Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

শ্রী সিদ্ধিদাতা গণেশের পরিচয় কিভাবে?

                 ওঁ নমঃ সিদ্ধিদাতা গণেশায় নমঃ

ওঁ একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশককরং দেবং হেরম্বং প্রণামম্যইম্।।

                         গণেশের পরিচয়
গণেশকে বিভিন্ন উপাধি ও বিশেষণে ভূষিত করা হয়। এগুলির মধ্যে ‘গণপতি’ ও ‘বিঘ্নেশ্বর’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হিন্দুধর্মের সম্মানসূচক ‘শ্রী’ উপাধিটিও প্রায়শই গণেশের নামের আগে যুক্ত করা হয়।

         শ্রী ‘গণেশ’ নামটি একটি সংস্কৃত শব্দবন্ধ
‘গণ’ ও ‘ঈশ’ শব্দদুটির সন্ধির মাধ্যমে এই শব্দটির উৎপত্তি। ‘গণ’ শব্দের অর্থ একটি গোষ্ঠী, সমষ্টি বা বিষয়শ্রেণি এবং ‘ঈশ’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর বা প্রভু। গণেশের নামের পরিপ্রেক্ষিতে ‘গণ’ শব্দটির মাধ্যমে বিশেষভাবে একই নামের একপ্রকার উপদেবতার গোষ্ঠীকে বোঝায়। এঁরা গণেশের পিতা শিবের অনুচরবর্গ। সাধারণভাবে ‘গণ’ বলতে বোঝায় একটি বিষয়শ্রেণি, শ্রেণি, গোষ্টী, সংঘ বা জনসমষ্টি।
‘গণেশ’ নামের অর্থ ‘গোষ্ঠীর ঈশ্বর’ বা পঞ্চভূত ইত্যাদি ‘সৃষ্ট বিষয়সমূহের ঈশ্বর’।

                             ‘গণপতি’
(गणपति; gaṇapati) নামটি গণেশ নামের সমার্থক। এটিও একটি সংস্কৃত শব্দবন্ধ। ‘গণ’ ও ‘পতি’ শব্দদুটির মিলনের মাধ্যমে এই শব্দটির উৎপত্তি। এখানে ‘গণ’ শব্দের অর্থ গোষ্ঠী এবং ‘পতি’ শব্দের অর্থ শাসক বা প্রভু। গণপতি শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় ঋগ্বেদ গ্রন্থের ২য় মণ্ডলের ২৩ সূক্তের ১ম মন্ত্রে তবে বৈদিক ‘গণপতি’ শব্দটির মাধ্যমে বিশেষভাবে গণেশকে নির্দেশ করা হয়েছে। গণেশ সহস্রাব্দে রচিত রয়েছে।

প্রাচীন সংস্কৃত অভিধান অমরকোষ গ্রন্থে ‘গণেশ’ নামের আটটি সমার্থক শব্দ পাওয়া যায়।
এগুলো হলঃ— ‘বিনায়ক’, ‘বিঘ্নরাজ’ (যা ‘বিঘ্নেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘দ্বৈমাতুর’ (যাঁর দুইজন মাতা), ‘গণাধিপ’ (যা ‘গণপতি’ ও ‘গণেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘একদন্ত’ (যাঁর একটি দাঁত, এখানে গণেশের হস্তীমুণ্ডের বাইরের দাঁতের কথা বলা হয়েছে), ‘হেরম্ব’, ‘লম্বোদর’ (যাঁর স্ফীত উদর) ও ‘গজানন’ (যাঁর হাতির মতো মাথা)।

