Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

ঈশ্বর তত্ত্ব ও অবতার তত্ত্ব


সনাতন ধর্ম মতে, ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ মহাশক্তি হলে অবশ্যই তিনি সাকার ও নিরাকার হতে পারেন। ঈশ্বর তথা সাকার রূপে ভগবান নিদিষ্ট শক্তির মানব রূপে এক প্রকাশ দুষ্টের দমন, অধর্মকে দুর করে ধর্ম সংস্থাপন এর জন্য ভগবান যখন মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়ে তাঁর লীলার মাধ্যমে অধর্মকে ধ্বংস করে ধর্ম সংস্থাপন করেন তিনিই অবতার। অবতার নির্দিষ্ট কাজের শেষে তিনি আবার মূল শক্তির সাথে একীভূত হয়ে যান। ঈশ্বর যখন স্বয়ং আবির্ভূত হন তখন তাঁকে অবতার বলে। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্মকে স্বমহিমায় স্থাপন করার জন্য যখন যে রূপ দরকার, যখন যতটুকু শক্তি প্রয়োগ দরকার তখন নানান রূপ ধরেই ঈশ্বর পৃথিবীতে আসেন। আমাদের সকলের ধারণা এই যে, কেবলমাত্র গীতায় ও পুরাণেই অবতারের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বেদেই ও যে অবতার তত্ত্বের আভাস রয়েছে এটা আমরা জানি না।

(ঋগ্বেদ ১/৫১-৫৭) সূক্ত সমূহের দ্রষ্টা অঙ্গিরা ঋষির পুত্র সব্য ঋষি। মহর্ষি অঙ্গিরা ইন্দ্রসম পুত্র লাভ করিতে অভিলাষী হইয়া ইন্দ্রের উপাসনা করেন। ইন্দ্র স্বয়ং তাঁহার পুত্র হইয়া জন্মগ্রহণ করেন। ঐ পুত্রের নামই সব্য।

               বেদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—
এক সৎ ঈশ্বরকেই পণ্ডিতগণরা বহু নামে কল্পনা করেন। তাঁহাদের নাম, অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র ইত্যাদি।
(ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪৬)।

পবিত্র বেদ ভালভাবে পাঠ করলে এই চরম সত্যটি জানা যায়। অতএব, পবিত্র বেদমতে ইন্দ্রই পরব্রহ্মের একটি নাম ও রূপ।

বিষ্ণুর ত্রিবিক্রমণের, ঋগ্বেদে বহুবার আছে—
ত্রেধা নি দধে পদম (ঋগ্বেদ, ১/২২/১৭)— তিন পায়ে বিশ্ব আক্রমণের কথা বলা হয়েছে। এই বাক্যে বামন অবতারের কথা বলা হয়েছে।

(কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় সংহিতা, ৭/১/৫/১) মন্ত্রে বলা হয়েছে বরাহ অবতারের কথা।

অদ্বৈতবেদান্তের ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে আচার্য শঙ্কর ও মধুসূদন সরস্বতী সর্বশ্রেষ্ঠ। অদ্বিতীয় বেদজ্ঞ পণ্ডিত হয়েও দুজনেই শ্রীকৃষ্ণের অবতার তত্ত্ব স্বীকার করেছেন। বেদে কোন ইঙ্গিত না পাইলে স্বীকার করতেন না। সুতরাং বেদ অবতার তত্ত্ব বিরোধী নয়।

                               তথ্যসূত্র
       (বেদ বিচিন্তন, ডঃ মহানামব্রত ব্রহ্মচারী)

              মহর্ষি পতন্জলী যোগদর্শনে

"ক্লেশকর্মবিপাকশৈয়রপরামৃষ্টঃ পুরুষবিশেষ ঈশ্বরঃ;
(যোগদর্শন, ১/২৪)

ভাবার্থঃ— ক্লেশ, কর্ম, বিপাক ও আশয় এই চারের সঙ্গে যার কোন সম্বন্ধ নেই যিনি সমস্ত পুরুষের মধ্যে উত্তম, তিনিই ঈশ্বর।

দেখুন এখানে,—
১) ক্লেশঃ— অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ, অভিনিবেশ।
২) কর্মঃ— পূণ্য, পাপ, পূণ্যও পাপমিশ্রিত এবং পাপ পূণ্যরহিত।
৩) বিপাকঃ— কর্মফলের নাম বিপাক।
৪) আশয়ঃ— যাবতীয় কর্ম সংস্কারের নাম আশয়।
এই চারের সাথে সমন্ধহীন উত্তম পুরুষই ঈশ্বর পদবাচ্য।
এজন্যই ঈশ্বরকে "আনন্দময় " বলা হয়েছে।

অর্থাৎ তিনি কখনো দুঃখ, ক্লেশ, কর্মফল ভোগ করেন না। তিনি সর্বদা আনন্দময় স্বরূপে স্থিত।

যদি এরূপ বলা হয় যে, ঈশ্বর পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেন তবে বলতে হবে তিনি তার আনন্দময় স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হলেন। কারন জন্মগ্রহনকারীর গর্ভস্থ যন্ত্রনা, কর্মফল এবং ত্রিতাপ জ্বালা ভোগ করার প্রয়োজন পড়ে। যদি ঈশ্বর এক মুহুর্তের জন্যও তার আনন্দময় স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হন। তবে তিনি ঈশ্বরের সঙ্গা কদাপি প্রাপ্ত হতে পারবেন না। অনেকে বলেন ঈশ্বর পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করলেও তিনি তার স্বরূপ চ্যুত কখনো হন না। এটা অনেক বড় ভূল কথা কারণ পঞ্চভৌতিক দেহ ধারণ করলে সে দেহে জরা ব্যাধি, দুঃখ আসবেই। এমন কোন উদাহরন কেউ দিতে পারবেন না যিনি এই ভৌতিক দেহেকে এক মুহুর্তের জন্যও দুঃখ পাইনি।

ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয় তিনি এক সত্ত্বাধিকারী পরমব্রহ্ম এই হলো চৈতন্যময় সত্ত্বা আমাদের মধ্যে রয়েছেন সাকার ও নিরাকার দৃশ্যে।

সাকার ও নিরাকার ঈশ্বর ও অবতার তত্ত্ব
কিছু রেফারেন্স—

(সাম উত্তরাঃ ৬৮১)
(অথর্ববেদ, ১০/২/৩১)
(ন্যায়সূত্র-৪/১/১৯)
(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, ১১।। তৃতীয় অধ্যায়)
(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, ৯।। তৃতীয় অধ্যায়)
(ঈশ উপনিষদ, ৪)
(যোগসূত্র-১/২৪)
(যোগসূত্র-১/২৫)
(যোগদর্শন, ১/২৪)
(ঋগ্বেদ, ৬/৪৭/১৮)
(ঋগ্বেদ, ৪/৫৮/২)
(ঋগ্বেদ, ৪/৫৮/৩)
(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, ২/১৬)
(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, ৪/৩)
(কৃষ্ণযজুর্বেদ, ৭/১/৫/১)
(শ্রীগীতা, ৪/৭-৮)

পবিত্র বেদ, উপনিষদ শুধু এই নয় গীতায়ও আছে অবতার তত্ত্ব। গীতায় কি কি মার্গ ও ধর্মের সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়— সাংখ্যযোগ, সংন্যাস, কর্মযোগ, যোগ, যজ্ঞ, বুদ্ধিযোগ, ইন্দ্রিয়-সংযম, ইন্দ্রিয়-নিরোধ, ব্রহ্মচর্য, কর্ম-সংযম, তপ, বেদপাঠ, প্রাণায়াম, উপবাস, চিত্তবৃত্তি নিরোধ, দান, অন্ত কালে, ব্রহ্ম স্মরণ, অবতার বাদ, পুনর্জন্মবাদ, ওঙ্কারের ধ্যান, অহোরাত্র বিদ্যা, অধ্যাত্ম-অধিদৈব-অধিযজ্ঞবাদ, দেবতাপূজা, পিতৃপূজা, ভূতপূজা, যক্ষপূজা, পত্র-পুষ্প-ফল-জল ইত্যাদি উপচারে পূজা, মন্ত্র, ঔষধ, রাজবিদ্যা।

        ঈশ্বর, ভগবান ও দেবতা সম্পর্কে আলোচনা

                             ঈশ্বর কে?
প্রথমে বলি ঈশ্বর তিনি সাকার মধ্যে নিরাকার হয়ে থাকেন, তিনি এক মহাশক্তি, তিনি এক প্রকৃতির মহাশক্তি। মূলত শক্তিই হলেন ঈশ্বর। ঈশা হতে ঈশ্বর শব্দটি এসেছে যার অর্থ ব্রহ্ম। বেদ বলে তিনি আদিতে ছিলেন সৃষ্টির সবকিছুর উৎস তিনি সমগ্র অস্তিত্বর তিনি ব্রহ্ম। আকাশ ও ভূন্ডলের বিরাজমান সবকিছু লালন পালন কারী। অন্য কারো কাছে নয় শুধু মাত্র সেই মহাপ্রভু পরমব্রহ্ম কাছে আমাদের সবকিছু সমার্পন করছি এই হলো ঈশ্বর।

ঈশ্বর হলেন এই সমস্ত সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা নিয়ন্ত্রক কারী। আর ভগবান হলো যিনি সমস্ত ঐশ্বর্য, বীর্য্য, যশ, জ্ঞান, শ্রী, বৈরাগ্য আছেন তখন তিনি ভগবান। অনেকে মুনি ঋষিদের ও অবতার বলে আমরা ভগবান বলি। ঈশ্বর সর্বব্যপী বিরাজিত তিনি উর্ধ্বে, চারপাশে সর্বদিকে বিদ্যমান সর্বব্যপী স্রষ্টা, যিনি আমাদের মধ্যেও ব্যক্তিত্বরূপে বিদ্যমান, আর এটি জেনেই একজন যোগী পুরুষ তাঁর সাথে একাত্ব হয়ে যান, যিনি তা জানেন তিনি ঈশ্বরকে সর্বব্যপী বলে বুঝতে পারেন, বুঝতে পারেন যে আমরাও তার অংশ। ঈশ্বর সকল ব্যষ্টির সমষ্টি-স্বরূপ। তথাপি তিনি ‘ব্যক্তি-বিশেষ’, যেমন মনুষ্যদেহ একটি বস্তু, ইহার প্রত্যেক কোষ একটি ব্যষ্টি।

