প্রাহ পুরাবিদঃ।।

দশম স্কন্ধের এই শ্লোক থেকে জানা যায়, শ্রীকৃষ্ণ যেদিন অন্তর্ধান করেন সেই দিনই কলি যুগ আরম্ভ হয়। বর্তমান ২০২২ খ্রিস্টাব্দে শ্রীকৃষ্ণা ৫২৪৮। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ ৩২২৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

সনাতন ধর্মে শ্রীকৃষ্ণ সর্বব্যাপী। ধর্মে, অনুষ্ঠানে, আচারে, জীবন পরিচালনায় শ্রীকৃষ্ণ ভিন্ন জীবন অচল। মানুষের মাঝে আদর্শ পুরুষের প্রতীক স্বরুপ তার জীবন বিধৃত হয়েছে। এই পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের জীবন বৃত্তান্ত বহু গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।
যেমন-  ভাগবত, মহাভারত, হরিবংশ, ব্রহ্মপুরাণ, পদ্মপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, বায়ুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, বামনপুরাণ ও কূর্মপুরাণ।

শ্রীকৃষ্ণের সম্পূর্ণ জীবন ভাগ করা হয়েছে—
▫️ বৃন্দাবন— (বাল্যকাল)
▫️ মথুরা বাসকালে— (শিক্ষার্থী শ্রীকৃষ্ণ)
▫️ দ্বারকাবাসী শ্রীকৃষ্ণ— (রাজা শ্রীকৃষ্ণ)
▫️ মহাভারতের ধর্মরাজ্য স্হাপনের শ্রীকৃষ্ণ— (রাজনীতিবিদ শ্রীকৃষ্ণ)
▫️লীলাময় শ্রীকৃষ্ণ—(প্রাণের মায়াময় শ্রীকৃষ্ণ)
▫️ শ্রীকৃষ্ণের শেষ জীবন।

                শ্রীকৃষ্ণের ছোটবেলার তত্ত্ব
শ্রীকৃষ্ণ শ্রীবৃন্দাবনে ১০ বছর ৮ মাস ছিলেন। এরপর অক্রুর তাকে নিয়ে আসেন বলরাম সহ মথুরায়। সেখানে কংসকে বধ করে তার পিতা উগ্রসেনকে রাজা করে মথুরার শাসনভার তার হাতে দিয়ে দুই ভাই সন্দীপনী মুনির পাঠশালায় ভর্তি হলেন। লেখাপড়া শেষ করে পুনরায় মথুরার শাসনভার গ্রহণ করেন বৃদ্ধ উগ্রসেন অশক্ত হওয়াতে। কিন্তু এদিকে কংসের শ্বশুর মহাবীর জরাসন্ধ শ্রীকৃষ্ণকে মারবার জন্য পুনঃ পুনঃ মথুরা আক্রমণ করতে লাগল। শ্রীকৃষ্ণ চিন্তা করলেন যতদিন আমি মথুরায় থাকব ততদিন জরাসন্ধ মথুরা আক্রমণ করে মথুরাবাসীদের বিপর্যস্ত করবে। তাই জরাসন্ধের হাত থেকে মথুরাবাসীদের বাঁচাতে দুই ভাই চলে গেলেন দ্বারকায়। দ্বারকায় গিয়ে রাজত্ব স্হাপন করে সমগ্র ভারতে একটি অখন্ড ধর্ম রাজ্য স্হাপনের বিষয় তিনি চিন্তা করলেন।সে চিন্তার ফলশ্রুতিই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে পান্ডবগণ যখন স্বরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেন তখন শ্রীকৃষ্ণ আবার চলে এলেন দ্বারকায়।তার শেষ জীবন দ্বারকায় কেটেছিল।

শ্রীকৃষ্ণের ১২৫ বৎসর জীবৎকাল দীর্ঘ সময়। শ্রীকৃষ্ণের জীবন কর্মবহুল ছিল বলেই তার ভক্তগণ তাকে নিয়ে নানারুপ কাহিনীর সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। সেসব কাহিনীই বিবৃত হয়েছে পুরাণাদিতে এবং সেসব কাহিনী প্রায় সবই তার ঐশ্বরিক শক্তিসম্পন্ন লীলাকাহিনী। স্বধর্মনিষ্ঠ, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, ভূগোলবিদ, ভক্তরক্ষাকারী, লৌকিক জ্ঞান সম্পন্ন কৃষ্ণকে পাওয়া যায় মহাভারতে। যারা লীলাময় শ্রীকৃষ্ণকে পেতে চান, তাহলে সকল সনাতনীদের বলছি আপনারা পুরাণ পাঠ করে কৃষ্ণের লীলা সম্বন্ধে জানতে পারবেন। মধুর শ্রীকৃষ্ণকে পেতে হলে শ্রীমদ্ভাগবতই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এটি কিন্তু পুরাণেরই অন্তর্গত। সনাতন ধর্মের সকলকে এই গ্রন্থ পাঠের অনুরোধ রইলো।

শ্রীকৃষ্ণ কাকে কততম বছর বয়সে বধ করেছিলেন তাদের নামঃ—

✴ ১ মাস বয়সে শ্রীকৃষ্ণ পুতনাকে বধ করেছিলেন।
✴ ৩ মাস বয়সে শ্রীকৃষ্ণ শকটাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ১ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ তৃনাবর্তাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ২ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ বৎসাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ৪ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ বকাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ৫ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ অঘাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ৬ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ ধেনুকাসুর বধ করেছিলেন।
✴ ৭ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ গিরিগোবর্ধন ধারণ করেছিলেন।
✴ ৮ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ সলীলা প্রদর্শন করেছিলেন।
✴ ১২ বছর বয়সে শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করেছিলেন।

সবাইকে বলতে চাই আমরা যেন শ্রীকৃষ্ণকে চিনতে ও জানতে পারি, তাঁর নির্দেশনা ও জীবনাদর্শ যেন হৃদয়ে ধারণ করতে পারি এই প্রার্থনা হোক আমাদের কাম্য, আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শেষ জীবনের বিধৃত তত্ত্ব হয়েছে হরিবংশ পুরাণে, এটিও পড়ে দেখতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণের জীবনী সম্পর্কে সম্পূর্ণ তত্ত্ব হরিবংস পুরাণে পাওয়া যায়।

                     শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কেন?
আমি জন্মরহিত, অবিনশ্বর এবং সর্বভূতের শক্তিধর কাল হইয়াও স্বীয় প্রকৃতিতে অনুষ্ঠান করিয়া আত্মমায়ায় আবির্ভূত হই। (গীতা, ৪/৬)

হে ভারত ! যখনই যখনই ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, আমি সেই সেই সময়ে নিজেকে সৃষ্টি করি (দেহ ধারণপূর্বক অবতীর্ণ হই)। (গীতা, ৪/৭)

সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই। (গীতা, ৪/৮)

ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি।

শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ,
হর হর মহাদেব।


Post a Comment

0 Comments