"সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপকল্পনম।
আদি শক্তি
ওঁ
ব্রহ্মা + ব্রহ্মাণী + মহাসরস্বতী
বিষ্ণু + বৈষ্ণবী + মহালক্ষ্মী
শিব + শিবানী + মহাকালী
ব্রহ্ম + শক্তি
পরমসত্ত্বার সগুন প্রকাশ হল ওঁ।
চন্দ্র ও চন্দ্রের কিরণ দুধ ও দুধের ধবলতার ন্যায় এক ও অভেদ।
যেই শ্যাম, সেই শ্যামা। যেই ব্রহ্ম, সেই শক্তি; যেই লক্ষ্মী, সেই নারায়ণ; যেই শিব, সেই শক্তি; যেই রাধা, সেই কৃষ্ণ। একই সত্ত্বার শুধুমাত্র প্রকাশ বিভিন্ন। চিন্তার অতীত পরমেশ্বর সত্ত্ব, রজ, এবং তম গুণভেদে কি কি নামে প্রকাশিত হনঃ— ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ও শিব নামে প্রকাশিত হয়। শক্তির সগুনরূপ দুর্গা, কালী, পার্বতী; বিদ্যার সগুনরূপ সরস্বতী; ঐশ্বর্যের সগুনরূপ লক্ষ্মী, মৃত্যুর রূপযম। তেমনি ঈশ্বর যখন সৃষ্টি করেন তখন ব্রহ্মা, যখন পালন করেন তখন বিষ্ণু আর প্রলয়রূপে মহেশ্বর। পরমসত্ত্বার তিন গুণে আছেন সত্ত্বঃ রজঃ তমঃ।
দেবদেবী কে?
Gods and goddesses.
বৈদিক যুগের সংস্কৃতি সাহিত্য তত্ত্ব অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যমতে দেবদেবীরা প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক।
দেব শব্দের বূৎ্যপত্তিগত অর্থ হল যিনি “উজ্জ্বল” যেটি এসছে দিব্য বা উজ্জ্বল শব্দ থেকে হয়েছে। আদি বৈদিক ধারণায় সমস্ত দেবতাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম।
দেবী শব্দের বূৎ্যপত্তিগত অর্থ হল “শক্তি”, মহামায়া, ভগবতী, দুর্গা, আদ্যাশক্তি; শক্তির উপাধি সম্বোধনে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্মে দেবতা (পূংলিঙ্গ), দেবী (স্ত্রীলিঙ্গ), বৈচিত্র্যপূর্ণ এই ধর্মের উপাস্য বুঝাতে দেবদেবী শব্দ ব্যবহার করা হয়।
তেত্রিশ দেবতা
ওঁ ত্রয়স্ত্রিং শতাস্তুবত ভূতান্য শাম্যন্ প্রজাপতিঃ।
পরমেষ্ঠ্যধিপতিরাসীৎ লোকং তা ইন্দ্রম্।।
(যজুর্বেদ, ১৪/৩১)
অনুবাদ- প্রকৃতির শাসক, প্রজার পালক, সর্বব্যাপক, সর্বাধিপতি পরমাত্মার তেত্রিশ ভৌতিক দেব শান্তির অনুশীলন কর।
তেত্রিশ দেবতা কারা ও ঈশ্বর কি এক?
শতপথ ব্রাহ্মণ যাজ্ঞবল্ক ঋষি শাকল্যকে বলিতেছেন—
দেবতা ৩৩টি, ইহার পরমেশ্বরের মহিমাকে প্রকাশ করিতেছে। ৮ বসু, ১১ রুদ্র, ১২ আদিত্য, ইন্দ্র ও প্রজাপতি এই ৩৩ দেবতা। অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু, অন্তরিক্ষ, আদিত্য, দ্যৌঃ, চন্দ্র ও নক্ষত্র এই অষ্ট বসু। প্রাণ, অপান, ব্যান, সমান, উদান, নাগ, কূর্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয় এই দশ প্রাণ এবং জীবাত্মা একত্রে এই একাদশ রুদ্র। ১২ মাসকে দ্বাদশ আদিত্য বলে। ইন্দ্র অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রজাপতি অর্থাৎ যজ্ঞ বা শুভকর্ম।
১২ আদিত্য হল— ১২ মাস, ইন্দ্র ও প্রজাপতি অর্থাৎ মোট ৩৩টি। ইন্দ্র হল বিদ্যুৎ আর প্রজাপতি হল যজ্ঞ (যে কোনশুভ কর্ম)।
আদিত্য— সূর্য, আকন্দ গাছ, সূর্যমন্ডলস্থিত হিরন্ময় বিষ্ণু, পুনর্বসু নক্ষত্র; অদিতির গর্ভে জাত কশ্যপের দ্বাদশ পুত্র।
আদিত্য শক্তিতে আছে— ধাতা, মিত্র, অর্য্যমা, রুদ্র, বরুণ, সূর্য, ভগ, বিবস্বান্, পূষা, সবিতা, ত্বষ্টা ও বিষ্ণু। ঋগ্বেদে ছয় জনের মধ্যে আদিত্যের উল্লেখ আছে।
প্রকৃতির শাসক, প্রজার পালক, সর্বব্যাপক, সর্বাধিপতি পরমাত্মার তেত্রিশ ভৌতিক দেব শক্তির অনুশীলন কর । (যজুর্বেদ, ১৪/৩১)
তেত্রিশ দেবতা । (ঋগ্বেদ ১/৩৪/১১)
অষ্টবসু, একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ আদিত্য, তার সাথে দ্যুলোক ও ভূলোক এই মোট তেত্রিশ দেবতা। (শতপথ ব্রাহ্মণ, ৭/৫/৭/২)
ঋগ্বেদে (১/১৩৯/১১; ১০/৪৯/২) বলা হয়েছে, পৃথিবীতে একাদশ অন্তরীক্ষে একাদশ এবং দ্যুলোকে একাদশ এই ৩৩ জন দেবতা উল্লেখিত। এই তিন দেবতাও আসলে এক দেবতা (ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪৬) (গীতা, ৯/১৫)।
সেই রকম সমস্ত ব্রহ্মান্ডে একই বায়ু (প্রাণরূপে) প্রবেশ করে। রূপে রূপে প্রতিরূপে হয়েছেন, সেইরকম সমস্ত জীবের অন্তরহিত আত্মা পরব্রহ্ম এক হয়েও রূপে রূপে প্রতিরূপ এবং তার বাইরেও আছেন।
(কঠোপনিষদ, ২/২/১০)
উপরে যে ৩৩ জন প্রধান দেবতার কথা বলা হয়েছে তা মূলত ঈশ্বরের ৩৩ প্রকার অন্যতম শক্তি তাই। সে পরমব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু জ্ঞানীগণ তাঁকেই ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, সুর্য, সুপর্ণ, গরুড়, যম, বায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকেন। (ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪)
পরমাত্মা এক, দ্বিতীয় নন, তৃতীয় ও চতুর্থ বলেও কথিত হন না; পঞ্চম নন, ষষ্ঠ নন, সপ্তম নন, অষ্টম নন, নরমও কেউ বলেনি। যিনি ঈশ্বরকে এক বলে জানেন তিনি তাঁকে প্রাপ্ত হন। (অথর্ববেদ, ১৩/৪/২)
যিনি এক অদ্বিতীয়, তিনি মনুষ্যদের সর্বদ্রষ্টা, যিনি সর্বশক্তিমান ও পালক একমাত্র তাঁকেই উপাসনা করো। (ঋগ্বেদ, ৬/৪৫/১৬)
উপরে উল্লেখিত ৩৩ দেবতা কারা নাম সহ দেওয়া হলঃ—
অষ্ট বসু কারা?
অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু, অন্তরিক্ষ, আদিত্য, দ্যুলোক, চন্দ্র ও নক্ষত্রপুঞ্জ। এঁরাই বসুগণ; কারণ নিখিল পদার্থ এঁদের মধ্যে নিহিত আছে বলেই তাদের নাম বসুগণ।
একাদশ রুদ্র কারা?
মানবদেহে এই যে দশটি ইন্দ্রিয় এবং মন তাঁদের একাদশ। দশটি ইন্দ্রিয় হলো- প্রাণ, অপান, ব্যান, সমান, উদান, নাগ, কূর্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয়, এই দশ প্রাণ এবং জীবাত্মা একত্রে এই একাদশ রুদ্র।
আদিত্য গণ কারা?
বার মাসকে দ্বাদশ আদিত্য বলে।
দেবতা কে আমরা কাকে দেবতা বলি?
পরমসত্ত্বার ভগবানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে যারা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকারী হন তাঁরাই হলেন দেবতা। সৃষ্টি, স্থিতি তথা প্রতিপালন ও প্রলয় যাঁদের মাধ্যমে পরিচালিত; সেই ত্রিমূর্তি হলেন ভগবান। ব্রহ্মা (সৃষ্টি), বিষ্ণু (স্থিতি তথা প্রতিপালন), শিব (প্রলয়) এই ত্রিমূর্তি সনাতন মতে ভগবান। আবার ভক্ত মনে করেন নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ হলো ভগবান; অর্থাৎ ঈশ্বরের কাজ এই ত্রিমূর্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।
ঈশ্বর কে?
ঈশ্বর সত্য, সুন্দর, চিরন্তন ঈশ্বর শব্দের মূল "ঈশ্" এর আভিধানিক অর্থ হল "সেরা, চমৎকার, সুন্দর বা শাসক"। অতএব, যুগপৎভাবে ঈশ্বর শব্দের অর্থ হল; সেরা বা সুন্দরের স্রষ্টা। ঈশ্বরের রূপে তিনি নিরাকার, তিনিই মহাশক্তি, তিনিই প্রকৃতির শক্তি এখানে মূলত শক্তিই হলেন ঈশ্বর।
আমরা ঈশ্বর কাকে বলি?
যঃ প্রাণতো নিনিষতো মহিত্বৈক ইদ্রাজা জগতো বভূব।
য ঈশে অস্য দ্বিপদশ্চতুষ্পদঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।।
(যজুর্বেদ, ২৩/৩)
অনুবাদঃ— নিজের মহিমাবলে যিনি চেতন ও জড় জগতের রাজা, যিনি দ্বিপদ ও চতুষ্পদ প্রাণীর উপর শাসন করিতেছেন, সেই আনন্দ স্বরুপ পরমাত্মাকে আমরা মনের দ্বারা উপাসনা করি।
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
জয় শ্রীকৃষ্ণ
হর হর মহাদেব
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার