Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

বেদ কি ঈশ্বর হতে সৃষ্টি?


মহর্ষি ব্যাসদেব কি বেদকে বিভক্ত করেছেন নাকি এর পূর্ব হতেই বেদ বিভক্ত ছিল আসুন আমরা এই বিষয়ে দেখা নেওয়া যাক—

বেদ এই একমাত্র ঈশ্বরীয় জ্ঞান যা ঈশ্বর হতে সৃষ্টি। বেদ এর জ্ঞানই ঈশ্বরের শক্তি বলতে—

অগ্নি, বায়ু, আদিত্য, অঙ্গিরা।

১) অগ্নি হতে ঋগ্বেদ।
২) বায়ু হতে যজুর্বেদ।
৩) আদিত্য হতে সামবেদ।
৪) অঙ্গিরা হতে অথর্ববেদ।

শতপথ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে—

অগ্নের্ঋগবেদো বায়োর্যজুর্বেদঃ সূর্যাৎ সামবেদ।
(শতপথ ব্রাহ্মণ, ১১/৪/২/৩)

অর্থাৎ— অগ্নি হতে ঋগ্বেদ, বায়ু হতে যজুর্বেদ এবং আদিত্য হতে সামবেদ প্রাপ্ত হয়েছেন।

অনেকে মনে করেন মহর্ষি ব্যাসদেব বেদকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। এইজন্য তার নাম ব্যাসদেব হয়েছে। কিন্তু বেদেই স্পষ্ট রয়েছে যে বেদ পরমাত্মা কর্তৃক চারভাগে বিভক্ত হয়েছে—

তস্মাদযজ্ঞ সর্ব্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে। ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদযজু তস্মাদ জায়তঃ।।
(যজুর্বেদ, ৩১/৭)

পদার্থঃ— হে মনুষ্য! তোমরা কি চাও (তস্মাত) সেই পূর্ণ (যজ্ঞাত) অত্যন্ত পূজনীয় (সর্বহুত) যার অর্থ সব লোক ও সকল পদার্থ প্রদান করতে এবং সমর্পন করতে সেই পরমাত্মা হতে (ঋচঃ) ঋগ্বেদ (সামানি) সামবেদ (জজ্ঞিরে) উৎপন্ন হয়েছে। (তস্মাত) সেই পরমাত্মা হতে (ছন্দাংসি) অথর্ববেদ (জজ্ঞিরে) উৎপন্ন হয়েছে। এবং (তস্মাত) সেই পুরুষ হতে (যজুঃ) যজুর্বেদ (অজায়ন) উৎপন্ন হয়েছে। তোমরা সেই পরমাত্মাকে জানো।

অর্থাৎ— হে মনুষ্য! সেই পুর্ণ অত্যন্ত পুজনীয়, যার জন্য সমস্ত পদার্থ সমর্পন করে, তোমরা সবাই, সেই সর্বপূজ্য পরমাত্মা হতে ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ আর অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে। সেই পরমাত্মার উপাসনা করো। বেদ অধ্যয়ন করো এবং পরমাত্মার আজ্ঞা অনুসারে সুখী হও।।

তস্মাদ্ যজ্ঞাৎ সবর্বহূত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।
ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তন্ মাদাজযত।।
(ঋগ্বেদ, ১০/৯০/৯)

পদার্থঃ— (তস্মাদযজ্ঞাৎ সবর্বহুতঃ) সেই সর্ব্বহূত যজ্ঞ হইতে (ঋচঃ) ঋগ্বেদ (সামানি) সামবেদ (জজ্ঞিরে) প্রকাশিত হইয়াছে (ছন্দাংসি) অথর্ববেদ (জজ্ঞিরে) প্রকাশিত হইয়াছে।

