শুভ অক্ষয় তৃতীয়া মহোৎসব। জানা প্রয়োজন অক্ষয় তৃতীয়া কি, অক্ষয় তৃতীয়া শুভ কেন এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ—
সংস্কৃত ভাষায়, "অক্ষয়" (अक्षय) শব্দটি "সমৃদ্ধি, প্রত্যাশা, আনন্দ, সাফল্য", "ত্রিত্য" অর্থ "তৃতীয়", "অর্থে অবিস্মরণীয়, চিরস্থায়ী, সর্বদা নিকৃষ্টতম"। হিন্দু ক্যালেন্ডারে ভাস্কাকের বসন্ত মাসের "তৃতীয় চন্দ্র দিন" এর নামকরণ করা হয়, এটি যেদিন পালন করা হয় সেদিনকে অক্ষয় তৃতীয়া বলে।
অক্ষয় তৃতীয়া, হিন্দু ধর্মে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয় অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনটি অক্ষয় তৃতীয়া (ইংরেজি: Akshaya Tritiya) হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথি অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি।
অক্ষয় তৃতীয়া
অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ। আর এদিন পূজা, জপ, ধ্যান, দান, অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে। এদিনটা ভালোভাবে কাটানোর অর্থ সাধনজগতের অনেকটা পথ একদিনে চলে ফেলা। এবারের অক্ষয়তৃতীয়া সবার ভালো কাটুক-এই কামনায় করি।
অক্ষয় তৃতীয়ার ব্রত কেন পালন করা হয় এবং এই দিনের মাহাত্ম্য কী
বহু প্রাচীনকাল থেকে এই তিথি হিন্দুরা অত্যন্ত ভক্তির সঙ্গে পালন করে আসছেন। অক্ষয় তৃতীয়া অত্যন্ত শুভফলদায়ী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। বহু প্রাচীনকাল থেকে এই তিথি হিন্দুরা অত্যন্ত ভক্তির সঙ্গে পালন করে আসছেন। ‘অক্ষয়’ শব্দের অর্থ ‘যা ক্ষয় হয় না’, অর্থাৎ এই দিন যা কিছু শুভ কাজ করা হয় তা অক্ষয় হয়ে থাকে। এই কারণে এই দিন নানা প্রকার শুভ কাজ করার বিধান শাস্ত্রে দেওয়া আছে। মনে করা হয়, পৌরাণিক যুগে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে নানা প্রকার শুভ কাজের সূত্রপাত ঘটেছিল।
জেনে নিন হিন্দুধর্মে এই অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব
১) মনে করা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায় বিষ্ণুর দশম অবতার পরশুরামের জন্ম হয়। বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার হিসাবে পরশুরাম আবির্ভুত হন পৃথিবীতে।
২) অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রীকৃষ্ণের বন্ধু সুদামা তাঁকে অন্ন ভোগ দেন। তার পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁর এই প্রিয় বন্ধুকে সুখ ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ করেন।
৩) মহাভারত অনুসারে বনবাসে থাকাকালীন অক্ষয় তৃতীয়াতেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয়পাত্র দান করেন। যাতে বনবাসে তাঁদের কখনোও খাদ্যাভাব না হয়।
৪) অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই সত্যযুগের অবসান শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়, প্রতি কল্পে ত্রেতাযুগের শুরু হয়।
৫) অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই বেদব্যাস মহাভারত লেখা শুরু করেন।
৬) অক্ষয় তৃতীয়াতেই রাজা ভগীরথের প্রার্থনায় স্বর্গ্য থেকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন মা গঙ্গা দেবী।
৭) গণপতি গণেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।
৮) দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।
৯) শ্রীকৃষ্ণের চন্দন যাত্রা শুরু হয়েছিল।
১০) এ ছাড়া মনে করা হয় এই দিন এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা করলে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। নিজের বাসগৃহে লক্ষ্মীনারায়ণের পুজো করতে হয়।
১১) কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
১২) ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।
১৩) দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরণাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণা দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।
১৪) জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে রথ নির্মাণ শুরু হয়।
১৫) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।
১৬) সাধ্য মতো ব্রাহ্মণকে কিছু দান করতে হবে।
১৭) অক্ষয় তৃতীয়া এই দিনটি কিছু কেনাকাটা করার জন্য শুভ বলে বিবেচিত। অনেক জায়গায় অক্ষয় তৃতীয়া আখা তিজ নামেও পরিচিত।
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার