Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

পূজায় পশুবধ ও পশুবলি কি শাস্ত্র স্বীকৃত?

আমাদের সনাতনধর্ম পঞ্চম মতের সমন্বয়ের বিশাল বৈদিক ধর্ম সৌর, শাক্ত, শৈব, গানপত্য, বৈষ্ণব এই পাঁচটি মত ঘিরে সনাতন ধর্মের পূজা পদ্ধতি প্রধানত দুইটি ধারায় বিকশিত।

১) বৈদিক শাস্ত্রাচার পদ্ধতি।
২) তান্ত্রিক শাস্ত্রাচার পদ্ধতি।

আমাদের সনাতন ধর্মে এই দুইটি শাস্ত্রাচার পদ্ধতি আছে। এই দুইটি পদ্ধতিতেই পশুবলির বিধান দেয়া আছে। শুধুমাত্র বৈষ্ণব পুরাণ মতে শাস্ত্রাবলিতে পশুবলির আবশ্যকতা খুব একটা পাওয়া যায় না তাই বৈষ্ণব মতে নিষিদ্ধ তবে বলি বৈদিক শাস্ত্রে ও তান্ত্রিক শাস্ত্রে স্বীকৃত হয়েছে। এবং সারা পৃথিবীর হিন্দু সম্প্রদায় প্রধানত তিনটি প্রধান মতে বিভক্ত আছে শাক্ত, শৈব, এবং বৈষ্ণব। এই তিনটি মতের মধ্যে বৈষ্ণব মতটিকে বাদ দিলে অন্যদুটি মতে পূজা উপাসনার অত্যাবশ্যকীয় ভাবেই পশুবলির বিধান দেয়া আছে। সনাতন ধর্মে বলির খড়্গ হলো মায়ের সকল শক্তির প্রতীক। তাইতো এই খড়্গের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীচণ্ডীতে একটি শ্লোকে উল্যেখ আছে—

অসুরাসৃগ্ বসাপঙ্কচর্চিতস্তে করোজ্জ্বলঃ।
শুভায় খড়্গঃ ভবতু চণ্ডিকে ত্বাং নতা বয়ম্।।
               (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১১/২৮)

অর্থাৎ— "হে মা চণ্ডিকে, তোমার হাতে শোভিত প্রজ্বলিত তেজোময়, দুরাচারী অসুরের রক্ত ও মেদলিপ্ত খড়গই আমাদের একমাত্র সহায় হোক ; এ খড়্গ দ্বারাই তুমি আমাদের সকল বিঘ্ননাশ করে কল্যাণসাধন এবং রক্ষা করো। মাগো তোমায় প্রণাম।"

শুধু এই নয় শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দ্বাদশ অধ্যায়ের
(১০, ১১, ২০) শ্লোকে সহ একাধিক স্থানেই দেবীপুজায় পশুবলির কথা উল্যেখ আছে—

বলি প্রদানে পূজায়ামগ্নিকার্যে মহোৎসবে।
সর্বং মমৈতচ্চরিতমুচ্চার্যং শ্রাব্যমেব চ।।
             (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১২/১০)

অর্থাৎ— "বলিদান, পূজা, হোম তথা মহোৎসবের শুভ দিনে আমার এই চরিতকথা সম্পূর্ণরূপে পাঠ ও শ্রবণ করা কর্তব্য।"

জানতাহজানতা বাপি বলিপূজাং তথা কৃতাম্।
প্রতীচ্ছি ষ্যাম্যহং প্রীত্যা বহ্নিহোমং তথা কৃতম্।
           (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১২/১১)

অর্থাৎ— "মানুষ বিধি জেনে বা না জেনেও আমার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বলিদান, পুজা বা যজ্ঞাদি যা করিবে, আমি অতীব প্রীতির সাথে তা গ্রহণ করব।"

সর্বং মমৈতন্মাহাত্ম্যং মম সন্নিধিকারকম্।
পশুপুষ্পার্ঘ্যধূপৈশ্চ গন্ধদীপৈস্তথোত্তমৈঃ।।
            (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১২/২০)

অর্থাৎ— "পশু, পুষ্প, অর্ঘ্য, ধূপ, দীপ, গন্ধাদি উত্তম উপাচারে পূজা করলে, ব্রাহ্মণ ভোজনাদি করালে, যাগযজ্ঞাদি ক্রিয়াকর্ম, প্রতিদিন অভিষেক, নানাপ্রকার অন্যান্য ভোজ্য, অর্পণ এবং দান ইত্যাদি দ্বারা এক বৎসর পূজা করলে আমি সন্তুষ্ট হই।"

একইভাবে শৈবদের গ্রন্থাবলীতেও পশুবলির বিধান আবশ্যকীয়ভাবে দেয়া আছে।

অনির্বাণ (বেদ মীমাংসা, ২য় খন্ড পৃঃ ৪৪১) উল্যেখ আছে—

অতএব এ সময়ের লোকরাও তাদৃশ মৃগ ও পক্ষী বধ করিতে পারেন। তাগ্নি যজ্ঞে পশুবধ অবশ্য- কর্তব্য ছিল। কিন্তু তাতে মাত্র একটি পশু বলি হত। সোমযাগে একাধিক পশু ব্যবহৃত হত। কিন্তু তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল। তাছাড়া এ যাগ অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য হওয়ায় খুব কম সংখ্যায় অনুষ্ঠিত হত।

            "অশ্বমেদ যজ্ঞের ফল স্বর্গলাভ।।"
            অশ্বমেধ যজ্ঞের বিবরণ আমরা পাই।

কালিকা পুরাণের উল্যেখ আছে—

"বলিভিঃ সাধ্যতে মুক্তির্ব্বলিভিঃ সাধ্যতে দিবং।
বলিদানেন সততং জয়েচ্ছত্রূন্নৃপান্নৃপঃ।।
           (কালিকা পুরান, ৬৭/৬)

এইবার আসা যাক অনেকেই বলি কে হিংসাত্মক কার্য্য বলে গন্য করছেন। হুংকার দিয়ে বলছেন অহিংসা পরম ধর্ম্ম। তাই আসুন হিংসার সম্পর্কে কিছু আলোচনা নিয়ে দেখা যাক—

হিনস্ ধাতু হইতে হিংসা শব্দ সাধিত হইয়াছে। হিনস্ ধাতুর অর্থ হনন বা বধ,, কাজেই হিংসা শব্দের ধাতু প্রত্যয় গত অর্থ বধ। যখন বধের অভাব অর্থাৎ বধ হয় না তখনই অহিংসা বুঝায়। শাস্ত্রে হিংসা শব্দের অন্যান্য অর্থে বহুল ব্যবহার দেখা যায়। হনন ব্যতিরেকেও শাস্ত্র হিংসা শব্দ ও হনন হইলে ও অহিংসা শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন।।

শ্রীধর স্বামী তৎকৃত টীকায় উল্যেখ আছে—

"ব্রহ্মচর্য্য অহিংসাঞ্চ সমত্বং দ্বন্দসংজ্ঞয়োঃ।।"
(শ্রীমদ্ভাগবত, ১১/৩/২৪)
এখানে অহিংসা ভূতের প্রতি অদ্রোহ।

"হিংসা তদ্ভিমানেন দণ্ড পারুস্যয়োর্যথা।।"
(শ্রীমদ্ভাগবত, ৭/১/২৩)
এখানে হিংসা শব্দে শত্রুতা।

"যস্যাত্মা হিংস্যতে হিংস্রৈর্ষেন কিঞ্চিৎ যদৃচ্ছয়া।।"
(ভাগবত, ১১/১১/১৫)
এখানে হিংসা শব্দের পীড়া অর্থ করিয়াছেন।

আচার্য্য শঙ্কর এবং শ্রীধর স্বামী উভয় মহাত্মাই আছে—

"অনুবন্ধং ক্ষয়ং হিংসা মনপেক্ষ্য চ পৌরুষং।।
             (গীতা, ১৮/২৫)

এখানে— হিংসার অর্থ পরপীড়া করিয়াছেন।।
যাই হোক যজ্ঞে পশু বলিকে হিংসাত্মক কার্য হিসেবে গন্য করা হয় না।

নীতিশাস্ত্রে উল্যেখ আছে—

"আহবেষু মিথোহন্যোন্যং জিঘাংসা মহীক্ষিতঃ যুদ্ধমানাঃ পরং শক্ত্যা স্বর্গ যান্ত্যপরাঙ্মুখা।
যজ্ঞেষু পশবো ব্রক্ষণ হন্যন্তে সততং দ্বিজৈঃ সংস্কৃতাঃ কিল মন্ত্রৈশ্চ তেহপি স্বর্গমবাপ্নুবন্।।"

অর্থাৎ— কোন রাজা অথবা ক্ষত্রিয় যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ঈষংন্বিত/ঈর্ষান্বিত শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ রত হন, মুত্যুর পর তিনি স্বর্গলোকে গমন করেন, তেমনই ব্রাহ্মণ মন্ত্রোচ্চারণ করে যজ্ঞে পশুবলি দিলে স্বর্গ লাভ করেন তেমনি যজ্ঞ আয়জন কারি দেবতাদের আর্শিবাদ প্রাপ্ত হন ও উচ্চমার্গ লাভ করেন তাই যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে হত্যা করা এবং যজ্ঞে পশু বলি দেওয়াকে হিংসাত্মক কার্য বলে গন্য হয় না কারন এই ধর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে সকলেই লাভবান ও আর্শিবাদ প্রাপ্ত হয়।।

আদি পিতা মনু বলেছেন—

"যা বেদ বিহিতা হিংসা নিয়তাস্মিংশ্চরাচরে।
অহিংসামেব তান্বিদ্যাদ্বেদাদ্ধর্ম্মোহি নির্ব্বভৌ।।
                 (মনু, ৫/৪৪)

অর্থাৎ— বেদ হতেই ধর্মের উৎপত্তি বা প্রকাশ অতএব বেদানুসারে এই চরাচর জগতে যে হিংসার (জীববধের) বিধান আছে তাহা অহিংসা বলিয়া জানিবে,

                  "বধ জনিত পাপ হয় না।।"

বিষ্ণু সংহিতায় উল্যেখ আছে—

"যজ্ঞার্থং পশবঃ সৃষ্টা স্বয়মেব স্বয়ম্ভুবা।
যজ্ঞোহি ভূত্যৈ সর্ব্বস্য তস্মাদ যজ্ঞে বধোহবধঃ।।

অর্থাৎ— যজ্ঞ সম্পাদনের জন্যই স্বয়ং ব্রহ্ম পশু দিগকে সৃজন করিয়াছেন, এবং যজ্ঞ সর্ব্ব সাধারণের হিতকল্পে। অতএব যজ্ঞের নিমিত্তে যে পিশু বলি হয় তাহা বধ জনিত পাপমুক্ত।

বশিষ্ঠ সংহিতার ৪র্থ অধ্যায়ে উল্যেখ আছে—

না কৃত্বা প্রানিনাং হিংসাং মাংস মুৎপদাতে কচৎ।
ন চ প্রানিবধঃ স্বর্গ্য স্তষ্প্রাদ যাগে বধো ইবধঃ।।

অর্থাৎ— প্রানি হিংসা না করিলে মাংস উৎপন্ন হয় না, আবার প্রানি বধ স্বর্গজনক নহে, এই জন্যই যজ্ঞের নিমিত্তে যে বধ হয় তাহা অবধ বা অহিংসা।

            "অশ্বমেদ যজ্ঞের ফল স্বর্গলাভ।।"

দেবীভাগবত পাঠক্রমে জানা যায়—

দেব্যগ্রে নিহতা যান্তি পাশবঃ স্বর্গমব্যয়ং।
ন হিংসা পশু জাতত্র নিঘ্নতাং তৎকৃতেহনঘ।।"

অর্থাৎ— "হে অনঘ, দেবীর সম্মুখে যে পশুকে নিধন (বলি প্রদান) করা যায়, সেই সমস্ত পশু অক্ষয়, স্বর্গলাভ করে। এবং সেই হনন হিংসা নয়। যজ্ঞে প্রত্যক্ষ পশুবধ দেখা যায়, সেই বধ অহিংসা।।"

শ্রীমদ্ভাগবত গীতা (শঙ্করভাষ্য) এর অষ্টাদশ অধ্যায়ের ৫ম শ্লোকের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—

যজ্ঞদান্তপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ।
যজ্ঞোদানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্।।
               (গীতা, ১৮/৫)

অর্থাৎ— (পঞ্চমহা) যজ্ঞ, দান এবং তপঃরূপ কর্ম্ম ত্যাজ্য নয়, তা অবশ্যই করনীয়ই। যজ্ঞদানতপঃ কর্ম মনীষীদের পাবন অর্থাৎ চিত্তশুদ্ধকারক হয়।।

এই স্থলে অনেকেই ভাবতে পারেন, এই শ্লোক কেন উল্যেখ করা হল, দেখুন এখানে পঞ্চযজ্ঞের কথা বলা হয়েছে।

শঙ্কর ও শ্রীধর স্বামী বলেছেন—

"পঞ্চযজ্ঞাদিভিরদত্ত্বা",
পঞ্চযজ্ঞাদির দ্বারা না দিয়া খায়, সে চোর।
পঞ্চ যজ্ঞ যথা।

অধ্যাপনং ব্রহ্মযজ্ঞঃ পিতৃযজ্ঞস্তু তর্পণম্।
হোমো দৈবো বলির্ভৌতো নৃযজ্ঞোহতিথিভোজনম্।। 

অর্থাৎ— "ব্রহ্মযজ্ঞ বা অধ্যাপন, পিতৃযজ্ঞ বা তর্পণ, দৈব যজ্ঞ বা হোম, ভূতযজ্ঞ বা বলি, এবং নরযজ্ঞ বা অতিথি-ভোজন। ইহা স্মরণ রাখা কর্ত্তব্য।।"

শ্রীমদ্ভাগবত প্রধান শ্রীধর স্বামী ভাগবতের একাদশ স্কন্ধের পঞ্চম অধ্যায়ের ত্রয়োদশ শ্লোকের টীকায় বলির বৈধতা স্বীকার করিয়া বলেছেন—

তথা পশোরপি আলভনমেব বিহিত ন তু হিংসা।
অয়মর্থঃ দেবতোদ্দেশেন যৎ পশুহননং তদালভন বায়ব্যং শ্বেত্মালভেতেত্যাদি শ্রুতের্ণতু হিংসা।।

এখানে— "পশুর আলভন করিবে" বলা হয়ছে। দেবতার উদ্দেশ্যে যে পশু বধ করা হয় তাহার নাম আলভন।বায়ূদেবতার নিমিত্তে শ্বেত ছাগল আলভন অর্থাৎ বলি দিবে এইরূপ শ্রুতি অনুশারে যে বলি দেয়া যায় তাহা হিংসা নয়।।"

আচার্য্য শঙ্কর ঈশোপনিষদের ১৮ শ্লোকের ব্যাখ্যায় বলেছেন—
"ন হিংস্যাৎ সর্ব্বাভূতানী"
ইতি "শাস্ত্রাদবগতং পুনঃ শাস্ত্রেনৈব বাধ্যতে"
ইতি "অধ্বরে পশুং হিংস্যাৎ" ইতি

শ্রীভাষ্যঃ— "অগ্নিষোমিয়াদেঃ সংজ্ঞপনস্য স্বর্গলোক প্রাপ্তি হেতুতয়া হিংসাত্বভাবাৎ পশোহি সংজ্ঞপননিমিত্তাং স্বর্গলোকপ্রাপ্তিং বদত্তং শব্দমাননত্তিযজ্ঞেহিংসিতঃ পশুর্দিব্যদেহোভূত্বা স্বর্গলোকং যাতীতি শব্দার্থং কুর্ব্বন্তি,, হিরণ্য শরীর উর্দ্ধস্বর্গাৎ লোকমেতী'ত্যাদিকং অতি শয়িতাভ্যুদয়সাধনভূতো ব্যাপারোহল্পদূঃখদোহপি ন হিংসা প্রত্যুত রক্ষণমেব।।"

শ্রীভাষ্যকৃত রামানুজ স্বামী বলেছেন—

অগ্নি, চন্দ্র প্রভৃতির নিমিত্তে যে পশু বলি দেয়া যায় বেদ বাক্যমতে সেই সমস্ত নিহত পশু তদ্রূপ বধ জন্য স্বর্গলাভ করে। কাজেই বধ জন্য তাহাদের অনিষ্টের পরিবর্ত্তে উপকার করা হয়।

        অতএব, "যজ্ঞার্থ বলি নিষিদ্ধ নয়।"

তৈত্তিরীয় সংহিতায় উল্যেখ আছে—

"বায়ব্যং শ্বেতচ্ছাগল্মালভেত।।
(তৈত্তিরীয় সংহিতা, ২/১/১/১)

অর্থাৎ— বায়ূ দেবতার নিকট শ্বেত ছাগ বলি দেবে।
(ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, ২/৬/২৮৪) এবং
(ব্রহ্মসূত্র ৩/১/২৫) উভয় গ্রন্থে উল্যেখ্য আছে।

"অগ্নীষোমীয়ং পশুমালভেত।।"
অর্থাৎ— অগ্নি ও চন্দ্র দেবতার নিকট পশু বলি দেবে।

"যজ্ঞার্থে পশু সৃষ্ঠায় যজ্ঞার্থে পশু নিধনং।।"

পৌরানিক গ্রন্থের উল্যেখ আছে—

"বলিদানং ততঃ পশ্চাৎ কুর্য্যাদ্দেব্যাঃ প্রমোদকম্।
মোককৈর্গজবক্তঞ্চ হবীষা তোষয়েদ্ধরিম।। 
তৌর্যত্রিকৈশ্চ নিয়মৈঃ শঙ্করং তোষয়েদ্ধরিম।
চন্ডিকাং বলিদানেন তোষয়েৎ সাধকঃ সদা।।"

অর্থাৎ— মূল পুজার পর দেবীর প্রমোদজনক বলি দিতে হবে। গনপতিকে মোদক দ্বারা,, শ্রীহরি কে ঘৃত দ্বারা, শংকর কে গীতবাদ্যদ্বারা। আর আদ্যাশক্তি চণ্ডীকে বলি দান দ্বারা সন্তুষ্টি করা যায়।।

"ছাগলাঃ শরভাশ্চৈব নরশ্চৈব যথাক্রমাং।
বলির্মহাবলিরিতিবলয়ঃ পবিকীর্ত্তিকা।।"

অর্থাৎ— ছাগল, শরভ, মনুষ্যইহারা করে যথাক্রমে বলি, মহাবলি, অতিবলি হিসেবে প্রসিদ্ধ।।

"ততঃ বলিনাং রুধিরং তোয়াসৈন্ধবসৎফলৈ।।"
অর্থাৎ - বিমল খড়্গ দ্বারা বলিচ্ছেদ/শিরচ্ছেদ কর।।

"ঔঁ ঐঁ হ্রীং শ্রীং কৌশিকীতি রুধিরং দাপয়ামি তে।।"
অর্থাৎঃ- ঔঁ ঐঁ হ্রীং শ্রীং কৌশিকী বলে রুধীর দ্বারা পৃথি লাভ কর।

বারাহি তন্ত্রে উল্যেখ আছে—

"চন্ডী পাঠের পর দেবীর উদ্দেশ্যে বলি প্রদান করিতে হবে।

"কুলার্ণব তন্ত্রে উল্যেখ আছে—

"দেবীর আনন্দ লাভ হয়।
সুতরাং তান্ত্রীক পূজায় বা শক্তি সাধনায় বলি আবশ্যক।।

"মহানির্বান তন্ত্রে উল্যেখ আছে—

"মাংশ তিন প্রকার, (১) জলচর (২) স্থলচর (৩) আকাশচর এই তিন প্রকার মাংশ যেখান থেকে হোক, যার মাধ্যমে আনিত হোক তৎস্মুদয়। দেবতার প্রিতি লাভ হবে। তবে বলি শুধু পুরুষ প্রানীর হবে। কদাপি কোন নারী প্রানির বলি হবে না।

মনুসংহিতা পঞ্চম অধ্যায় এর মধ্যে উল্যেখ আছে—

"যজ্ঞর্থং ব্রাহ্মণৈর্ব্বধ্যা প্রশস্থা মৃগপক্ষিণঃভৃত্যানাঞ্চৈব বৃত্ত্যর্থমগস্তো হ্যাচরৎ পুরা।।"

অর্থাৎ— ব্রাহ্মনরা যজ্ঞকর্মের জন্য অথবা অবশ্য পুষ্য পিতা প্রভৃতি পরিবার বর্গের জন্য শাস্ত্রবিহিত প্রশস্থ মৃগ ও পক্ষী বধ করিতে পারেন। কেননা অগস্ত্য মুনি এ প্রকার কার্য করিয়াছিলেন।।

"বভূবুর্হি পুরোডাশা ভক্ষ্যানাং মৃগপক্ষুনাম্।
পুর্বানেষ্বপি যজ্ঞেষু ব্রহ্মক্ষত্রসবেষু চ।।"

অর্থাৎ— পূর্ব্ব পূর্ব্ব ঋষিরা ব্রহ্মসত্র প্রভৃত্তি যে সমুদয় যজ্ঞ কর্ম্ম করিয়া ছিলেন, তাহাতে তাঁহার ভক্ষমৃগ মাংস ও পক্ষিমাংস পুরোডাশ প্রস্তুথ করিয়া হোম করিয়া ছিলেন।

ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!

জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব

                     শ্রী বাবলু মালাকার
           (সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম)

                            (#তথ্যসূত্র)
বলি নিয়ে আরো শাস্ত্রীয় রেফারেন্স উল্লেখ করেছি নিচের দুইটি লিংক দেওয়া হল এর মধ্যেই ক্লিক করুন পেয়ে যাবেন—

ধর্মে #বলিপ্রথা এবং #মাংসাদি আহার কি নিষিদ্ধ?
লেখকঃ— (শ্রীকুশল চক্রবর্ত্তী)
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2077124252583061&id=100008565188449

    (বলি আছে কি নেই আপনি স্বয়ং বিচার করুন)। 

Post a Comment

0 Comments