রুদ্র কেন তমোগুণী
ঈশ্বর সর্ব জীবের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত থাকিয়া মায়াদ্বারা যন্ত্রারূঢ় পুত্তলিকার ন্যায় তাহাদিগকে ভ্রমণ করাইতেছেন।
(গীতা, ১৮/৬১)
বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তমাদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ।
তমেব বিদিত্বাহ তিমৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহ য়নায়।
আমি পরিপূর্ণ, সর্বাধিক, স্বয়ং প্রকাশ ও অবিদ্যার অতীত ইহাকে জানিয়াছি; তাহাকেই মাত্র জানিয়া মৃত্যুকে অতিক্রম করিয়া থাকেন; (সংসার) উত্তরণের অন্য কোন ও মার্গ নাই।
মুক্তি সুখ ও সাংসার সুখ দাতা রুদ্রকে নমস্কার, লৌকিক ও মোক্ষসুখের কারক রুদ্রকে নমস্কার, যিনি কল্যাণরুপ ও ভক্তজনের কল্যাণ-বিধাতা সে রুদ্রকে নমস্কার। গোসমূহে জাত ও গোষ্ঠে জাত, তীর্থে ও কূলে জাত, পাষাণে বা স্থির জলে জাত, অরণ্যপ্রদেশে ও গিরিগুহায় জাত এবং ধূলিতে ও পরাগে জাত রুদ্রকে নমস্কার। রুদ্রের দেবতার অগ্নি, বায়ু ও সূর্য দেবতাদের নমস্কার।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ১৬/৪১)
প্রকৃতির তিনটি গুণ-সত্ত্ব, রজ এবং তম। পরমেশ্বর এক হলেও এই তিনটি গুণের প্রভাবে বিশ্বের সৃষ্টি -স্থিতি-লয়ের জন্যে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর রূপ ধারণ করেন। উপাস্য হিসেবে আলাদা আলাদাভাবে উপাসনা করলেও আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মূলত এক ব্রহ্মেরই অনন্ত রূপ-রূপান্তরের উপাসনা করি। তাই প্রকৃতিতে যেমন ঈশ্বরীয় পালনার কর্তব্য চলছে সেইরকম শেষে তপস্যার দ্বারা নিজের বিকর্ম আর সকল আত্মার তমোগুণী সংস্কার বা প্রকৃতির তমোগুনকে ভস্ম করার কর্তব্য চলবে। এরজন্য সদা একরস স্থিতির আসনে স্থিত হয়ে নিজের তপস্বী রূপকে প্রত্যক্ষ করো। তোমার সকল কর্মেন্দ্রিয়ের থেকে দেহ-অভিমানের ত্যাগ আর আত্ম-অভিমানী হওয়ার তপস্যা প্রত্যক্ষ রূপে যেন দেখা দেয় তাই ভগবান রুদ্রকে তমোগুণী বলা হয়।
নিজেই স্বয়ং বিবেচনা করুন
ইতি তে জ্ঞানমাখ্যাতং গুহ্যাদ্ গুহ্যতরং ময়া ।
বিমৃশ্যৈতদশেষেণ যথেচ্ছসি তথা কুরু ।।
(গীতা, ১৮/৬৩)
আমি তোমার নিকট এই গুহ্য হইতেও গুহ্য তত্ত্বকথা ব্যাখ্যা করিলাম, তুমি ইহা বিশেষভাবে পর্যালোচনা করিয়া যাহা ইচ্ছা হয় তাহা কর।
তুমি একমাত্র আমাতেই চিত্ত রাখ, আমাকে ভক্তি কর, আমাকে পূজা কর, আমাকে নমস্কার কর । আমি সত্য প্রতিজ্ঞাপূর্বক বলিতেছি, তুমি আমাকেই পাইবে, কেননা তুমি আমার প্রিয়।
(গীতা, ১৮/৬৫)
যিনি এই পরম গুহ্যশাস্ত্র আমার ভক্তগণের নিকট ব্যাখ্যা করিবেন, তিনি আমাকে পরাভক্তি করায় (অর্থাৎ এই কার্যে আমি ভগবানেরই উপাসনা করিতেছি এইরূপ মনে করায়) আমাকেই প্রাপ্ত হইবেন, ইহাতে সন্দেহ নাই।
(গীতা, ১৮/৬৮)
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
(শ্রী বাবলু মালাকার)
0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার