গঙ্গা (সংস্কৃত: गङ्गा হিন্দি: गंगा Ganga.
ভারত ও বাংলাদেশে প্রবাহিত একটি আন্তর্জাতিক নদী। এই নদী ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় নদীও বটে। গঙ্গার দৈর্ঘ্য ২,৫২৫ কিমি (১,৫৬৯ মা); উৎসস্থল পশ্চিম হিমালয়ে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে। দক্ষিণ ও পূর্বে গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা মিশে গেছে বঙ্গোপসাগরে। জলপ্রবাহের ক্ষমতা অনুযায়ী গঙ্গা বিশ্বের সবচেয়ে বড় নদী।
গঙ্গা
এখানে মোট ৬টি গঙ্গা শব্দটির সমার্থক শব্দ বা পতিশব্দ দেওয়া হয়েছে।
১) ভাগীরথী, ২) শিবপত্নী, ৩) গোমতী,
৪) কৃষ্ণবেণী, ৫) পিনাকিনী, ৬) কাবেরী।
মা গঙ্গা দেবী
ঋগ্বেদের যুগে গঙ্গা যমুনা ছিল প্রধান নদী, এবং সরস্বতী নদীও ছিল সর্বপ্রধান ও সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয়। এই তীরে ছিল প্রসিদ্ধ তীর্থভূমি।
গঙ্গা নদীকে
ঋগ্বেদের ১/১৪২/৯ তে বাগদেবী হিসেবে ভারতী স্বর্গস্থ বাক, ইলা পৃথিবীস্থ বাক এবং সরস্বতী অন্তরীস্থ বাক এই তিনটি নাম পাওয়া যায়। শৈবাগম সাধকদের নিকট সাধারণভাবে ইনি বাণী, বীণাপানি, বাগদেবী, শুভ্রা, হংসবাহনা প্রভৃতি নামে পরিচিত। সরস্বতীর আটটি শক্তি বিদ্যমান। এই শক্তিগুলোহল- শ্রদ্ধা, ঋদ্ধি, কলা, মেধা, পুষ্টি, প্রভা ও মতি।
ব্রাহ্মণ ও মহাভারতে উল্লেখিত সারস্বত যজ্ঞ এই নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হত। গঙ্গা নদীর তীরে বৈদিক ঋষিদের আবাসস্থল ছিল বলে মনে করা। বৈদিক ঋষিদের সম্মিলিত বেদপাঠ উক্ত স্থান মুখরিত করে রাখতেন বলে ধারণা করা হয় উক্ত স্থান বাগ্দেবীর আবাস হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। এই নদীকে জ্ঞান উদ্দীপনা বা বাক্যের উৎপাদয়িত্রা হিসেবেই পূজা করেছেন ঋষিরা কালক্রমে বিভিন্ন উপাখ্যানের সূত্রে এই নদীকে দেবী সত্তা হিসেবে জানা যায়।
পুরাণের গল্পে আবির্ভাব হয়েছে,
পুরাকালে এক রাজা ছিলেন, তাঁর নাম ছিল ভগীরথ। সাগর রাজবংশের এই রাজা ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও দয়ালু। তিনি বড় হয়ে জানতে পারেন তাঁর ৬০ হাজার পূর্বপুরুষ কপিল ঋষির অভিশাপ ছাই হয়ে গিয়েছেন। ভগীরথের এই ৬০ হাজার পূর্বপুরুষ পাপ কাজ করায় কপিল ঋষি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁদের অভিশাপ দিয়ে ছাই করে দেন। এই পূর্বপুরুষদের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভগীরথ। গুরু তীর্থলার পরামর্শ মেনে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেন ভগীরথ।
পুরাকালে এক রাজা ছিলেন, তাঁর নাম ছিল ভগীরথ। সাগর রাজবংশের এই রাজা ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও দয়ালু। তিনি বড় হয়ে জানতে পারেন তাঁর ৬০ হাজার পূর্বপুরুষ কপিল ঋষির অভিশাপ ছাই হয়ে গিয়েছেন। ভগীরথের এই ৬০ হাজার পূর্বপুরুষ পাপ কাজ করায় কপিল ঋষি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁদের অভিশাপ দিয়ে ছাই করে দেন। এই পূর্বপুরুষদের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভগীরথ। গুরু তীর্থলার পরামর্শ মেনে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেন ভগীরথ।
মন্ত্রীর হাতে রাজ্য চালানোর ভার দিয়ে গভীর জঙ্গলে গিয়ে তপস্যা শুরু করেন তিনি। ব্রহ্মা ও বিষ্ণু তাঁর কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে তাঁকে দেখা দিয়ে বর প্রার্থনা করতে বলেন। ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর কাছে তাঁর ছাই হয়ে যাওয়া ৬০ হাজার পূর্বপুরুষের মুক্তি প্রার্থনা করেন ভগীরথ। ব্রহ্মা ও বিষ্ণু জানান যে একমাত্র দেবী গঙ্গা তাঁদের মুক্তি দিতে পারেন। সে কথা শুনে গঙ্গার তপস্যা শুরু করেন ভগীরথ। গঙ্গা দেখা দিলে তাঁকে পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য তিনি প্রার্থনা করেন।
গঙ্গা বলেন যে তিনি পৃথিবীতে নেমে আসতে পারেন। কিন্তু তাঁর প্রচণ্ড স্রোতে পৃথিবী বন্যায় ভেসে যাবে। তখন ভগীরথ মহাদেবের কাছে গিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। পুরো বিষয়টা জেনে মহাদেব জানান যে তিনি গঙ্গাকে নিজের জটায় আবদ্ধ করে ফেলবেন। তারপর সেখান থেকে ধীর স্রোতে গঙ্গাকে পৃথিবীতে পাঠাবেন। এর ফলে গঙ্গার পূণ্যস্রোতে পৃথিবী সুজলা সুফলা হয়ে উঠবে।
মহাদেবের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে গঙ্গা তাঁর জটায় অবস্থান করেন। সেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত স্রোতে তিনি পৃথিবীতে নেমে আসেন। গঙ্গার স্পর্শে ভগীরথের ৬০ হাজাপ পূর্বপুরুষ মুক্তি পান। ভগীরথ গঙ্গাকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলেন বলে এই নদীর আরও একটি নাম হল ভাগীরথী।
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার