Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

মূর্তিপূজা ও প্রতিমাপূজা প্রথম পর্ব


পবিত্র বেদে মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা নাই কি আছে সেটি বলার আগের সবাই যুক্তি যাই মূর্তি প্রতিমাতে কিভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। 

                          প্রতিমা নাই 

ওঁ ন তস্য প্রতিমা অস্তি যস্য নাম মহদ্ যশঃ।
হিরণ্যগর্ভ ইত্যেষ মা মা হিংসীদিত্যেষা যস্মান্ন জাত ইত্যেষঃ।।
                        (যজুর্বেদ ৩২/৩)

অনুবাদঃ— মহতী কীর্তিতেই যাঁহার নামের স্মরণ হয়, তাঁহার গর্ভে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী স্থান পাইয়াছে বলিয়া প্রত্যক্ষ, আমাকে তোমা হইতে বিমুখ করিও না - এইরুপ ভাবে যাঁহার প্রার্থনা করিতে হয় এবং জন্মগ্রহণাদি করেন নাই এজন্য যাঁহার উপাসনা বিধেয় সেই পরমাত্মার কোন প্রতিকৃতি বা মূর্ত্তি নাই।

ভাবার্থঃ— পরমাত্মার কোন প্রতিমা নাই। তাহাঁতেই বিশ্ব জগৎ অবস্থিত, এজন্য তিনি প্রত্যক্ষ। পরমাত্মা হইতে যেন বিমুখ না হই-তাহার নিকট এইরুপ প্রার্থনা করিতে হয় এবং জন্ম মৃত্যু তাহাকে গ্রাস করিতে পারে না বলিয়া তিনিই উপাসনার যোগ্য।

    (যজুর্বেদ ৩২/৩) এর মন্ত্রটি ব্যাখা করে দিচ্ছি

প্রতিমা বা মূর্তি নেই সেটি পরমাত্মারকে বুঝিয়েছে, সেই পরমাত্মার কোন প্রতিকৃতি প্রতিমা বা মূর্তি নাই থাকে না। যেমন আপনার শরীরের ভিতরে থাকা আত্মাকে শুধুমাত্র আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করতে পারেন কিন্তু আপনার ওই আত্মাই পরমাত্মা পরমব্রহ্মের সাথে যুক্ত তাই ওই আত্মা বা পরমাত্মার কোনো মূর্তি বা প্রতিমা নেই তাই পরমাত্মাকে একমাত্র উপাসনার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। তাই আপনার জন্ম মৃত্যুকে গ্রাস করতে পারে না তাই তাহাকে উপাসনার যোগ্য।

             নিচে ব্যাখ্যা করে দিয়েছি

মূর্তি বা প্রতিমা নেই বলার কারণ আপনি মারা গেলে দেহশরীর যেমন থাকবে তেমনি আবার আত্মাকে ও দেখতে পারবেন না। আপনার আত্মা যে ঈশ্বরের পরমাত্মার শক্তি তাই বুঝানো হয়েছে এখানেই অন্যকিছু বুঝানো হয়নি।

                  কিছু আবাল হিন্দুরা

ইদানীং সনাতন হিন্দুরাও আব্রাহামিক স্টাইলে মূর্তিপূজা বা প্রতিমা পূজাকে নিয়ে খোঁচাচ্ছেন। আব্রাহামিক আবাল হিন্দুদের উদ্দেশ্য করে বলছি মূর্তিপূজা বলতে বুঝে একটি মূর্তিকে পূজা করা। বাট পূজাটা মূর্তিকে নয়, মূর্তিতে হয় এখনে মূর্তি একটি যন্ত্র মাত্র, যেমন যজ্ঞের অগ্নি, ধ্যানের জন্য মন, তেমনই পূজার জন্য মূর্তি। অনেকে নিজেদের প্রগতিবাদী প্রমাণ করতে মূর্তিপূজা বিরোধীতা করেন, তারা কি জানেন যে বৈদিক ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও দেবস্বরূপের সাকারে বর্ণনা আছে।

আমাদের আর্যসমাজী বাবুরা ব্রাহ্মণ গ্রন্থ মানে না তাই তারা মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা নেই নেই করে। আর হ্যাঁ, সাধনের অনেক পথ আছে— ধ্যান, যজ্ঞ, পূজা, জপ। কেউ পূজা পছন্দ না করলে তা পরিহার করতেই পারেন, বাট বন্ধ করার ফতোয়া দেয়ার রাইট আপনাদের নেই। মনে রাখবেন, আমাদের অসংখ্য দেবালয় বা দেব বিগ্রহ সবই হিন্দুত্বের সাথে একত্ব হয়ে আছে কাজেই এদের বিরোধীতা করা আর নিজ গায়ে থু থু ছিঁটানো একই কথা।

ইতিহাসের পাতাই আর্যদের দেবীপূজোর প্রচলন যথেষ্ট প্রাচীন কিন্তু তারা সেটি এখন মানেন না তার কারণ এখনো জানা যায়নি।

অনার্যদের প্রশ্ন আর্যরা পুরুষতান্ত্রিক তাই পূজা করেন না যখন এই প্রশ্ন করবেন তারপর আর্যদের প্রশ্নের উত্তর দেখবেন আর্যরা যদি ঈশ্বর পুরুষ হলে ঋগ্বেদের দেবীসূক্ত ও রাত্রিসূক্ত কিভাবে এলো? তারাই এক কথাটি বলবেই যদি বেদকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

                  আমার একটি কথা

সনাতন ধর্মে হিন্দুদের পূজাদি ও উপসনা হচ্ছে বলে তারা এখনো সনাতন হিন্দু ধর্মের সাথে আছে। পূজাদি ও উপসনা এটা না হলে আপনার আর্য সংস্কৃতি সনাতনধর্ম কখনোই ঠিকেই থাকতো না।

     চিন্তানায়ক স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,

আমেরিকা বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে প্রতিমা পূজার কথা বলেছেন "Hindus are not idol-worship. They are ideal worshipers"

অর্থাৎ হিন্দুরা মূর্তিপূজক নন, তাঁরা আদর্শের পূজারী। প্রতিমা হলো আদর্শ ও সত্যের প্রতিক।

             স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,

আমি ভারতবর্ষের এত জায়গায় বেড়িয়েছি, কোথাও তা কাউকে বলতে শুনিনি যে, হে মূর্তি আমি তোমার উপাসনা করছি, হে পাথর আমায় কৃপা কর।

         মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বলেছিলেন,

তোমরা (muslim রা) যাদেরকে পৌত্তলিক বল, তারা মূর্তিকে ঈশ্বর মনে করে না, বরং মূর্তির সামনে দাড়িয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে, তোমরা যদি মূর্তি ভঙ্গক হয়ে থাক, তাহলে সেই বড় বড় মূর্তি (কাবা) ভঙ্গ কর নাই কেন?

          সর্বরূপে ঈশ্বর আছেন রেফারেন্স 

রূপং রূপং প্রতিরূপো বভুব তদস্য রূপং প্রতিচক্ষণায় ৷
ইন্দ্রো মায়াভিঃ পুরুরূপ ঈয়তে যুক্তা হস্য হরয়াঃ শতা দশ ৷।
                   (ঋগ্বেদ, ৬/৪৭/১৮)

পদার্থঃ— (ইন্দ্রঃ) জীবাত্মা (রূপং-রূপং প্রতিরূপ
বভুব) প্রত্যেক প্রানির রূপে তদাকার হয়ে বিরাজমান
হন। (তত্ অস্য রূপং প্রতি চক্ষনায়) তাহা এই রূপে
আধাত্ম দৃষ্টি দ্বারা দেখায় যোগ্য। এই জীবাত্মা (সায়াভি) নানা বুদ্ধি দ্বারাই (পুরু-রূপঃ ইয়তে) নানা রূপের জানা যায়। (অস্য ইহার শাসনে, দেহ মধ্যেই (দশ শতা হরয়ঃ) দশ শত প্রানগন অশ্ব বা ভূত্যের সমান (যুক্তাঃ) যুক্ত জ্ঞান তন্তু তথা শক্তিতন্তু রূপে কাজ করে।

অনুবাদঃ— “রূপে রূপে প্রতিরূপ (তাহার অনুরূপ) হইয়াছেন, সেই ইহার রূপকে প্রতিখ্যাপনের (জ্ঞাপনের) জন্য ইন্দ্র মায়াসমূহের দ্বারা বহুরূপ প্রাপ্ত হন। যুক্ত আছে ইহার অশ্ব শত দশ (অর্থাৎ সহস্র)৷”

পূজার রেফারেন্স— ঋগ্বেদীয় সর্বানুক্রমণী ব্রাহ্মণে হব্যবাহনী অর্চন দেখুন, পেয়ে যাবেন পূজার সম্পর্কে। বৈদিক ব্রাহ্মণ গ্রন্থে দেবস্বরূপের সাকার নিরাকার বর্ণনা আছে।

পবিত্র বেদে যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে ব্যাসদেব ভুল। ব্যাসদেব যদি কেবল সাকার ভাবেন, তবে অবশ্যই ভুল, কারণ সাকার নিরাকার উভয়ই তাঁর স্বরূপ, সকল বৈপরীত্য একমাত্র ব্রহ্মেই প্রকাশিত।

ঋগ্বেদ— ৮/১৮/৩ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ১৮/১৩ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ৮/১৬ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ১৩/৪১ নং মন্ত্র।
অথর্ববেদ— ২/৩/৪ নং মন্ত্র।

দেখুন মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা বেদসিদ্ধ ও স্বীকৃত কোথাও মানা করা হয়নি যে মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা করতে পারবেন না।

প্রতিমা মূর্তির পূজা হল প্রতীকের মাধ্যমে ঈশ্বরের আরাধনার একটা উপাসনা পদ্ধতি। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এটাকে ধর্মের সাথে বা মূল ধর্মগ্রন্থ বেদের সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। মূর্তিপূজা বৈদিক উপাসনা পদ্ধতি যজ্ঞের বিবর্ধিত রুপ, পূজার মধ্যে বৈদিক যজ্ঞ করা হয়। বেদান্তবাদী শংকরাচার্য নিজের মঠ গুলিতে সরস্বতী পূজার প্রচলন করেন এবং পঞ্চমতের পূজা পদ্ধতি প্রচলন করেন। মূর্তি পূজার মত উপাসনা পদ্ধতি নিয়ে আমাদের বেদজ্ঞরা খারাপ কিছু না পেলেও এখনকার আধা শিক্ষিতরা লাফালাফি করছে। পৃথিবীর সকল ধর্মই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে মূর্তির সাহায্যে নিয়ে থাকে। আশ্চর্য ব্যাপার এখনকার হিন্দুরা এই মূর্তি পূজার অর্থ বুঝতে পারছে না, এটার প্রমান পাওয়ার জন্য বেদ গীতা খুঁজে বেড়াচ্ছে।

মুসলমান, খ্রিস্টানদের প্রবর্তকরা নিরক্ষর ছিল, তাদের জ্ঞানের অভাব অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায়, তারা না বুঝে পৃথিবীর সকল ধর্মের (নিজের টা বাদে) নিন্দা করে। এখন দেখছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দর্শন বেদ, বেদান্তের অনুসারী শিক্ষিত হিন্দুরা মূর্খদের কথায় নিজের ধর্মের উপাসনা পদ্ধতির চুলচেরা বিশ্লেষন করছে। হিন্দুরা কি এখন নিজেরাই কি নিজেদের ব্যবচ্ছেদ করতে ব্যস্ত?

            মূর্তি পূজার প্রাণ প্রতিষ্ঠা যুক্তি 

ধরেন আপনি একটা বাল্প তৈরি করেছেন এখন সেই বাল্পটিকে আপনি কিভাবে জ্বালাবেন নিরাকার শক্তি কারেন্ট দ্বারাই তাই না তাহলে আপনি নিজেই বুঝেনিন মূর্তি মধ্যে বেদের মন্ত্র দ্বারাই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

যেভাবে আপনি একটা বাল্পকে জ্বালনোর জন্য একটি নিরাকার শক্তিকে ব্যবহার করলেন ঠিক তেমনি বেদের মন্ত্রের শক্তি দ্বারাই নিরাকার শক্তিকে আহ্বানে মাধ্যমে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
                       
ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি!

জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব                                
                     শ্রী বাবলু মালাকার
                 (সনাতন ধর্মের প্রচারক)

Post a Comment

0 Comments