শুরুতে বলে রাখি সনাতন ধর্মে জাতিভেদের কোন ভিত্তিনেই। এটি সমাজের সৃষ্টি। যা আজকের সনাতন সমাজে আত্মঘাতী রুপ ধারণ করল।
আসুন সনাতন ধর্মে জাতিভেদের কি আধো কোন ভিত্তি আছে কিনা নিজেই বিচার করুন।
যদি উত্তরে বলি সনাতন ধর্মে জাতিভেদের কোন ভিত্তি নেই।
তখন সবার মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়....এসব কি?
বেদে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শুদ্র কাকে বলা হচ্ছে আপনি নিজেই দেখুন...
🌺 ব্রাক্ষ্মন কে?
ঋগবেদ ৭.১০৩.৮
"যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস, সৎ, নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল, বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সে ব্রাক্ষ্মণ"
🌺ক্ষত্রিয় কে?
ঋগ্বেদ ১০.৬৬.৮
দৃঢ়ভাবে আচার পালনকারী, সৎ কর্ম দ্বারা শুদ্ধধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন, অহিংস, ঈশ্বর সাধক, সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ণ ,বিদ্বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা,অসৎ এর বিনাশকারী সে ক্ষত্রিয়।
🌺 বৈশ্য কে?
অথর্ববেদ ৩.১৫.১
দক্ষ ব্যবসায়ী, দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী।
🌺 শূদ্র কে?
ঋগ্বেদ ১০.৯৪.১১
যে অদম্য,পরিশ্রমী, অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা,লোভমুক্ত কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।
আবার অনেকে এরপর প্রশ্ন করে থাকে শ্রীমদ্ভগবগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন উনি চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছেন এর অর্থ কি বুঝাচ্ছেন?
বেদ-গীতার কোথাও বলা নেই বর্ণ জন্মগত l বরং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় স্পষ্ট বলেছেন যে তিনি গুণ ও কর্ম অনুযায়ী চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছেন। জন্মের এখানে উল্লেখ পর্যন্ত নেই l
🌺
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্ ।।
(গীতা ৪.১৩)
অর্থ:- প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি । আমি এর স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।
পবিত্র বেদে ঈশ্বর ঘোষণা করেছেন সাম্যের বাণী
🌺
"মানবের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয়;
তাহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে।উৎসাহের সঙ্গে বিশেষভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে।জন্ম হইতেই তাহারা কুলীন।তাহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য।তাহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।"
(ঋগবেদ ৫.৫৯.৬)
🌺 জাতপাত দূর করো
হিন্দু হলেই বিয়ে করো 🌺
লেখকঃ বিজয় বিদ্যার্থী
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার