Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কেন?

আজ থেকে ৫২০০ বছর পূর্বে এই ভূখণ্ডে জন্মে ছিলেন এক যোগেশ্বর সনাতন ধর্মের প্রাণপুরুষ পরমেশ্বরের অবতার হয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি একজন আর্দশ নেতা, রাজনীতিক, রাষ্ট্রজ্ঞ, ধর্মসংস্থাপক এবং মুক্তিদাতা ও ধর্মরাজ্য সংস্থাপক ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বহুগ্রন্থে বহু রকমের কথা বলে তার জীবনকে পৌরাণিক, অলৌকিক ও কিছুটা অবিশ্বাস্য করে তোলা হয়েছে। জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৮ তম জন্মাষ্টমী কারণ, বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন গ্রন্থ মতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলাবিলাস করেন। ১২৫ বছর এই ধরাধামে অবস্থান করে বৈকুন্ঠে গমন করেন। মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে তিনি ইহধাম ত্যাগ করে অন্তর্ধান করেন। সেই দিনই কলিযুগের প্রবেশ ঘটে, খ্রিস্টপূর্ব ৩১০১ সালে কলিযুগ আরম্ভ হয়। বর্তমান ২০২২ খ্রিস্টাব্দ তা হলে কলির বয়স ৩১০১ + ২০২২ = ৫১২৩ বছর শ্রীকৃষ্ণের অর্ন্তধানের দিন কলির আবির্ভাব হয়। শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলা করেছেন তা হলে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ৫১২৩ + ১২৫ = ৫২৪৮ বছর পূর্বে হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমগ্র জীবন সম্পর্কে জানতে হলে মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণ গ্রন্থ গুলো পড়তে হবে। এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে জানতে বঙ্কিমচন্দ্রের "কৃষ্ণচরিত্র" ও অধ্যাপক নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ীর উপন্যাস তুল্য জীবনী পড়তে পারেন। তবে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণটিতে শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে সুতরাং আলঙ্কারিক অর্থ বুঝে পড়তে না পারলে না পড়াই ভালো। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ জুলাই, বুধবার। ৩১০১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের চৈত্রমাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে (১৭ ও ১৮ই ফেব্রুয়ারীর মধ্যরাতে) শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু ও বর্তমান কলিযুগের সূচনা হয়েছে। এত প্রাচীন এক ঐতিহাসিক মহামানবের প্রামান্য জীবনী পাওয়া অসম্ভব! তবে বিশ্ববিখ্যাত বহু মানুষের শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে প্রবন্ধ আছে। অতএব যত পড়বেন ততই ভালোভাবে জানতে পারবেন।
                          শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কেন?

আমি জন্মরহিত, অবিনশ্বর এবং সর্বভূতের শক্তিধর কাল হইয়াও স্বীয় প্রকৃতিতে অনুষ্ঠান করিয়া আত্মমায়ায় আবির্ভূত হই। (গীতা, ৪/৬)

হে ভারত ! যখনই যখনই ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, আমি সেই সেই সময়ে নিজেকে সৃষ্টি করি (দেহ ধারণপূর্বক অবতীর্ণ হই)। (গীতা, ৪/৭)

সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই। (গীতা, ৪/৮)

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৮ তম পবিত্র জন্মতিথিতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবাইকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে বলতে চাই আমরা যেন শ্রীকৃষ্ণকে চিনতে ও জানতে পারি, তাঁর নির্দেশনা ও জীবনাদর্শ যেন হৃদয়ে ধারণ করতে পারি এই প্রার্থনা হোক আমাদের কাম্য...

ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি।

                          শ্রী বাবলু মালাকার
                      (সনাতন ধর্মের প্রচারক)।

জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম,
হর হর মহাদেব।

Post a Comment

0 Comments