অর্থাৎ— সেই সর্বহূত যজ্ঞ হইতে সর্বপূজ্য পরমাত্মা সৃষ্টির আদিতে ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ আর অথর্ববেদ উৎপন্ন করে। সেই বেদের দ্বারা প্রকৃতিবিদ্যা, কর্মবিদ্যা, উপাসনাবিদ্যা এবং রোগচিকিৎসাবিদ্যা ও যুদ্ধবিদ্যাকে উপদেশ দেয়।

যস্মাদৃচো অপাতক্ষন্ যজুর্যস্মাদপাকষন্।
সমানি যস্য লোমান্যথর্ব্বাঙ্গিরসোমুখং স্কম্ভং তং ব্রূহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।
(অথর্ববেদ, ১০/৭/২০)

পদার্থঃ— (যস্মাৎ) যাহা হইতে (ঋগ্বেদ) ঋক্ সকল প্রকাশিত হইয়াছে, (যজু) যজুর্বেদ যাহা হইতে প্রকাশিত (সমানি) সাম যাহার (লোম) লোম সদৃশ (অথর্বাঙ্গিরস) অথর্ববেদ যাহার মুখ, সেই (স্কম্ভ) ঈশ্বর কে তাহা বল।

অর্থাৎ— সেই সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর তার থেকে ঋকঃ, যজুঃ, সামঃ আর অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে, তাকে তোমরা বেদের কর্তা বলে মানো।

বৃহস্পতে প্রথমং বাচো অগ্রং য়ৎপ্রৈরৎ নামধেয়ং দধানাঃ।
য়দেষাং শ্রেষ্ঠং য়দরিপ্রমাসীৎ প্রেনা তদেষাং নিহিতং গুহাভিঃ।।
(ঋগ্বেদ, ১০/৭১/১)

পদার্থঃ— (বৃহস্পতে প্রথমং বাচো অগ্রং) বৃহস্পতি পরমাত্মা সর্বপ্রথম বেদবাণীকে প্রেরণা করেন। সৃষ্টির আদিতে সর্বশ্রেষ্ঠ (নামধেয়ং) সুনাম খ্যাতিবান যশস্বী যে মুনি ঋষি ছিলেন, সেই নামধারী ঋষিদের হৃদয় মন্দিরে (প্রৈরৎ) প্রেরণা করে (য়ৎ) যে বেদ জ্ঞানকে (দধানা) ধারণ করবার উপলক্ষে ঋষি মুনি ছিলেন (এষাং) তাহাদের মধ্যে (শ্রেষ্ঠং) যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন (য়ৎ) যিনি (রিপ্রম্) বিশেষ ঐশ্বর্যশালী পরিপক্ক জ্ঞানী (আসীৎ) ছিলেন (প্রেনা) তাহাদের হৃদয় মন্দিরেই (নিহিতং গুহাভিঃ) পরমেশ্বর বেদ বাণীকে স্থাপনা করেন।

অর্থাৎ— পরমাত্মা থেকে সৃষ্টির আদিতে সর্বশ্রেষ্ঠ হৃদয় মধ্যে বেদবাণী প্রকাশ করেছিল আর তাদের দ্বারা বেদবাণীর প্রচার হয়।

বেদ জ্ঞান সম্পর্কে আরো কিছু রেফারেন্স উল্লেখ করছি নিচে দেওয়া হলো—
(যজুর্বেদ, ৩৪/৫)
(ঋগ্বেদ, ১০/৭১/৩)
(ঋগ্বেদ, ১/৩৬/১১)
(ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৩৯)
(অথর্ববেদ, ১০/৮/৩৩)
(মুণ্ডকোপনিষদ, ১/১/৫)
(বাল্মিকি রামায়ণ, ৪/৩/২৮)

                            পবিত্র বেদ
বহুশাখার বিভক্ত ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদই হলো অনন্তপার ধর্মের সাগরের মূল।

ধর্ম জিজ্ঞাসায় বেদ এর জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে মহর্ষি মনুস্মৃতিতে বলেছেন—

"বেদোহখিলো ধর্মমূলম্।"
(মনুস্মৃতি, ২/৬)

অর্থাৎ— বেদ এই একমাত্র ধর্মের মূল।

"ধর্ম জিজ্ঞাসমানানাং প্রমাণং পরমং শ্রুতিঃ।।" (মনুস্মৃতি, ২/১৩)

অর্থাৎ— যে ধর্মের বিষয়ে জ্ঞান প্রাপ্ত করতে চায় তাহার জন্য বেদই মূখ্য প্রমাণ।

বেদ ঈশ্বর থেকেই চারভাগে বিভক্ত ছিল। ব্যাসদেব শুধুমাত্র লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বেদকে সংগ্রহ করেই চার ঋষিকে স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র গ্রন্থ অধ্যয়ন করিয়েছিলেন।

সেই চার ঋষি নাম—
১) ঋষি পৈল ঋগ্বেদ সংহিতা।
২) ঋষি বৈশম্পায়ন যজুর্বেদ সংহিতা।
২) ঋষি জৈমিনি সামবেদ সংহিতা।
৩) ঋষি সুমন্ত অথর্ববেদ সংহিতা।

বেদ পরমাত্মা হতে সৃষ্টি। পরমাত্মা ঈশ্বর থেকেই বেদ চারভাগে বিভক্ত ছিল। মহর্ষি ব্যাসদেব শুধুমাত্র লিপিবদ্ধ করেছেন।

এখনে সকলের প্রশ্ন আসতে পারে,
তার নাম ব্যাসদেব হলো কেন?

মহর্ষি ব্যাসদেব বেদ অধ্যয়ন অধ্যাপনা দ্বারা বেদার্থ বিস্তার করেছিলেন এইজন্য তার নাম ব্যাসদেব হয়েছিল। পারাপারের মধ্যরেখাকে "ব্যাস" বলা হয়। অর্থাৎ তিনি ঋগ্বেদের আরম্ভ হতে অথর্ববেদের পার পর্যন্ত চার বেদই পড়েছিলেন। আর শুকদেব এবং জৈমিনি প্রভূতি শিষ্যদিগকে পড়িয়েছিলেন। বাস্তবিক পক্ষে তার জন্মের নাম ছিল "কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন।" যদি কেউ বলে মহর্ষি ব্যাসদেব তিনি বেদ সকল বিভাজন করেছেন, তবে এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা কেননা মহর্ষি ব্যাসদেবের পূর্বে তার পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, পরাশর, বশিষ্ঠ এবং ব্রহ্মা প্রভূতি ঋষিরা চারবেদ অধ্যয়ন করেছেন।

বেদ নিত্য অপৌরুষেয় ও ঈশ্বর প্রণীত হয়ে এসেছে। জ্ঞান মানবের অধিকার ও রুচিবৈচিত্র্য জন্য মূখ্য ও গৌণ এই দ্বিবিধ বৈদিক উপাসনা ও তদনুযায়ী আচার স্বভাবতঃ প্রকাশ পাইয়াছিল। ঋষিরা জ্ঞানী বুদ্ধিপূর্ব্বক বেদ রচেন নাই। কেবলই ঋষিগণের স্বাভাবিক ঈশ্বরগত অনুরাগই নিবৃত্তি ও প্রবৃতি মার্গ বিশিষ্ট বৈদিক ধর্মকে প্রসার এবং প্রসব করিয়াছে। বেদই একমাত্র ঈশ্বরীয় জ্ঞান। যা পরম কল্যাণকারী সর্বজ্ঞ পরমেশ্বর সমস্ত মনুষ্যমাত্রের কল্যাণের জন্য সৃষ্টির প্রারম্ভে এই পবিত্র জ্ঞান প্রকট করেছেন।

অতএব শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত এই যে, বেদ অপৌরুষেয়। বেদই একমাত্র সনাতন ধর্মের আদিগ্রন্থ।

ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!

শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ,
হর হর মহাদেব।

Post a Comment

0 Comments