সমষ্টি—ঈশ্বর, ব্যষ্টি—জীব। সুতরাং দেহ যেমন কোষের উপর নির্ভর করে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব তেমনি জীবের অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে। এর বিপরীতটিও ঠিক তেমনি এইরূপে জীব ও ঈশ্বর যেন সহ-অবস্থিত দুইটি সত্ত্বা— একটি থাকলে অপরটি থাকবেই। অধিকন্তু আমাদের এই ভূলোক ব্যতীত অন্যান্য উচ্চতর লোকে শুভের পরিমাণ অশুভের পরিমাণ অপেক্ষা বহুগুণ বেশী থাকায় সমষ্টি (ঈশ্বর)-কে সর্বমঙ্গল-স্বরূপ বলা যেতে পারে। সর্বশক্তিমত্তা ও সর্বজ্ঞত্ব ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ গুণ, এবং সমষ্টির দিক্ হতেই ইহা প্রমাণ করবার জন্য কোন যুক্তির প্রয়োজন হয় না। ব্রহ্ম এই উভয়ের ঊর্ধ্বে, এবং একটি সপ্রতিবন্ধ বা সাপেক্ষ অবস্থা নয়। ব্রহ্মই একমাত্র স্বয়ংপূর্ণ, যা বহু এককের দ্বারা গঠিত হয়নি। জীবকোষ হতে ঈশ্বর পর্যন্ত যে-তত্ত্ব অনুস্যূত, যা ব্যতীত কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকে না এবং যা কিছু সত্য, তাই সেই তত্ত্ব বা ব্রহ্ম। যখন চিন্তা করি— আমি ব্রহ্ম, তখন মাত্র আমিই থাকি; সকলের পক্ষেই এককথা প্রযোজ্য; সুতরাং প্রত্যেকেই সেই তত্ত্বের সামগ্রিক বিকাশ।

                             ভগবান কে?
ভগবান হলো ঈশ্বরের গুন প্রকাশ যেমন ভগবান যিনি সমস্ত ঐশ্বর্য, বীর্য্য, যশ, জ্ঞান, শ্রী, বৈরাগ্য আছে তখন তিনি ভগবান। ঈশ্বর যখন নিজেকে গুন রুপে প্রকাশ করে। তার ষড়ৈশ্বর্য অধিশ্বর বলে থাকি তখন তিনি ভগবান। যিনি সমস্ত প্রানী উৎপত্তি বিনাশ বিদ্যা ও অবিদ্যা কে জানেন তিনি ভগবান নামে অভিহিত। সৃষ্টি, স্থিতি তথা প্রতিপালন ও প্রলয় যাঁদের মাধ্যমে পরিচালিত; সেই ত্রিমূর্তি হলেন ভগবান। ব্রহ্মা (সৃষ্টি), বিষ্ণু (স্থিতি তথা প্রতিপালন), শিব (প্রলয়) এই ত্রিমূর্তি সনাতন মতে ভগবান। আবার ভক্ত মনে করেন নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ হলো ভগবান; অর্থাৎ ঈশ্বরের কাজ এই ত্রিমূর্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।

                              দেবতা কে?
দেবতা হলো শক্তির প্রকাশ মাত্র। ভগবানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে যারা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকারী হন তাঁরাই হলেন দেবতা। যাস্ক তার নিরুক্তি তে বলেছেন যিনি প্রকাশিত হয়ে দান করেন তিনি হলেন দেবতা। আর দেবতা তেত্রিশ জন। অবতার অবতার হলো যিনি নিজ স্থিতি হতে নিন্মে অবতরন করেন তাকে অবতার বলে। তবে অবতারের করা ধর্ম স্থাপন ও পাপীদের বিনাশ করা।

                 এখন প্রশ্ন হলো এরা কি অলাদা?
না এরা কেউ আলাদা নয়। এরা হলো ঈশ্বরের শক্তিরূপী গুন, ইচ্ছা, ও ক্রিয়ার প্রকাশ মাত্র। যেমন চন্দ্র ও চন্দ্রের কিরণ দুধ ও দুধের ধবলতার ন্যায় এক ও অভেদ। আর এই অভেদ জ্ঞান হলো মুক্তির দ্বারা।

ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি

জয় শ্রীরাম
জয় শ্রীকৃষ্ণ
হর হরমহাদেব  
                       শ্রী বাবলু মালাকার
                   (সনাতন ধর্মের প্রচারক) 

Post a Comment

0 Comments