Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

বৈদিক সভ্যতা | বৈদিক সভ্যতার ৬৫ টি ছোট প্রশ্নোত্তর মালা।দ্বিতীয় পর্ব


বৈদিক সভ্যতা | বৈদিক সভ্যতার ৬৫ টি ছোট প্রশ্ন সনাতন ধর্মের অল্পকিছু তথ্য ও প্রশ্নোত্তর,

Vedic Civilization Question Answer in Bengali.

১) ঈশ্বরের রূপ কি?
উত্তরঃ— তিনি নিরাকার, তিনি মহা শক্তি, তিনি প্রকৃতির শক্তি। মূলত শক্তিই হলেন ঈশ্বর।

২) ঈশ্বরকে জীবাত্মা বলা হয় কেন?
উত্তরঃ— ঈশ্বর যখন নিজেই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাকে জীবাত্মা বলা হয়।

৩) ভগবান এর রূপ কি?
উত্তরঃ— সৃষ্টি, স্থিতি তথা প্রতিপালন ও প্রলয় যাঁদের মাধ্যমে পরিচালিত; সেই ত্রিমূর্তি হলেন ভগবান। ব্রহ্মা (সৃষ্টি), বিষ্ণু (স্থিতি তথা প্রতিপালন), শিব (প্রলয়) এই ত্রিমূর্তি সনাতন মতে ভগবান। আবার ভক্ত মনে করেন নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ হলো ভগবান; অর্থাৎ ঈশ্বরের কাজ এই ত্রিমূর্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।

৪) দেবতা কে?
উত্তরঃ— ভগবানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে যারা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকারী হন তাঁরাই হলেন দেবতা।

৫) অবতার কে?
উত্তরঃ— নিরাকার ঈশ্বর তথা সাকার ভগবানের নিদিষ্ট শক্তির মানব রূপ। দুষ্টের দমন, অধর্মকে দুর করে ধর্ম সংস্থাপন এর জন্য ভগবান যখন মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়ে তাঁর লীলার মাধ্যমে অধর্মকে ধ্বংস করে ধর্ম সংস্থাপন করেন তখন তাকে অবতার বলে। নির্দিষ্ট কাজ শেষ করে তিনি মূল শক্তির সাথে একীভূত হয়ে যান।

৬) ঋষি কে?
উত্তরঃ— সাধনা, ভক্তি ও জ্ঞানের বিকাশ দ্বারা নিরকার ঈশ্বর ও সাকার ভগবানের শক্তিকে অনুভব করেন যারা তাঁরা ঋষি। সনাতন এর সমস্ত দর্শন এই ঋষিদের জ্ঞান দ্বারা সমৃদ্ধ। যুগ ধর্ম প্রতিষ্ঠায় সনাতনের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন সর্বপরি ধর্ম শিক্ষা ও প্রচারে তাঁদের ভূমিকা ছিল।

৭) সাধক কে?
উত্তরঃ— নির্দিষ্ট শক্তির স্তুতি বা ভগবান বা ত্রিমূর্তির যে কোন এক রুপের স্তুতি বা দেবতার স্তুতি বা অবতার এর প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে যিনি ভক্তি ভরে ইষ্টের আরাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন তিনি সাধক। তাঁরা অর্জিত জ্ঞান দ্বারা সময় ও যুগ উপযোগী মত ও পথের প্রচার করে সনাতন এর জ্ঞান কে সকলের গ্রহণ উপযোগী করে উপস্থাপন করেন।

৮) অসুর কে?
উত্তরঃ— সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের চিরন্তন নিয়মকে লঙ্ঘন করে যারা ভক্ত, মানব ও প্রকৃতির ক্ষয় সাধন করেন এবং অর্জিত শক্তির অপ-প্রয়োগ করে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন তাঁরা অসুর।

৯) ব্রহ্মশক্তি কি?
উত্তরঃ— ব্রহ্মের অনির্বচনীয় শক্তি। যে ব্রহ্মের ওপর নির্ভরশীল। সেই তিনি ব্রহ্মশক্তি। ব্রহ্মের ওপর আধারিত যে সেই ব্রহ্মশক্তি। মায়া আরেকটি বস্তু কিন্তু তার পৃথক সত্তা নেই, মায়াই সবকিছু করছে। জগৎটাকেই ভ্রম বলা হচ্ছে। যেমন— শক্তি ব্রহ্ম ছাড়া নেই, ব্রহ্ম শক্তি ছাড়া নেই। তাই আমরা বলি ব্রহ্ম ও শক্তি অভেদ অর্থাৎ তাঁরা ভিন্ন নন। জগৎটা সত্য, ব্রহ্ম রূপে সত্য। সত্যে সত্য প্রতিষ্ঠা, তাই বলা হয়— ব্রহ্ম সত্য, জগৎ সত্য। যাঁকে মা বলছি তিনিই দেবীঈশ্বর, যাঁকে দেবীঈশ্বর বলছি তিনিই মা। কিছু কিছু ভেদ থাকলেও সত্তা একই। যেমন— আমার মায়া এই শক্তি মায়া এক রকম অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

১০) চিন্তার শক্তি কি?
উত্তরঃ— চিন্তার শক্তি হইতেই সর্বাপেক্ষা বেশি শক্তি পাওয়া যায়। বস্তু যত সূক্ষ্ম, ইহার শক্তিও ততই বেশি। চিন্তার নীরব শক্তি দূরের মানুষকেও প্রভাবিত করে, কারণ মন এক, আবার বহু। জগৎ যেন একটি মাকড়সার জাল, মনগুলি যেন মাকড়সা। এই জগৎ সর্বব্যাপী এক অখণ্ড সত্তারই প্রকার। ইন্দ্রিয়গুলির মধ্য দিয়া দৃষ্ট সেই সত্তা এই জগৎ ইহাই মায়া।

১১) ভাণ্ড ও ব্রহ্মাণ্ড কি?
উত্তরঃ— ‘যাহা আছে ভাণ্ডে তাহা আছে ব্রহ্মাণ্ডে।’ ভাণ্ড মানে শরীর আর ব্রহ্মাণ্ড মানে জগৎ।

১২) কিছু কিছু ব্রহ্মজ্ঞানীকে দেখে কীভাবে বোঝা যায়, ইনি ব্রহ্মজ্ঞানী?
উত্তরঃ— ব্রহ্মভাব হলে কতগুলি চিহ্ন দেখে বোঝা যায়। যেমন—
(১) বালকবৎ— অর্থাৎ বালকের মতো, কোন কিছুতেই আঁট নেই।
(২) উন্মত্ত বৎ— অর্থাৎ হিতাহিত জ্ঞান নেই।
(৩) জড়বৎ— অর্থাৎ কোন বুদ্ধি ক্রিয়া করে না।
(৪) পিশাচবৎ— অর্থাৎ শুচি-অশুচি নেই। পিশাচ নয় কিন্তু পিশাচের মতো ব্যবহার করেন। তিনি সর্বত্র ব্রহ্ম দর্শন করছেন। তাই তাঁর দৃষ্টিতে কোথাও অশুচি নেই।
ব্রহ্মজ্ঞান হলো বালকের মতো, উন্মত্তের মতো, জড়ের মতো, পিশাচের মতো আচরণ করতে দেখা যায়।

১৩) ব্রহ্মময়ী স্বরূপ বলতে কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তরঃ — ব্রহ্মময়ী স্বরূপা, তাঁর স্বরূপ হচ্ছে ব্রহ্মময়ী। ব্রহ্ম মানে যিনি এই জগতে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছেন। তিনি সবকিছু প্রকাশ করছেন।

১৪) ব্রহ্ম বলতে কি?
উত্তরঃ— রূপ-গুণ দিয়ে ব্রহ্মকে চিন্তা করা যায় না। ব্রহ্ম শব্দেরও অতীত, শব্দ দ্বারা তাঁকে বর্ণনা করা যায় না, সেজন্য নেতি নেতি হিসাবে তাঁকে দেখতে হয়। ব্রহ্মকে চিন্তা করা কঠিন। একমাত্র তিনিই আছেন, আর কিছু নেই।

১৫) ব্রহ্ম ও জগৎ কি পৃথক্‌?
উত্তরঃ— ব্রহ্ম আর জগৎ আলাদা নয়। ব্রহ্মের ওপরে জগৎ আরোপিত হয়েছে।

১৬) কল্যাণময় বলি কেন?
উত্তরঃ— ঈশ্বরের কাছে আমরা কল্যাণ চাই বলে কল্যাণময় বলি—
‘যো যদ্দিচ্ছতি তস্মাৎ স তদ্‌ প্রাপ্নোতি।’
যে যা ইচ্ছা, করে তার তাই লাভ হয়।

১৭) ওঁম্-কার শব্দের মধ্যে কি?
উত্তরঃ— ওঁ কার শব্দের মধ্যে ব্রহ্ম শব্দ হলো বস্তুর বোধক। ব্রহ্মের কোন গুণ নেই, শব্দ দিয়ে তাঁকে বর্ণনা করা যায় না, কাজেই ‘ওঁ’-কার ব্রহ্মের স্বরূপ।

১৮) ব্রহ্মবিদ গুরু লাভ করলে এ জন্মে মুক্ত কীভাবে হওয়া যায়?
উত্তরঃ— ব্রহ্মজ্ঞ অর্থাৎ যিনি ব্রহ্মকে জানেন। ব্রহ্মবিদ্‌ ও ব্রহ্মজ্ঞ একই। ‘ব্রহ্মবিদ্‌ ব্রহ্মৈব ভবতি।’ শাস্ত্রে আছে, যিনি ব্রহ্মকে জানেন তিনি ব্রহ্ম হয়ে যান।

১৯) ‘শব্দ’ কি করে সুক্ষ্মরূপ কি?
উত্তরঃ— আমরা যখন সমস্ত জগতের বস্তু চিন্তা করি এবং তার অভিব্যক্তি হয় শব্দ দিয়ে। ঘট ঘট বলে চিৎকার করলেই হবে না, ঘট হলো স্থূল জিনিস, কিন্তু ‘ভাব’ যখন, তখন তা সূক্ষ্ম। কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেবার চেষ্টা হলো স্থূল বস্তু। শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ ঘট থেকে সরিয়ে দিলে স্থূল ঘট কোথায়? কিন্তু ভাবটা যদি থাকে তবে সেটা সূক্ষ্মরূপে রইল। যার মনের এত শক্তি যে তার থেকে সৃষ্ট হয় বস্তু, আমি তো করতে পারি না। আমি না পারলে কি হয় না? হয়। তবে কি করে হয়? ধ্যানের ভিতর দিয়ে হয়।

২০) সাধনামার্গ কি?
উত্তরঃ— অযোগ্যকে বা অপাত্রকে যদি কোন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় সে তা করতে পারে না। যেমন কাককে হাজার চেষ্টা করা হোক-না-না-কেন সে ময়না পাখীর মতো, চন্দনার মত কথা বলতে পারবে না। সাধনামার্গে আসা—এর জন্যেও তো যোগ্যতা আছে। কাকে আনা হবে, কাকে আনা হবে না, কাকে শেখানো হবে, কাকে শেখানো হবে না—সব জিনিস সকলকে শেখাতে নেই।

২১) ভক্ত কি?
উত্তরঃ— ভক্ত, ভক্তির দ্বারা যিনি ঈশ্বরের উপাসনা করেন, বস্তুতঃ তাকেই ভক্ত বলা হয়। আর্ত ভক্ত, অর্থাথী ভক্ত, জিজ্ঞাসু ভক্ত এবং জ্ঞানী ভক্ত। আর্ত ভক্ত : যে বা যিনি বিপদে পরে ঈশ্বরকে স্মরণ করেন তাকে আর্ত ভক্ত বলে।
ভক্ত আপনাদের মনে রোগের কষ্ট দেখে দুঃখ হোতো না, মহারাজ—তাঁর কি কষ্ট ছিলো? তিনি তো বলতেন— ‘দেহ জানে আর রোগ জানে, মন বলে তুমি আনন্দে থাক।’

২২) জপের পুরস্কার কি?
উত্তরঃ— জপের প্রাথমিক পুরস্কার হল জপে রসবোধে, নামে রুচি, নামের নেশায় পাওয়া। আর জপের অন্তিম পুরস্কার হল, নাম করতে করতে তন্ময় বা আত্মবিস্মৃত হয়ে যাওয়া, নামের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলা, নাম ছাড়া বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আর কোনকিছু খুঁজে না পাওয়া। তিনি নামই ইষ্ট নামই গুরু নামই ঈশ্বর নামই পরব্রহ্ম নামই সবকিছু— এটি নিরন্তর প্রত্যক্ষ করা, বোধে বোধ হওয়া।

২৩) দেহ কি?
উত্তরঃ— এই যে দেহ যাহাতে পরের অধিকার (অর্থাৎ মরণের পর যাহা কুকুর-শৃগালের ভক্ষ্য)—সেই দেহের পালনপোষণের আসক্ত থাকে, সেই ব্যক্তি দেহ-পোষণের দ্বারা আত্মা স্বরূপ বিস্মৃত থাকে (ফলে আত্মাঘাতীর সমান হীনদশা প্রাপ্ত হয়)।

২৪) একাগ্রতার শক্তি কি?
উত্তরঃ— একাগ্রতাই—যুদ্ধ এবং ব্যবসা বাণিজ্য; সংক্ষেপে মানুষের যে কোন ব্যবহারিক কাজে—সকল শক্তির মূল রহস্য। সুনির্দিষ্ট চিন্তা করার ক্ষমতা তোমার নিজস্ব, তাকে দর্শন করা, আয়ত্তে আনা ও ঈশ্বরের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতাও তোমার নিজের ‘হাতে’।

২৫) জম্মান্তর নিয়ে সফল গবেষণা করে আসছেন কে?
উত্তরঃ— জ্যােতিসারা ভিক্ষু।

২৬) জন্মান্তরবাদ কি?
উত্তরঃ— একবার জন্মগ্রহণ করে কর্মফল ভোগ শেষ না হলে সে কর্মফল ভোগ করার জন্য পুনরায় জন্মগ্রহণকে বলে জন্মান্তর। এ জন্মান্তর সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা থাকে তাকেই বলে জন্মান্তরবাদ।

২৭) আত্মা কি?
উত্তরঃ— জল হইতে উৎপন্ন শেওলা প্রভৃতির দ্বারা আবৃত হইয়া পুষ্করিণীস্থিত জল যেমন দৃষ্টিগোচর হয় না, সেই প্রকারে আত্মার অবিদ্যাশক্তি হইতে উৎপন্ন অন্নময়াদি পঞ্চকোশের দ্বারা আবৃত হইয়া আত্মা প্রকাশ পায় না।

২৮) মুক্তি কি?
উত্তরঃ— মুক্তপুরুষের পক্ষে জীবন-সংগ্রামের অর্থ কখনো ছিল না; কিন্তু আমাদের জন্য ইহার অর্থ আছে, কারণ নাম-রূপই জগৎ সৃষ্টি করে।বেদান্তে সংগ্রামের স্থান আছে, কিন্তু ভয়ের স্থান নাই। যখনই স্বরূপ সম্বন্ধে দৃঢ়ভাবে সচেতন হইতে শুরু করিবে, তখনই সব ভয় চলিয়া যাইবে। নিজেকে বদ্ধ মনে করিলে বদ্ধই থাকিবে; মুক্ত ভাবিলে মুক্তই হইবে।

২৯) পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন ধর্মের নাম কি?
উত্তরঃ— সর্বপ্রাচীন ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম।

৩০) পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন ধর্মগ্রন্থের নাম কি?
উত্তরঃ— সর্বপ্রাচীন ধর্মগ্রন্থের নাম "বেদ"।

৩১) সনাতন ধর্মের ধর্মগ্রন্থকে কেন অপৌরুষের বলা হয় কেন?
উত্তরঃ— "বেদ" (একশ্বেরবাদী)। বেদ ধর্মগ্রন্থ কোন মানুষ দ্বারা রচিত নয়। শ্রুতি কে বলা হয় "অপৌরুষেয়"।

৩২) বেদ কি?
উত্তরঃ— বেদ ঋষিদের ধ্যান নিঃশ্বাসে বহির্গত হয়েছে। আবার সকল জ্ঞানের আকর বেদ। সেই বেদস্রষ্টা বেদ অপেক্ষা অধিকতর জ্ঞানী হবেন। কোনও ব্যক্তি যখন কোনও বই লেখেন, তাতে তাঁর যে জ্ঞানটুকু প্রকাশিত হয়, তা সীমিত এবং ওই বইয়ে যতখানি দরকার ততখানিই প্রকাশিত হয়, কিন্তু লেখক নিশ্চয়ই তার থেকে অধিকতর জ্ঞানী।

৩৩) ধ্যান কি?
উত্তরঃ— আমি তাঁকে (শ্রীরামকৃষ্ণকে) দর্শন করেছি, মানে আমি সাক্ষাৎভাবে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেছি। আমি রামকৃষ্ণ ছাড়া কারও পায়ে মাথা নোয়াই নি। সতের বৎসর বয়স হতে ঠাকুরকেই ধরে আছি। তিনিই শক্তি, তিনিই শান্তি, তিনিই একমাত্র আশ্রয়, এ ভিন্ন আর কিছুই জানিনে।

৩৪) ত্যাগ কি?
উত্তরঃ— ত্যাগ মানে মন থেকে ছাড়া।

৩৫) বিচার কি?
উত্তরঃ— ধার্মিক কে ধর্মই রক্ষা করেন। যথার্থভাবে ধর্মকে আশ্রয় করে থাকলে কোনো কিছুরই অভাব হয় না। সুজনের কুদিন বেশিদিন স্থায়ী হয় না। সংগ্রামের ভিতর দিয়ে মানুষ বড় কাজের যোগ্য হয়, বড় সৌভাগ্য অর্জন করে। চরিত্রের মহৎ বৃত্তিগুলো হয় শক্ত সুদৃঢ়—সংসারের কোনো প্রলোভনের তাপে তা গলে না, দুঃখের আঘাতে ভাঙে না।

৩৬) নববর্ষের কেন?
উত্তরঃ— পৃথিবীর প্রত্যেক জাতিরই নববর্ষের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানকালে ১লা বৈশাখ ও ১লা জানুয়ারী যথাক্রমে বাংলা ও ইংরাজী নববর্ষ আরম্ভ উপলক্ষ্যে উৎসবের অনুষ্ঠান অধিক। এই ভারতবর্ষেই প্রাচীনকালে বামন দ্বাদশীর দিন আগামী বৎসরের আরম্ভে প্রজাপুঞ্জ রাজা জমিদারদের গৃহে আসিয়া নানা প্রকার উপহার দিত এবং বিশেষ সমারোহে ভোজনাদি অনুষ্ঠিত হইত।

৩৭) ধর্ম ও শ্রীরাম এবং শ্রীকৃষ্ণ কি?
উত্তরঃ— ধর্ম শব্দটি এত ব্যাপক যে কোনো সংকীর্ণরূপে বা সংক্ষেপে শব্দটির সম্পূর্ণ তাৎপর্য আমরা অনুভব করতে পারি না। ধর্ম এক এক জনের কাছে এক এক অর্থে প্রতীত হয়। জড়বাদীরা তাঁদের তত্ত্বালোচনায় ধর্ম শব্দটি ব্যবহার করেন। অগ্নির ধর্ম দহন, বায়ুর ধর্ম শোষণ প্রভৃতি।

৩৮) খণ্ড জ্ঞান কি?
উত্তরঃ— মানুষের সামর্থ্য খুবই সীমিত। তবে হ্যাঁ, এই সীমিত পরিবেশের ভেতরে যে যতটুকু জানে, তাই নিয়ে বলতে পারে—আমার অল্প বুদ্ধিতে আমি যা জানি, বুঝি, তদনুযায়ী কাজ করছি; কোনো গ্যারান্টি দেবার মতো বিদ্যে-বুদ্ধি আমার নেই। এইটেই হ’ল স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। আমি ইতোপূর্বে বলেছি যে জাগতিক জ্ঞান—যে রকমেই হোক আর যতই বেশী হোক না কেন—কারুর পূর্ণ জ্ঞান নেই, থাকতে পারে না।

৩৯) প্রাণের গতি কি?
উত্তরঃ— প্রাণের গতি অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী বা বিষয়মুখী, দুই-ই হইতে পারে। তাঁহার দিকে গতি হইলে সাধন-সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যাপার বিনা চেষ্টায়ই সিদ্ধ হয়—বিনা চেষ্টায় প্রাণের সংযম আয়ত্ত হয়, বিনা চেষ্টায় হৃদয়গ্রন্থি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য গ্রন্থি খুলিয়া যায়, বিনা চেষ্টায় সুন্দর সর্বাঙ্গ সম্পন্ন ভাবে আসন সিদ্ধি ঘটে এবং মেরুদণ্ড সরল রাখিয়া কার্য করিতে কোন প্রকার বেগ পাইতে হয় না।

৪০) পরমপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যিনি ক্ষরপুরুষ (জীবাত্মা) এবং অক্ষরপুরুষ (পরমাত্মাকে বা ঈশ্বর)-- এই দুই পুরুষের উর্দ্ধে বা অতীত অবস্থায় যে পুরুষ আছেন তাকেই শাস্ত্রে একমাত্র পুরুষোত্তম বলে। আর এই পুরুষোত্তম পুরুষকেই একমাত্র পরম পুরুষ বলা হয়।

৪১) অনাদিপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— অক্ষরপুরুষ (পরমাত্মাকে বা ঈশ্বর)-যিনি জীবকে কর্মফল প্রদান করেন / স্থিতি-লয় এর কর্তারুপি ঈশ্বর  / পুরুষোত্তম পুরুষ -- এই দুই পুরুষকেই শাস্ত্রের বিভিন্নতানুসারে -স্থানানুসারে অনাদি পুরুষ বলা হয়েছে।

৪২) যোগীপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যিনি যোগ সাধনার দ্বারা নিজের জীবাত্মাকে (ক্ষরপুরুষকে) + পরমাত্মায় বা অনাদিপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন তাকেই যোগী পুরুষ বলে।
এখানে বলা বাহুল্য যে - ক্ষরপুরুষকে মানব জীবনে বা সমাজে আবার শরীর অনুসারে পুরুষ বা নারী আখ্যা দেওয়া হয়। মূলত যিনিই যোগ সাধনার দ্বারা নিজের জীবাত্মাকে + পরমাত্মায় সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন তাকেই যোগী পুরুষ  বলে।

৪৩) মহাপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যারা পরের কল্যাণ এবং জগতের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন তারাই হচ্ছেন মহাপুরুষ এবং যিনি  সাধনার দ্বারা নিজের জীবাত্মাকে (ক্ষরপুরুষকে) + পরমাত্মায় বা অনাদিপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম এবং ব্রহ্মজ্ঞান ও ব্রহ্মস্থিতি লাভ করতে পারেন তাকেই শাস্ত্রে মহাপুরুষ বলে।

৪৪) জীবকোটি মহাপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যিনি  সাধনার দ্বারা নিজের জীবাত্মাকে (ক্ষরপুরুষকে) + পরমাত্মায় বা অনাদিপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম এবং নির্বিকল্প সমাধি দ্বারা ব্রহ্মজ্ঞান -ব্রহ্মস্থিতি লাভ করে মুক্তি প্রাপ্ত করতে পারেন তাকেই শাস্ত্রে জীবকোটি মহাপুরুষ বলে।

৪৫) ঈশ্বরকোটি মহাপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যিনি  সাধনার দ্বারা নিজের জীবাত্মাকে (ক্ষরপুরুষকে) + পরমাত্মায় বা অনাদিপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম এবং নির্বিকল্প সমাধি দ্বারা ব্রহ্মজ্ঞান -ব্রহ্মস্থিতি লাভ করে মুক্তি প্রাপ্ত করে তারপর যিনি আরো সাধনার দ্বারা নির্বীজ সমাধি লাভ করে "পরামুক্তি" এবং " অমৃত এর পুত্র অবস্থা" লাভ করে মৃত্যুঞ্জয় হন বা ইচ্ছামৃত্যুর অধিকারী হন  তাকেই শাস্ত্রে ঈস্বরকোটি মহাপুরুষ বলে l
(বলা হয় বাহুল্য যে -  জীবকোটি মহাপুরুষ এর "পরামুক্তি" এবং "অমৃত এর পুত্র অবস্থা" লাভ জীবিত অবস্থায় হয় না - এটি একমাত্র জীবিত অবস্থায় ঈশ্বরকোটি মহাপুরুষরাই লাভ করতে সমর্থ হন)।

৪৬) ব্রহ্মকোটি মহাপুরুষ কাকে বলে?
উত্তরঃ— যিনি লোক কল্যাণ এবং বহু লোক এর উদ্ধার এর জন্যে পরম পরামুক্তির পরও পুন এই ধরাধাম এ জন্ম নেন এবং বহু লোককে  নিজ কৃপাশক্তি দ্বারা জীবকোটি ও ঈস্বরকোটি মহাপুরুষ এ পরিণত করে পরম মুক্তি প্রদান করেন -সেই রকম অবতারকল্প মহাপুরুষকে ব্রহ্মকোটি মহাপুরুষ বলে- যেমন :-জগৎগুরু শঙ্করাচার্য, বাবাজি মহারাজ, শ্রী চৈত্যনো মহাপ্রভ্যো, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব , গুরুনানক , সির্ডির-সাইবাবা , মহাত্মা কবির , দেবরাহবাবা ,  গোরক্ষনাথ  ইত্যাদি মহাপুরুষ হলেন ব্রহ্মকোটি মহাপুরুষ l

৪৭) ব্রহ্মসূত্রের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ— ব্রহ্মসূত্রের ঋষি বাদরায়ণ।

৪৮) ব্রহ্মসূত্রের অন্যতম প্রাচীন ভাষ্যকার কে?
উত্তরঃ— ব্রহ্মসূত্তের প্রাচীন ভাষ্যকার শঙ্করাচার্য।

৪৯) যে মানুষ নিজেকে ভগবান দাবি করে তাকে বেদানুসারে কি বলে—
উত্তরঃ— বেদানুসারে উপনয়ন বলে।

৫০) বেদনুসারে কোন কোন ব্যক্তি গুরুপদবাচ্য?
উত্তরঃ— বেদানুসারে গুরুপদবাচ্য ৫ জন।
পিতা, মাতা, জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতা, শিক্ষাগুরু ও দীক্ষাগুরু।

৫১) প্লাস্টিক সার্জারির জনক কোন বৈদিক ঋষিকে বলা হয়?
উত্তরঃ— মহর্ষি সুশ্রুত কে।

৫২) কোন ঋষি ক্ষার প্রস্তুত প্রণালীরর ধারণা দেন?
উত্তরঃ— তথায় শ্রুতশ্রবাঃ নামক এক ঋষি।

৫৩) ভগবানের কয়টি গুণ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ— ভগবানের ছয়টি গুণ।
ভগবানের ছয়টি গুণের নামঃ— ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, আশ্রম, জ্ঞান ও বৈরাগ্য।

৫৪) বৈদিক উপনিষদ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ— বৈদিক উপনিষদ ১৪টি।
বৈদিক উপনিষদঃ— ঐতরেয়, কৌষীতকি, ছান্দোগ্য, কেন, কঠ, মৈত্রায়ন, তেত্তিরীয়, মহানারায়ণ, শ্বেতাশ্বতর, প্রশ্ন, মুণ্ডুক, মাণ্ডূক্য, বৃহদারণ্যক, ঈশ উপনিষদ।

৫৫) বৈদিক সন্ধ্যাপদ্ধতি কোন উপনিষদে আছে?
উত্তরঃ— বৃহদারণ্যক উপনিষদ আছে।

৫৬) শব্দ ব্রহ্মের প্রথম সগুন প্রকাশ কোনটি?
উত্তরঃ— প্রথম সগুন প্রকাশ ওঁ।

৫৭) চিন্তার অতীত পরমেশ্বর সত্ত্ব, রজ, এবং তম গুণভেদে কি কি নামে প্রকাশিত হন?
উত্তরঃ— ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ও শিব নামে প্রকাশিত হয়।

৫৮) সাকারভাবে ঈশ্বরের উপাসনার পঞ্চমতের বৈদিক উৎস কি?
উত্তরঃ— সাকার সৌর, শাক্ত, শৈব, গাণপত্য এবং বৈষ্ণব।
পঞ্চদেবতা- সূর্য, শক্তি, শিব, গণেশ ও বিষ্ণু।

৫৯) বেদের হিরণ্যগর্ভ সূক্তটির বিষয়বস্তু?
উত্তরঃ— মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব ও সৃষ্টির সকল রহস্য সর্ম্পকে বলা হয়েছে। হিরণ্যগর্ভ সৃষ্টিতত্ত্ব ও সৃষ্টির মূল হল ব্রহ্মা তিনি শাতরূপা-তিন লোকের সৃষ্টি-অদিতি, স্পষ্টই, আকাশ।

৬০) শুক্ল যজুর্বেদের রুদ্রাধ্যায় সম্পর্কে ধারণা?
উত্তরঃ— বেদ এর মধ্যে ভগবান শিব কে আমরা রুদ্র নামে জানি। পূর্বকালে হইতে শ্রদ্ধালু বেদধ্যায়ী মানুষ গন অাত্মকল্যাণের শুক্লযজুর্বেদ থেকে আট উপযোগী অধ্যায় কে চরণ করে "রুদ্রাষ্টাধ্যায়ী" নামক গ্রন্থ
তৈরি হয়।

৬১) শ্রীশ্রী চন্ডী পাঠের প্রারম্ভে যে বৈদিক দেবীসূক্ত পাঠ করতে হয় এই সূক্তটি ঋগ্বেদের কোন মন্ডলে আছে?
উত্তরঃ— দেবীসূক্ত ঋগ্বেদের ১০/১২৫/৩, ১২৫ মন্ডলে রয়েছে।

৬২) ঈশ্বর যে জগৎ সৃষ্টির সাথে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই কথাটির যেকোনো একটি বৈদিক উৎস কি?
উত্তরঃ— বিলাশ, অবাধ, চিন্তার ক্ষেত্র। বৈদিক উৎস- বেদ ও সনাতন ধর্ম। বলা হয়েছে দুষ্টের দমন করে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং শান্তি স্থাপন করেন। ঈশ্বরের সৃষ্টি জগৎতের সবকিছুর কল্যাণের জন্য।

৬৩) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মন্দির ও বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির কোনটি?
উত্তরঃ— আঙ্কোরভাট মন্দির কম্বোডিয়ায় অবস্থিত। আঙ্কোরভাট মন্দির পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মন্দির। দ্বাদশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় সূর্য্যবর্মনের জন্য এই মন্দিরের নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দিরটি ৮২০,০০০ বর্গ মিটার এলাকায় বিস্তৃত।

৬৪) দুর্গা শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ— "দ" অক্ষরটি দৈত্য নাশ করে, "উ"-কার "বিঘ্ন" নাশ করে, "রেফ" রোগ নাশ কর, "গ" অক্ষর পাপ নাশ করে | যিনি দৈত্য, বিঘ্ন রোগ, পাপ, ভয় ও শত্রু নাশ করেন, তিনি দুর্গা। "দুর্গার দশ হাতের অস্ত্রগুলোর নামঃ- ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, বান, শক্তি, ঢাল, ধনুক, ঘণ্টা, পরশু ও নাগপাশ।

৬৫) তুলসীমালা এটা কেন ব্যবহার করা হয়, মালা ব্যবহার কি বাধ্যতামূলক?
উত্তরঃ— হিন্দুদের কাছে তুলসি গাছ হলো পবিত্রতার প্রতিক, এমন কি তারা মনে করে তুলসির মালা যদি সাথে থাকে তবে রোগ বালাই কম হবে এবং তারা পবিত্র থাকবে গলায় তুলসির মালা ধারণ করাটা চৈতন্য যুগ থেকে শুরু হয়, হিন্দুদের মধ্যে যারা বৈষ্নবের অনুসারী তারাই মূলত এই মালা লাগায় এটি ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসাবে তারা ধারন করে।
          ——————০০০——————

সনাতন ধর্ম হলো আদি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। মূলত সনাতন ধর্ম হলো জ্ঞান ও গুনের সুন্দর সমন্বয় যা চিরন্তন সত্য। জীবের ও প্রকৃতির নিয়মের চিরন্তন প্রকাশ হলো সনাতন ধর্ম। আমার ক্ষুদ্র চেষ্টায় আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করেছি এবং সেটা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।

            শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক, বাংলাদেশ)।

Post a Comment

0 Comments