প্রখ্যাত বেদজ্ঞ ঋষি শৌনক তাঁহার “বৃহদ্দেবতা” নামক ঋগ্বেদ বিষয়ক গ্রন্থে (২, ৮৯-১১) সপ্তবিংশতি নারী ঋষির নাম উল্লেখ করিযাছেন। শৌনক ইহাদের তিনটী শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়াছেন—
(১) যাহার। দেবতাগণের স্তুতিমূলক যুক্ত রচনা করিয়াছেন। যথা, ঘোষা, গোধা, বিশ্ববারা, অপালা, উপনিষদ্, নিষদ্, ব্রহ্মজায়া জুই, অগস্ত্যসহোদরা, এবং অদিতি — এই নয়জন।
(২) যাঁহারা দেবতা, ঋষি ও রাজগণের সহিত কথোপকথন করিয়াছিলেন। যথা, ইন্দ্রাণী, ইন্দ্রমাতা, সরমা, রোমশা, ঊর্বশী, লোপামুদ্রা, নদী, যমী এবং শাশ্বতী — এই নয় জন।
(৩) যাহারা নিজেদের উদ্দেশ্যেই সূক্ত রচনা করিয়াছিলেন। যথা, শ্রী, লাক্ষা, সার্পরাজ্ঞী, বাক্, শ্রদ্ধা, মেধা, দক্ষিণা, রাত্রি ও সূর্যা — এই নয় জন। সুবিখ্যাত বেদভাষ্যকার সায়ণও উপরি উক্ত সপ্তবিংশতি নারী ঋষি ব্যতীত আরো দুই জনের নামোল্লেখ করিয়াছেন, যথা, শিখণ্ডিনী ও বস্থক্রপত্নী (সিকতা নিবাবরী সম্বন্ধে নিম্নে দেখুন)। কেবল ঋগ্বেদেই নারী ঋষির উল্লেখ পাওয়া যায়।
সনাতন বৈদিক ধর্ম এমন একটি গোত্র যার প্রধান ধর্মগ্রন্থের প্রাপক ও প্রচারকদের মহামনিষীদের মধ্যে নারী ঋষিকাগন ছিলেন যা পৃথিবীর অন্য কোন রিলিজিয়ন (ধর্ম একটিই, বৈদিক ধর্ম, বাকীগুলো মার্গ) এরপক্ষে চিন্তা করাও অসম্ভব। চলুন দেখে নেই পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে কিছু শ্রদ্ধেয় নারী ঋষিকার নাম—
ঘোষা, (ঋগ্বেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা,ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা), লোপামুদ্রা, মৈত্রেয়ী, গার্গী, পৌলমি, রোমশা, অপালা, বাক্, (ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসুক্তের দ্রষ্টা), অপত, কক্র, বিশ্ববর, জুহু, ভগন্ত্ৰীনি (মহর্ষি অস্ত্রন এর কন্যা, ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা), যরিতা, শ্রদ্ধা, উর্বশী, স্বর্ণগা, ইন্দ্রানী, সাবিত্রী, দেবায়নী, নোধা, আকৃভাষা, শীকাত বাবরি, গল্পায়নী, মন্ধত্রী, গোধ, কক্ষিবতী, দক্ষিনা, অদিতি, রাত্রি (মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা), শ্রীলক্ষ।
অথচ ভন্ড পৌরানিক পুরোহিতগন পুরুষতন্ত্র কায়েম করতে একসময় নারীদের শাস্ত্রপাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল, সতীদাহের মত জঘন্য প্রথা চালু করেছিল। আসুন, বেদের শুভ্র, অনন্য পথ অনুসরন করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করি।
পবিত্র বেদের বৈদিক নারী ঋষি
বাক,
মহর্ষি মহর্ষি অস্তূর্ণের কণ্যা ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের দশম অনুবাকের ১২৫ তম সূক্তের দ্রষ্টা তিনি৷ এতে মোট আটটি মন্ত্র রয়েছে। প্রথম এবং তৃতীয় থেকে অষ্টম মন্ত্র ত্রিষ্টুপ ছন্দে এবং দ্বিতীয় মন্ত্রটি জগতী ছন্দে রচিত৷ এই সূক্তের মন্ত্রগুলোকে একত্রে "বৈদিক দেবীসূক্তম্" বলা হয়৷ ঋর্ষিকা বাকের নামানুসারে এটি "বাকসূক্তম্" নামেও পরিচিত।বিশ্বাবারা,
ঋগ্বেদের পঞ্চম মন্ডলের ২৮ তম সূক্তে বিদূষী এই নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি পূর্বমূখী হয়ে বেদমন্ত্র উচ্চারণের দ্বারা হোমযজ্ঞ করার উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূক্তে মন্ত্রসংখ্যা হয়। যজ্ঞের অগ্নিতে আহুতি প্রদানই এই সূক্তের মূল আলোচ্য। এখান থেকেই প্রমাণিত হয় যে, বৈদিক যুগে নারীর যজ্ঞাদি কার্যে পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল।
স্বর্ণগা,
"স্বর্ণগা" কোনো একক ঋষি নন। দশম মন্ডলের একশত বিয়াল্লিশ তম সূক্তের ঋষিদের একত্রে "স্বর্ণগা" বলা হয়। এই সূক্তে মোট আটটি মন্ত্র রয়েছে। ঋষি জরিতা (১ম ও ২য়) ঋষি দ্রোণা (৩য় ও ৪র্থ), ঋষি সরিস্কভা (৫ম ও ষষ্ঠ) এবং ঋষি স্তম্ভমিত্রা(৭ম ও ৮ম) মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রগুলোতে আগুণের সাথে আত্মার তুলনা করা হয়েছে। আগুন যেভাবে অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথ দেখায়, আত্মাকেও তেমনভাবে বিকশিত হয়ে মনের অন্ধকার দূর করার প্রার্থনা জানানো হয়েছে এখানে।
গার্গী,
বৈদিক যুগের অন্যতম নারী ঋষি ব্রহ্মবাদিনী গাগী। জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দে। তিনি ধঋষি বাচাক্কু এর কণ্যা। তাঁর সম্পূর্ণ নাম গাগী বাচাকারী। বৃহদারণ্যক উপনিষদে দেখা যায়, বিদেহার রাজা জনকের আয়োজিত রাজসূয় যজ্ঞে ঋষি যাজ্ঞবন্ধ্যের সাথে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতায় তিনি তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হন। প্রথমে সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ক্রমশ প্রশ্নোত্তরের গভীরতা বাড়তে থাকে। বিদূষী গাগী অন্তরীক্ষ, নক্ষত্রলোক, দেবলোক, ইন্দ্রলোক পেরিয়ে অবশেষে ব্রহ্মলোক সম্মন্ধে প্রশ্ন করেন। এ পর্যায়ে ঋষি যাজ্ঞবন্ধ্য গাগীকে থামতে বলেন। স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈদিক প্রশ্নোত্তরের | সীমা লংঘন হচ্ছে। ঋষি উদ্দালকের প্রশ্নোত্তর পর্বশেষে গাগী পুনরায় উঠে দাঁড়ান এবং সভায় যাজ্ঞবল্ক্যকে আরো দুইটি প্রশ্ন করার অনুমতি চান। প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে যাজ্ঞবল্ক্য জয়ী হলেও বিদূষী গাগীর জ্ঞান ও বিদ্যা সকলের নিকট ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
লোপামুদ্রা,
বৈদিক যুগের প্রধান ঋষিকাদের মধ্যে অন্যতম। বিদূষী এই নারী ছিলেন ঋষি অগস্ত্যের পত্নী। তিনি ঋগ্বেদের ১ম মন্ডলের ১৭৯ নং সূক্তের দ্রষ্টা। এই সূক্তে ছয়টি মন্ত্র রয়েছে। মন্ত্রগুলোতে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
রাত্রি,
ঋষি ভরদ্বাজের কণ্যা। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১২৭ তম সূক্তের ঋষি হিসেবে বিদূষী এই নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সূক্তটি "রাত্রিসূক্ত" নামে পরিচিত। পরিশ্রান্ত জীবদেরকে রাত্রিকালীন বিশ্রামে নিরাপদে রাখার প্রার্থনা করা হয়েছে এখানে।
শ্রদ্ধা,
তিনি কামায়ণী গোত্রজা বিদূষী। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১৫১ তম মন্ত্রের ঋষি হিসেবেই তিনি প্রসিদ্ধ। মন্ত্রগুলোতে ধর্ম ও জীবনব্যবস্থায় পরিপ্রেক্ষিতে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শাশ্বতী,
পূর্ণনাম শাশ্বতী আঙ্গিরসী। তিনি ঋষি অঙ্গিরার কণ্যা এবং ঋষি অসঙ্গের সহধর্মিণী। ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের প্রথম সূক্তের ঋষি হিসেবে এই বিদূষী নারী বিখ্যাত।
গোধা,
ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১৩৪ তম সূক্তে মহান এই নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়৷ এই সূক্তে সাতটি মন্ত্র রয়েছে। সপ্তম অর্থাৎ সর্বশেষ মন্ত্রের ঋষি হিসেবে ব্রহ্মবাদিনী গোধা প্রসিদ্ধ৷ এই মন্ত্রটির বিশেষত্ব হচ্ছে, গাভীর অপরিসীম গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে এই মন্ত্ৰে৷
জুহু,
বৈদিক যুগের অন্যতম প্রসিদ্ধ নারী। তিনি "ব্রহ্মবাদিনী ব্রহ্মজায়া জুহু" নামেই পরিচিত। বিদূষী এই নারীর অপর নাম "বাক্"। তিনি ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১০৯ তম সূক্তের ঋষি।
সূর্যা,
ঋগ্বেদে উল্লেখিত অন্যতম বিদূষী। তার পিতার নাম সবিত্র৷ দশম মন্ডলের ৮৫ তম সূক্তে এই মহান নারীর উল্লেখ রয়েছে। বিয়ের বহু মন্ত্রের ঋষি তিনি। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে নারীর সন্মান ও মর্যাদার অত্যন্ত সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়। ঋষি সূর্যার মন্ত্রে।
মৈত্রেয়ী,
মৈত্রেয়ী বৈদিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী। ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য তাঁর দুই পত্নী মৈত্রেয়ী ও কাত্যায়নীকে সমস্ত সম্পত্তি বন্টন করে দিতে চাইলে মৈত্রেয়ী প্রশ্ন করেন, 'যার দ্বারা অমৃতত্ত্বের আশা নেই, সেই সম্পদে আমার কি প্রয়োজন?' তিনি সুখ-সম্পত্তির মোহ ছেড়ে সাধনায় নিয়োজিত হয়েছিলেন।মহর্ষি যাজ্ঞবন্ধ্যের সাথে মৈত্রেয়ীর আত্মতত্ত্ব ও ব্রহ্মজ্ঞান বিষয়ক কথোপকথন বৃহদারণ্যকোনিষদে্ বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
রোমাশা,
অন্যতম বিদূষী নারী। তার পিতা বৃহস্পতি এবং স্বামী ছিলেন ঋষি ভাবয়ব। ঋষিকা রোমাশা ঋগ্বেদের ১ম মন্ডলের ১২৬ নং সূক্তের ৭ নং ঋক্ অর্থাৎ মন্ত্রের দ্রষ্টা।
যমী,
ঋগ্বেদের ১০ম মন্ডলের ১০ম সূক্তের ঋষি। ১৪ টি মন্ত্রের একটি কথোপকথনে সাজানো হয়েছে সূক্তটি৷ চরিত্রের নামানুসারে একে "যম-যমী সূক্ত" বলা হয়। যমকে উজ্জ্বল দিনের এবং যমীকে অন্ধকার রাতের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। রাত আর দিনের একসাথে একই স্থানে অবস্থান করা অসম্ভব৷ তাই যমী (রাত্রি) অনুরোধ করা সত্ত্বেও যম (দিন) বাস্তবতাকেই মেনে নিতে বাধ্য। তাদের মিলন একমাত্র তখনই সম্ভব যখন ভৌতিক সৃষ্টিচক্রের অস্তিত্ব বিলীন হবে। এক অদ্ভুত ভালোবাসা আর বেদনার মিশ্রণ পাওয়া যায় সূক্তটিতে। ঋষি যমী এবং সূক্তের চরিত্র এক নন। ঋষি যমী একই মন্ডলের ১৫৪ তম সূক্তেরও ঋষি হিসেবে পরিচিত।
অদিতি,
পূর্ননাম অদিতি দাক্ষ্যয়ণী। ঋষি দক্ষের কন্যা তিনি। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ৭২ তম সূক্তের ঋষি এই বিদূষী নারী। নয়টি মন্ত্রে গঠিত এই সূক্তে প্ৰকৃতি ও সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সরমা দেবাসনী,
ঋগ্বেদের ১০ মন্ডলের ১০৮ তম সূক্তের ঋষি। এ সূক্তে সরমা (রূপক অর্থে ঝড় এবং বিদ্যুৎকে বোঝানো হয়েছে) এবং পণিদলের(কালো মেঘ) কথোপকথন রয়েছে। ভাবার্থ অনুযায়ী পণিদল ইন্দ্রিয়সুখ আর সরমা আত্মার শুদ্ধতার প্রতিনিধিত্বকারী। পবিত্র আত্মা সরমা, বিলাসিতায় ব্যস্ত পণিদলকে সতর্ক করছেন এই সূক্তে। শুদ্ধ আত্মাকে নারীর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার, এবং মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি একজন নারী হওয়া বেদে, নারীর সন্মানের আরো একটি প্রমাণ।
সাবিত্রী,
তিনি সূর্যের মতই তেজদীপ্ত এবং বিদূষী এক নারী। ঋগবেদের ১০ মণ্ডলের ৮৫ তম সূক্তের ৩২-৪৭ তম মন্ত্রের ঋষি হিসেবে তিনি বিখ্যাত। এ সূক্তটি "বিবাহ সূক্ত" নামে পরিচিত। বিয়ে এবং বিবাহিত জীবনে পুরুষ ও নারীর দায়িত্বের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে।
উর্বশী,
ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ৯৫ তম সূক্তের ঋষি। এ সূক্তটি "সংবাদসূক্ত " নামে বিখ্যাত। উর্বশী এবং পুরুরবার কথোপকথন সূক্তের মূল আলোচ্য। মন্ত্রের আলোচিত চরিত্র ও ঋষির নাম এক হলেও, বাস্তবে ওনারা ভিন্ন। নিরুক্তে যাঙ্কমুনি উবর্শী শব্দের অর্থ নানাভাবে দেখিয়েছেন। অপ্সরাশ্রেষ্ঠা উর্বশী, মহাযশের অধিকারিনী। অপ্সরা শব্দের অর্থ "য়ে জলে থাকতে পছন্দ করে।" আর বিশেষ অর্থে অপ্সরা বোঝায় "ব্যাপক যে রূপ/ অনন্যস্বরূপা৷ " অর্থাৎ ব্যপক যে রূপ, অতিবৃহৎ যে আনন্দ তারই কামনা করছেন পুরুরবা এই সূক্তে।
ঘোষা,
ঋগবেদের একজন বিখ্যাত ঋষিকা। তাঁর জন্ম ঋষি অঙ্গিরার বংশে। ওনার পিতামহ ছিলেন ঋষি দীর্ঘাত্মা, এবং পিতার নাম কক্ষিবাণ। শৈশব অবস্থা থেকেই বিদ্যানুরাগী এই মহীয়সী নারী ঋগবেদের দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা।
অপালা,
ঋষি অত্রির কণ্যা। তিনি ঋগবেদের অষ্টম মন্ডলের ৯১ তম সূক্তের দ্রষ্টা। এই সূক্তের মন্ত্রসংখ্যা সাত। এখানে সোমরসের (উদ্ভিদবিশেষ) ঔষধি গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং ইন্দ্রের নিকট সুস্থতার প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
ইন্দ্রাণী,
ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ৮৬ তম সূক্তের ঋষি হিসেবে পরিচিত। সূক্তটিতে ২৩ টি মন্ত্র রয়েছে। মুক্ত জীবাত্মাকে সঠিক সংকেতের মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকটবর্তী করা হচ্ছে। এ সূক্তে। জীবাত্মার প্রতীক এখানে বৃষাকপি, এবং পথ প্রদর্শক হিসেবে আছেন প্রকৃতি (জগতের মাতৃস্বরূপা)।
শচী,
পূর্ননাম শচী পৌলমী। ঋষি পৌলমার কণ্যা। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১৫৯ তম সূক্তের ঋষি হিসেবে তিনি পরিচিত । এ সূক্তটি পবিত্র বেদে নারীর সন্মানের একটি অসাধারণ প্রমাণ৷
দক্ষিণা,
ঋষি প্রজাপতির কণ্যা। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলে ১০৭ তম সূক্তের ঋষি তিনি। যজ্ঞ সম্পাদনের পর ঋষিকে দক্ষিণার দ্বারা সন্মানিত করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যিনি দক্ষিণা প্রদান করেন, তাকেও প্রশংসা করা হয়েছে এই মন্ত্রগুলোতে।
শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের প্রচারক
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বাংলাদেশ।
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার