Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

প্রাণময় কোশ দেহে পঞ্চবায়ুর আধার

                           প্রাণময় কোশ কি?
স্বরূপ প্রদর্শনার্থ বলেছেন—
‘প্রাণং দেবাঃ' ইত্যাদি। দেবগণ (ইন্দ্রিয় সমূহ) প্রাণময় কোশের অনুগত থাকিয় প্রাণন করে, অর্থাৎ নিজ নিজ ক্রিয়া সম্পাদন করে, এবং যাহারা মনুষ্য ও পশু, (তাহারাও প্রাণের অনুগত থাকিয়াই জীবন ধারণ করে। যেহেতু প্রাণই ভূতগণের (প্রাণিগণের) আয়ু অর্থাৎ জীবনরক্ষার নিদান, সেই হেতু প্রাণকে ‘সর্বায়ুষ’ বলা হইয়া থাকে। তাহারা সম্পূর্ণ আয়ু প্রাপ্ত হয়, যাহার ব্রহ্মবুদ্ধিতে প্রাণের উপাসনা করে। যে হেতু প্রাণই সর্বভূতের আয়ুঃ, সেই হেতু প্রাণকে 'সৰ্ব্বায়ুষ’ বলা হইয়া থাকে এই যে, প্রাণময় কোশ।

                              প্রাণময়কোশ
এই স্থুল শরীরকে পরিচালনা করে কে? অবশ্যই প্রাণ। গাড়ির ভিতরে বসে যেমন ড্রাইভার গাড়ি চালায়। শরীরের মধ্যে প্রাণ কোথায় নেই? শরীরের সর্বত্রই প্রাণ আছে। এই প্রাণময় শরীরের রূপ কেমন? এই স্থূল শরীরটার যেমন আকার তেমনি। 'কোশ' কেন? কারণ প্রানের মােড়কে মােড়া আছে মন। তাই প্রাণময়-শরীর না বলে বলা হলাে প্রাণময় কোশ।

উপনিদষদ্ (ব্রহ্মানন্দবল্লী) তৃতীয় অনুবাকে বলা হয়েছে,

প্রাণং দেবা অনু প্রাণন্তি। মনুষ্যাঃ পশবশ্চ যে। প্রাণাে হি ভূতানামায়ুঃ। তম্মাৎসর্বায়ুষমুচ্যতে। সর্বমেব ত আয়ুর্যন্তি যে প্রাণং ব্রহ্মোপাসতে। প্রাণাে হি ভূতানামায়ুঃ। তস্মাৎসর্বায়ুষ- মুচ্যত ইতি। তস্যৈষ এব শারীর আত্মা যঃ পূর্বস্য। ১।

ব্যাখ্যা—তৃতীয় অনুবাকের এই প্রথমাংশে প্রাণমহিমা বর্ণনকারিণী শ্রুতির উল্লেখ করে পুনঃ এই প্রাণময় শরীরে অন্তর্যামী পরমেশ্বরকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এর ভাবার্থ এই যে ; যত দেবতা, মনুষ্য, পশু আদি শরীরধারী প্রাণী বিদ্যমান, সকলেই প্রাণের সাহায্যে জীবিত। প্রাণ ছাড়া কারাে শরীর থাকতে পারে না, কেননা প্রাণই সকল প্রাণীর আয়ু বা জীবন। এইজন্য এই প্রাণকে সর্বায়ুষ বলা হয়। যে সাধক প্রাণরূপী আয়ুকে জীবনের আধার মনে করে প্রাণকে ব্রহ্মরূপে উপাসনা করেন তিনি পূর্ণ আয়ু লাভ করেন।

প্রশ্নোপনিষদেও বলা হয়েছে,
যে মানুষ এই প্রাণতত্ত্ব জ্ঞাত হয় সে স্বয়ং অমর হয়ে যায় এবং তার প্রজা নষ্ট হয় না (৩।১১)। যে সর্বাত্মা পরমেশ্বর অন্নের রস দ্বারা নির্মিত স্থলশরীরধারী পুরুষের অন্তরাত্মা, তিনি ওই প্রাণময় পুরুষেরও শরীরান্তবর্তী অন্তর্যামী আত্মা।

প্রাণময় কোশ নিয়ে বেদান্তসারে বলা হয়েছে,

ইদং প্রাণাদিপঞ্চকং কর্মেন্দ্রিয়েঃ সহিতং সৎ প্রাণময়কোশঃ ভবতি। অস্য ক্রিয়াত্মকত্বেন রজঃ অংশকার্যত্বম্ ।। ৮৮।।

এই প্রাণাদি পঞ্চক কর্মেন্দ্রিয় পাঁচটির সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রাণময়কোশ হয়। এই প্রাণময়কোশ ক্রিয়াত্মক বলে রজঃ অংশের কার্য ||৮৮ ||

                               অমৃত টীকা
পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয় ও পাঁচটি প্রাণ মিলিতভাবে প্রাণপ্রধান বলে প্রাণময় এবং কোশের মতন আত্মাকে ঢেকে রাখে বলে কোশ, প্রাণময় কোশ। প্রাণময়কোশের দ্বারাই জীব সকল কার্য করে থাকে।

প্রাণময় কোশ নিয়ে বিবেক চূড়ামণিতে বলা হয়েছে,

কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ পঞ্চভিরঞ্চিতােহয়ং প্রাণাে ভবেৎ প্রাণময়স্তু কোশঃ।
যেনাত্মবানন্নময়ােহন্নপূর্ণঃ প্রবর্ততেহসৌ সকলক্রিয়াসু ৷।১৬৭।।

পঞ্চকর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাণই প্রাণময় কোশরূপে পরিণত হয়। প্রাণময় কোশের দ্বারা ব্যাপ্ত হয়ে অন্নময় কোশ অন্নে পুষ্ট হয়ে নানা কর্মে প্রবৃত্ত হয়।

নৈবাত্মাপি প্রাণময়াে বায়ুবিকারাে
গন্তাগন্তা বায়ুবদন্তর্বহিরেষঃ।
যস্মাৎ কিঞ্চিৎ ক্বাপি ন বেত্তীষ্টমনিষ্টং
স্বং বান্যং বা কিঞ্চন নিত্যং পরতন্ত্রঃ ।। ১৬৮।।

প্রাণময় কোশও বায়ুর বিকারমাত্র, আত্মা নয়। কেননা এটি বায়ুর ন্যায় ভিতরে-বাহিরে যাতায়াত করে, সর্বদা পরাধীন এবং নিজের ভালাে-মন্দ বা আপন-পর নির্ণয় করতে পারে না।

                        (শ্রী বাবলু মালাকার)

Post a Comment

0 Comments