                             ‘বিনায়ক’
(विनायक; vināyaka) নামটি গণেশের একটি বহুল-পরিচিত নাম। এই নামটি পুরাণ ও বৌদ্ধ তন্ত্রগুলিতে বহু বার উল্লিখিত হয়েছে। মহারাষ্ট্রের আটটি বিখ্যাত গণেশ মন্দিরের নামকরণের ক্ষেত্রেও এই নামটির প্রতিফলন লক্ষিত হয়। এই আটটি মন্দিরকে ‘অষ্টবিনায়ক’ (মারাঠি: अष्टविनायक, aṣṭavināyaka) মন্দির বলা হয়। ‘বিঘ্নেশ’ (विघ्नेश; vighneśa) ও ‘বিঘ্নেশ্বর’ (विघ्नेश्वर; vighneśvara) (বিঘ্নের ঈশ্বর) নাম দুটি থেকে বোঝা যায় যে, হিন্দুধর্মে তার প্রধান কাজ বিঘ্নের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন ও বিঘ্ন অপসারণ তাই হিন্দুধর্মের গণেশের পুজো এবং আরতি না করে কোনও পুজো বা শুভ কাজ শুরু হয় না। প্রথম দেবতাদে মধ্যে শ্রী গণেশকে পূজা করা হয়। এবং প্রতিটি শুভ কাজে তাঁকে প্রথমে স্মরণ করা হয়। তাই শ্রী গণেশকে বলা হয় বিঘ্নহরতা। যিনি সমস্ত দুঃখ ও সমস্যাকে পরাস্ত করেন। তিনি ভক্তদের সমস্ত বাধা, রোগ, শত্রু এবং দারিদ্র্য দূর করেন।

                   শ্রী গণেশের জন্ম কাহিনী
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, নন্দী দেবী পার্বতীর সমস্ত আদেশ মেনে চলেন। একবার তিনি ভেবেছিলেন যে মাকে কিছু তৈরি করে দেওয়া উচিত, যা কেবল মা-এর আদেশ পালন করবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি একটি শিশুর আকার তৈরি করেছিলেন এবং তাঁতে জীবন দান করেছিলেন।

কথিত আছে যে, মাতা পার্বতী যখন স্নান করছিলেন, তখন তিনি শিশুটিকে বাইরে থেকে দ্বার রক্ষা করতে বললেন। মাতা পার্বতী শিশুটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন ভিতরে প্রবেশ না করে। এমন সময় ভগবান শিব পার্বতীর সঙ্গে দেখা করতে এলে গণেশ তাঁকে ভিতরে যেতে বাধা দেয়। এতে ভগবান শিব ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি অজান্তেই সেই শিশুটির মাথা দেহ থেকে আলাদা করেন। মাতা পার্বতী যখন বাইরে এলেন, সমস্ত কিছু দেখে তিনি রেগে গেলেন। তিনি তাঁর বাচ্চাকে বাঁচতে আদেশ দেন মহাদেব-কে। এর পরেই মানুষের বদলে হস্তির মাথা দান করে পুনরায় জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয় ওই শিশুটির দেহে। এরপর থেকেই গজানন নামে পরিচিতি পান তিনি। দেবাদিদেব মহাদেবের আশির্বাদে তিনি প্রথম দেবতা রূপে স্বীকৃতি পান। এই সময় যে সমস্ত দেবতারা গণেশ-কে অনেক বর দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত গণের অধিপতি হওয়ার কারণে গণেশকে গণপতি বলা হয়।

                    গণপতি সিদ্ধিদাতা ‘গণেশ’

যম্মাদৃতে ন সিধ্যতি যজ্ঞো বিপশ্চিতশ্চন।
স ধীনাং যোগমিম্বতি॥
                      (ঋগ্বেদ, ১/১৮/৭)
অনুবাদ—যিনি ছাড়া বড় বড় বুদ্ধিমানের শুভকর্মও সফল হয় না সেই প্রভুকে বুদ্ধি যোগেই লাভ করা যায়।

সিদ্ধিদাতা গণেশ শুভকাজে, নববর্ষে, ব্যবসা বাণিজ্য সফল হওয়ার জন্য গণেশকে স্মরণ করা হয়। পূজা করা হয়। ঈশ্বর গণেশ রূপে মানুষের সর্বকর্মসিদ্ধিতে সহায়তা দান করেন। গণেশের অনেক নাম। যেমন গজানন, গণপতি, হেরম্ব, বিনায়ক ইত্যাদি।

                           গণপতি বাপ্পা
গণেশ সিদ্ধিদাতা তার নাম স্মরণে যাত্রা শুভ হয়, কার্যসিদ্ধি ঘটে, অঘটন রোধ সম্ভব হয়৷ কিন্তু জ্যোতিষ ও বাস্তুচিন্তকদের মধ্যে সব গণেশ মূর্তিই সমান ফলদায়ী নয়। গণপতি মূর্তির উপাদান, তার গঠন বৈচিত্র্য ইত্যাদির সঙ্গে তার গুণাগুণও যুক্ত থাকে। বাস্তু ও তন্ত্র মতে, বামাবর্ত শুঁড় বিশিষ্ট গণপতিই সবথেকে শুভ মূর্তি। এই মূর্তি বাড়িতে রাখলে সব কাজে সাফল্য আসে।

                        কী এই মূর্তির রহস্য?
পুরাণ অনুসারে, গণেশের জন্ম হয়েছিল মা পার্বতীর নিজস্ব ইচ্ছায়। তাঁর জন্মে শিবের কোনও ভূমিকা ছিল না। বরং পার্বতীর স্নানকক্ষে প্রবেশের পথে বাধা পেয়ে শিব দ্বাররক্ষী গণেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং তাঁর মস্তকছেদন করেন। পরে তার মস্তকে হস্তিমুণ্ড স্থাপন করে পার্বতীর রোষ থেকে মুক্ত হন শিব। এই দিক থেকে দেখলে গণেশের দেহ তাঁর মায়ের এবং মস্তক তথা চেতনা তাঁর পিতার দান। পুরাণ অনুযায়ী, পার্বতী অন্নপূর্ণা আর শিব সংসারে উদাসীন এক পুরুষ। গণেশের মধ্যে এই দুই গুণের সমাহার ঘটেছে বলে মনে করা হয়।

                         মূর্তি তত্ত্ব অনুসারে,
পার্বতীর স্থান শিবের বাম দিকে। তিনি তাই 'বামিনী' নামেও পরিচিত। গণেশের স্থান শিব ও পার্বতীর ঠিক মধ্যস্থলে। এই অবস্থায় তাঁর শুঁড় যদি ডান দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে, তবে ধরতে হবে, সেই মূর্তির মধ্যে সংসার-ঔদাসীন্য বর্তমান। তিনি সিদ্ধিবিনায়ক হলেও তাঁর কাজ মোক্ষ প্রদান। জাগতিক শুভাশুভের ঊর্ধ্বে তিনি। কিন্তু তাঁর শুঁড় যদি বাম দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে, তবে তিনি মা পার্বতীর গুণাবলির দিকে ধাবিত। অর্থাৎ, তিনি গৃহ সুখের সন্ধান দিতে সমর্থ। তাঁর কৃপায় গৃহে শান্তি-সমৃদ্ধি স্থায়ী হয়। গৃহে তাই বামাবর্ত শুঁড়বিশিষ্ট গণেশ মূর্তি রাখাই শ্রেয় বলে মনে করা হয়।

                         শ্রী গণেশের রূপ
গণেশের দেহ মানুষের দেহের অনুরূপ, কিন্তু মাথা হাতির মাথার মতো। তাতে লম্বা শুঁড়। শুঁড়ের পাশে বেরিয়ে থাকা একটি লম্বা দাঁত। দেহের বর্ণ গাঢ় লাল। চার হাত, তিন চোখ, উদর স্ফীত, দেহ একট বেঁটে। চার হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। গলায় থাকে উপবীত। গণেশের বাহন ইদুঁর। গণেশের পূজা দুর্গা পূজার সময় গণেশের পূজা হয়। ভদ্র ও মা মাসের শুক্ল পক্ষের চতুর্থ তিথিতে গণেশের পূজা হয়। ভদ্রমাসের শুক্লা চতুর্থীর নাম গণেশ চতুর্থী দক্ষিণ ভারতে গণেশের সাড়ম্বর পূজা প্রচলিত আছে। গণেশ পূজায় তুলসীপত্র উৎসর্গ করা নিষেধ। গণেশের উপাসকদের গাণপত্য বলা হয়।

                 গণেশ চতুর্থী উদযাপন মাহাত্ম্য
সকল কাজে সাফল্য বা সিদ্ধিদানই এই দেবতার মূল কাজ গণেশ পূজার মাধ্যমে মানুষ সিদ্ধি ও বিত্ত-বৈভবের জন্য প্রার্থনা করে। সিদ্ধিদাতা গণেশ তুষ্ট হলে মানুষ সর্বকাজে সফলকাম হয়।

                   ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব
গণপতি বাপ্পা মোরিয়া
সবাইকে শুভ গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা 🥰

শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)

Post a Comment

0 Comments