শরৎকালেই মা দুর্গার মহাপূজা
শরৎকালে মহাপূজা ক্রিয়তে চ বার্ষিকী।
তস্যাং মমৈতন্মাহাত্ম্যং শ্রুত্বা ভক্তিসমন্বিতঃ।।
(শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১২/১২)
অর্থাৎ শরৎকালে যে বার্ষিক মহাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, সেই সময় আমার এই মাহাত্ম্য যে ভক্তিসহকারে শ্রবণ করে, সেই মানুষ আমার কৃপায় সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত হয় এবং ধন, ধান্য ও পুত্রাদি লাভ করে— এতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।
তামগ্নিবর্ণাং তপসা জ্বলন্তীং বৈরোচনীং কর্ম্ফলেষু জুষ্টাম্।
দুর্গাং দেবীং শরণমহং প্রপদ্যে সুতরসি তরসে নমঃ।।
(কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দশম প্রপাঠক)
অর্থাৎ আমি সেই বৈরোচনী, জ্যোতির্ময়ী অগ্নিবর্ণা, স্বীয় তাপে শত্রুদহনকারিণী, জীবের কর্মফলদাত্রী দুর্গাদেবীর শরণ নিলাম। হে সংসার-ত্রাণকারিণি দেবী তুমি আমার পরিত্রান করো, তোমায় প্রণাম।
আগের দিনে দুর্গাপূজা ধ্যানমন্ত্রের বর্ণনানুসারে মায়ের প্রতিমা জগজ্জননীরূপে ও মাতৃরূপী পরমব্রহ্মেরই উপসনা করেন এবং শুদ্ধ হৃদয়ে মাতৃ আরাধনা করতেন।
ঋগ্বেদের ১০/১২৫- ১ থেকে ৪ দেবীসূক্ত নিচে দেওয়া হলো—
অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহমাদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।
অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহমিন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোমা।।
অনুবাদঃ— আমি দুষ্টের দমকারী এবং পৃথিবী আদি সমস্ত লোকের সাথে বাপ্য। আমি ১২ মাস এবং সমস্ত তেজোময় পদার্থের সাথে ব্যাপ্য। দিন এবং রাত্রী উভয় কে আমিই ধারণ করি। সূর্য ও অগ্নি, দ্যুলোক ও পৃথিবীলোক উভয় কেও আমিই ধারণ করি। (১)
অহম সোমাহনসং বিভর্ম্যহং ত্বষ্টারমুত পুষণং ভগম্।
অহং দধামি দ্রবণং হবিষ্মতে সুপ্রাব্যে যজমানায় সুন্বতে।।
অনুবাদঃ— আমি সব দুষ্ট কে নাশকারী শাসক কে ধারণ করি। আমি কান্তিমান সূর্য কে এবং সর্বপোষক ভূমি কে এবং সমস্ত ঐশ্বর্য্য কে ধারণ করি। আমি অন্নাদি হবিষ্য পদার্থ সম্পন্ন দানশীল যজ্ঞকর্তা এবং সুখ পূর্বক উত্তম রীতি দ্বারা সবাইকে রক্ষাকারী উপসনাশীল, ঐশ্বর্য্যযুক্ত শাসক কে ধন প্রদান করি। (২)
অহং রাষ্ট্রী সঙ্গমনী বসুনাং চিকিতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়ানাম্।
তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরুত্রা ভূরিস্থাত্রাং ভূর্যবেশ্যন্তীম্।।
অনুবাদঃ— আমি রাষ্ট্রের স্বামিনী। আমি নানা ঐশ্বর্য্য কে প্রাপ্ত করানোকারী, যজ্ঞ দ্বারা উপাস্য, সব থেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানবতী। সেই আমাকেই বহু প্রকার দ্বারা বিদ্যমান এবং বহু তত্ব বা শক্তির প্রদানকারী আমাকেই বিদ্বান জন বিবিধ প্রকার দ্বারা প্রতিপাদন করেন। (৩)
ময়া সো অন্নমত্তি যো বিপশ্যতি যঃ প্রাণিতি য ই শৃণোত্যুক্তম্।
অমন্তবো মাং ত উপ ক্ষিয়ন্তি শ্রুধি শ্রুত শ্রুদ্ধিবং তে বদামি।।
অনুবাদঃ— আমার দ্বারা অনুমোদিত তিনি ভোজন করেন, যিনি বিশিষ্টরূপে দেখেন, যিনি প্রাণ ধারণ করেন, যিনি উক্ত শ্রবন করেন। আমাকে অমান্যকারী তিনি নাশ প্রাপ্ত হয়, তোমাকে শ্রদ্ধাযুক্ত সত্যবচন বলছি - হে বিশ্রুদ্ধ শ্রবন করো। (৪)
শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ,
হর হর মহাদেব।
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার