ওঁ তৎ সৎ
১) প্রশ্নঃ— গীতাধ্যান 'গীতাকে 'অম্ব' বলিয়া সম্বােধন করা হইয়াছে। ভগবদগীতে অস্ব' এই সম্বােধনের তাৎপর্য কি? গীতাকে মায়ের সঙ্গে, 'Mother'এর সঙ্গে তুলনা দেওয়া হইয়াছে কেন?
উত্তরঃ— গীতাকে উপনিষদ বলা হয়। 'উপনিষদ শ্রুতির অন্তর্গত। শ্রুতি দেবী বাক্। তিনি সরস্বতীও। বেদে এই সরস্বতীকে অম্বিতমে' বলে সম্বোধন করা হয়েছে, তার মাতৃমূর্তির অতি মধুর বর্ণনা সেখানে আছে। এই সব অমুষঙ্গে শ্রুতিকে 'মাতা বলা হয়। গীতা ও তাই অম্বা বা মাতা।
২) প্রশ্নঃ— শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা কি?
উত্তরঃ— ভগবান শ্রীকৃষ্ণনের অমৃত বাণী বা গান।
৩) প্রশ্নঃ— সংস্কৃতি ভাষায় গীতার অর্থ কি?
উত্তরঃ— গান।
৪) প্রশ্নঃ— শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতির রচিয়তা কে?
উত্তরঃ— মহর্ষি ব্যাস দেব।
৫) প্রশ্নঃ— কোন গ্রন্থকে পঞ্চম বেদ বলা হয়?
উত্তরঃ— শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা
৫) প্রশ্নঃ— কোন যুগে গীতা রচিত হয়?
উত্তরঃ— দ্বাপর যুগে।
৭) প্রশ্নঃ— গীতার পুরো নাম কি?
উত্তরঃ— শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা
৮) প্রশ্নঃ— কোন ধাতু হতে গীতা শব্দের
উৎপত্তি?
উত্তরঃ— গৈ (গান করা ধাতু হতে)।
৯) প্রশ্নঃ— গীতা শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কি?
উত্তরঃ— গৈ + ক্ত+ স্ত্রীয়ামাপ্ = গীতা।
১০) প্রশ্নঃ— গীতাকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা বলা হয়
কেন?
উত্তরঃ— গীতা ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মুখ-নিঃসৃত বানী বা গান।
১১) প্রশ্নঃ- কোন গ্রন্থকে সকল ধর্মীয় গ্রন্থের সার সংক্ষেপ বলা হয়?
উত্তরঃ- গীতা।
১২) প্রশ্নঃ— মানুষের সকল পাপ কিভাবে নষ্ট হয়?
উত্তরঃ— গীতা পড়ে ও গীতার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে।
১৩) প্রশ্নঃ— কোন অধ্যায়কে গীতার সার সংক্ষেপ বলা হয়?
উত্তরঃ— ২য় অধ্যায় কে।
১৪) প্রশ্নঃ— আমি কে?
উত্তরঃ— আমি চিন্ময় আত্মা, স্থূল জড় পদার্থ।
১৫) প্রশ্নঃ— আত্মা কি?
উত্তরঃ— জীবাত্মা পরমেশ্বর ভগবানের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৬) প্রশ্নঃ— আত্মার নিত্য ধর্ম কি?
উত্তরঃ— ভগবান পূর্ণ, আত্মা তাঁর অংশ, তাই জীবাত্মার নিত্য ধর্ম হচ্ছে ভগবানের সেবা করা, কেন না অংশের কাজ হচ্ছে পুণ্যের সেবা করা।
১৭) প্রশ্নঃ— মনের ধর্ম কি?
উত্তরঃ— মনের ধর্ম সংকল্প ও বিকল্প।
১৮) প্রশ্নঃ— দেহের ধর্ম কি?
উত্তরঃ— দেহের ধর্ম ভোগ আর ত্যাগ।
১৯) প্রশ্নঃ— দেহের ছয়টি পরিবর্তন কি কি?
উত্তরঃ— জন্ম, বৃদ্ধি, স্থিতি, সন্তান-সন্তুতি, সৃষ্টি, ক্ষয় ও মৃত্যু।
২০) প্রশ্নঃ— জীবের স্বরূপ কি?
উত্তরঃ— জীবের স্বরূপ হয় ভগবানের নিত্য দাস।
২১) প্রশ্নঃ— ভগবান কখন এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন?
উত্তরঃ— যখন ধর্মের পতন হয় ও অধর্মের বিকাশ ঘটে তখন ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন
২২) প্রশ্নঃ— ভগবান কেন অবতীর্ণ হন?
উত্তরঃ— সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য,দুষ্টদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্মকে সংস্থাপন করার জন্য ভগবান যুগে যুগে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন।
২৩) প্রশ্নঃ— পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় কি কি?
উত্তরঃ— চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা।
২৪) প্রশ্নঃ— পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় কি কি?
উত্তরঃ— বাক, পানি, পাদ, উপস্থ ও পায়ু।
২৫) প্রশ্নঃ— প্রকৃতির তিনটি গুণ কি কি?
উত্তরঃ— স্বত্ত্বগুণ, রজগুণ ও তমগুণ।
২৬) প্রশ্নঃ— জ্ঞানযোগী কাকে বলে?
উত্তরঃ— যারা নিরাকার ব্রক্ষের উপাসনা করে ব্রক্ষে লীন হওয়ার জন্য প্রয়াস করে, তাদেরকে জ্ঞানযোগী বলে।
২৭) প্রশ্নঃ— ভগবানকে লাভ করার জন্য কলিযোগে কোন পন্থা সর্বোৎকৃষ্ট?
উত্তরঃ— কীর্তন করাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
২৮) প্রশ্নঃ— জীবের প্রকৃত সমস্যা বা দুঃখ কি?
উত্তরঃ— জন্ম, মৃত্যু, জড়া ও ব্যাধি।
২৯) প্রশ্নঃ— ভগবানের সাথে জড়জগতের সম্পর্ক কি?
উত্তরঃ— জড়জগৎ হচ্ছে ভগবানের অনুৎকৃষ্টা বহিরঙ্গা শক্তির থেকে উৎপন্ন।
৩০) প্রশ্নঃ— শ্রীকৃষ্ণ গীতার জ্ঞান প্রথম কাকে দিয়েছিল?
উত্তরঃ— সূর্য্য দেব বিবস্বানকে। (৪/১)
৩১) প্রশ্নঃ— কত বছর আগে সূর্য্য দেব এই জ্ঞান পেল?
উত্তরঃ— এখন থেকে ১২,০৪,০০,০০০ আগে।
৩২) প্রশ্নঃ— সূর্য্য দেব পরে এই জ্ঞান কাকে দিয়েছিল?
উত্তরঃ— মানব জাতির জনক মনুকে।
৩৩) প্রশ্নঃ— এখন থেকে কত বছর আগে মনু পেয়েছে?
উত্তরঃ— আজ থেকে ২০,০০,০০০ বছর আগে।
৩৪) প্রশ্নঃ— মনু এই গীতার জ্ঞান কাকে দিেয়ছিল?
উত্তরঃ- ইক্ষাকুকে।
৩৫) প্রশ্নঃ— পুনরায় ভগবান শীকৃষ্ণ এই গীতার জ্ঞান কাকে দিয়েছিল?
উত্তরঃ— পান্ডু পুত্র অর্জুন কে।
৩৬) প্রশ্নঃ— কত বছর আগে অর্জুন এই জ্ঞান লাভ করে?
উত্তরঃ— এখন থেকে প্রায় ৫,২০০ বছর আগে।
৩৭) প্রশ্নঃ— মহাভারতের কোন অংশে এই গীতার জ্ঞান আছে?
উত্তরঃ— মহাভারতের ভীষ্মপর্বের ২৫-৪২ অধ্যায়ের।
৩৮) প্রশ্নঃ— গীতাকে শপ্তশতী বলা হয় কেন?
উত্তরঃ— গীতায় ৭০০ শ্লোক আছে তাই।
৩৯) প্রশ্নঃ— গীতায় কয়টি শ্লোক আছে?
উত্তরঃ- শ্লোক সংখ্যা ৭০০ টি।
৪০) প্রশ্নঃ— গীতায় কয়টি অধ্যায় অাছে?
উত্তরঃ— অধ্যায় সংখ্যা ১৮ টি।
৪১) প্রশ্নঃ— গীতার কয়টি নাম রয়েছে?
উত্তরঃ— ১৮টি
১) গঙ্গা, ২) গীতা, ৩) সাবিত্রী, ৪) সীতা, ৫) সত্যা, ৬) পতিব্রতা, ৭) ব্রহ্মবিদ্যা, ৮) ব্রহ্মাবলী, ৯) ত্রিসন্ধ্যা, ১০) মুক্তিগেহিনী, ১১) অর্ধমাত্রা, ১২) চিতানন্দা, ১৩) ভবগ্নী, ১৪) ভ্রান্তিনাশিনী, ১৫) বেদত্রয়ী, ১৬) পরানন্দা, ১৭) তত্ত্বার্থ, ১৮) জ্ঞানমঞ্জুরী।
৪২) প্রশ্নঃ— গীতায় কে কয়টি শ্লোক বলেছিল?
উত্তরঃ— ধৃতরাষ্ট ১ টি, সঞ্জয় ৪০ টি, অর্জুন ৮৫ টি, শ্রীকৃষ্ণ ৫৭৪।
৪৩) প্রশ্নঃ— গীতা কোন ছন্দে রচিত?
উত্তরঃ— অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত, তবে কিছু শ্লোক ত্রিষ্টুপ ছন্দে রচিত।
৪৪) প্রশ্নঃ— অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ শ্লোক সংখ্যা কত?
উত্তরঃ— অনুষ্টু শ্লোক সংখ্যা ৬৪৫টি, ত্রিষ্টুপ শ্লোক সংখ্যা ৫৫টি।
৪৫) প্রশ্নঃ— অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ ছন্দ কত অক্ষর বিশিষ্ট?
উত্তরঃ— অনুষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৩২ অক্ষর বিশিষ্ট, ত্রিষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৪৪ অক্ষর বিশিষ্ট।
৪৬) প্রশ্নঃ— গীতায় অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের কয়টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ— অর্জুনের ২০ টি নাম ও শ্রীকৃষ্ণের ৩৩ টি নাম।
৪৭) প্রশ্নঃ— গীতার ১-৬ অধ্যায়কে কি বলে?
উত্তরঃ— কর্ম ষটক।
৪৮) প্রশ্নঃ— গীতার ৭-১২ অধ্যায়বে কি বলে?
উত্তরঃ— ভক্তি ষটক।
৫০) প্রশ্নঃ— গীতার ১৩-১৮ অধ্যায়কে কি বলে?
উত্তরঃ— জ্ঞান ষটক।
৫১) প্রশ্নঃ— শ্রীকৃষ্ণ এই গীতার জ্ঞান কত দিন দিয়েছিল?
উত্তরঃ— যুদ্ধের মাঝখানে ১৮ দিনে।
৫২) প্রশ্নঃ— শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই জ্ঞান কত মিনিটে প্রদান করেছিল?
উত্তরঃ— মাত্র ৪০ মিনিটে।
৫৩) প্রশ্নঃ— শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কিভাবে পূজা করতে বলেছেন?
উত্তরঃ— ভক্তি সহকারে পত্র, পুষ্প, ফল, জল অর্পনের মাধ্যমে। (৯/২৬)
৫৪) প্রশ্নঃ— অর্জুন কখন বুঝতে পারলেন শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বা পরমেশ্বর ?
উত্তরঃ— ১১ অধ্যায়ের বিশ্বরুপ-দর্শনযোগের মাধ্যমে।
৫৫) প্রশ্নঃ— শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কার উপাসনা ও আশ্রয় নিতে বলেছে?
উত্তরঃ— ১২ অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাকার উপাসনা ও আশ্রয় নিতে বলেছেন।
৫৬) প্রশ্নঃ— সনাতন অর্থ কি?
উত্তরঃ— স = সত্যকে গ্রহন করা; না = নিষেধ কর্ম; যেমন দুদ্ক্ম , হিংসা,কাম ক্রোধ, রাগ ও আততায়ী মূলক কাজ; ত = ত্যাগ কর; ন = নতুন কে গ্রহন কর।
৫৭) প্রশ্নঃ— হিন্দু শব্দের অর্থ কি ?
উত্তরঃ— হি = হিংসা , কাম ক্রোধ , লােভ ন = নিন্দা। দু = দুর করা। = মহাভারত থেকে (যক্ষ ও যুধিষ্ঠির এর প্রশ্নোত্তর পর্ব)
৫৮) প্রশ্নঃ— কিভাবে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে?
উত্তরঃ— বেদ পাঠের মাধ্যমে।
৫৯) প্রশ্নঃ— কিভাবে ব্যক্তি মহৎ হতে পারে?
উত্তরঃ— সাধু সুলভ ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে।
৬০) প্রশ্নঃ— কিভাবে ব্যক্তি দ্বিতীয় হতে পারে?
উত্তরঃ— সাহস অবলম্বন করে।
৬১) প্রশ্নঃ— কিভাবে ব্যক্তি বুদ্ধিমান হতে পারে?
উত্তরঃ— গুরুজনদের সেবা করে।
৬২) প্রশ্নঃ— ব্রাহ্মণদের দেবত্ব প্রতিষ্ঠা হয় কিসে?
উত্তরঃ— বেদ অধ্যয়ন করে।
৬৩) প্রশ্নঃ— ব্রাহ্মনদের গুন কি?
উত্তরঃ— ব্রহ্মচর্য।
৬৪) প্রশ্নঃ— ব্রাহ্মণদের দোষ কি?
উত্তরঃ— নিন্দা করা।
৬৫) প্রশ্নঃ— ব্রাহ্মণদের মানুষ সুলভ বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ— নশ্বরতা।
৬৬) প্রশ্নঃ— কে পৃথিবীর চেয়ে ভারী?
উত্তরঃ— মা।
৬৭) প্রশ্নঃ— কে স্বর্গের চেয়ে উচু?
উত্তরঃ— পিতা।
৬৮) প্রশ্নঃ— বায়ুর চেয়ে দ্রুতগামী কে?
উত্তরঃ— মন।
৬৯) প্রশ্নঃ— ঘাসের চেয়ে সংখ্যায় বেশি কি?
উত্তরঃ— দুশ্চিন্তা।
৭০) প্রশ্নঃ— ধর্মের সর্বোচ্চ আশ্রয় কি?
উত্তরঃ— ঔদার্য এবং সত্য।
৭১) প্রশ্নঃ— খ্যাতির আশ্রয় কি?
উত্তরঃ— উপহার।
৭২) প্রশ্নঃ— সকল প্রশংসনীয় বস্তুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
উত্তরঃ— দক্ষতা।
৭৩) প্রশ্নঃ— সকল ধনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
উত্তরঃ— বিদ্যা।
৭৪) প্রশ্নঃ— সকল সুখের শ্রেষ্ঠ সুখ কোনটি?
উত্তরঃ— সন্তুষ্টি।
৭৫) প্রশ্নঃ— সকল প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি কোনটি?
উত্তরঃ— সুস্বাস্থ্য।
৭৬) প্রশ্নঃ— পৃথিবীতে পরম ধর্ম কি?
উত্তরঃ— আঘাত না করা।
৭৭) প্রশ্নঃ— কোন গুনটি সর্বদায় ফল দেয়?
উত্তরঃ— তিন বেদে উক্ত ক্রিয়া কর্ম।
৭৮) প্রশ্নঃ— কাকে নিয়ন্ত্রন করলে অনুশােচনা করতে হয় না?
উত্তরঃ— মনকে।
৭৯) প্রশ্নঃ— কার সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হয় না?
উত্তরঃ— ভাল লােকের।
৮০) প্রশ্নঃ— কোন শত্রু অপারেজেয়?
উত্তরঃ— রাগ।
৮১) প্রশ্নঃ— কি মানুষের মধ্যে দুরারােগ্য রোগের জন্ম দেয়?
উত্তরঃ— কামুকতা।
সনাতন ধর্ম হলো আদি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূলত সনাতন ধর্ম হলো জ্ঞান ও গুনের সুন্দর সমন্বয় যা চিরন্তন সত্য। জীবের ও প্রকৃতির নিয়মের চিরন্তন প্রকাশ হলো সনাতন ধর্ম। আমার ক্ষুদ্র চেষ্টায় আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করেছি এবং সেটা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)

0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার