Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

বৈদিক ধর্ম কি?



সনাতন ধর্ম কি এবং ধর্মের অনুসরণ কি?
ধর্মের লক্ষণ ও উপাসনা কি?

                           ধর্মই সনাতন

বেদ বিহিত ধর্মের নাম সনাতন।
(মনুসংহিতা ৪/১৩৭-১৩৮)

                         ধর্মের অনুসরণ

বৈদিক— বেদবিহিত,
বেদ— জ্ঞান,
সনাতন— চিরন্তন,
ধর্ম— ধারণ,

এরপরিপূর্ণ অর্থ— বেদবিহিত জ্ঞান চিরন্তন ধারণ করা। বেদশাস্ত্র সকলের অনুসরণ করা এবং ধর্মকে মঙ্গলের জন্য ধারণ করা উচিত।

"ধর্ম কি মানুষের মনে একটা প্রশ্ন এই নিয়ে মর্হষি কনাদ সূত্র ১অধ্যায়, ১ম আহ্নিক, বৈষেশিক দর্শন গ্রন্থে বলেছেন যে—

যতোহভুদ্যয়নিঃশ্রেয়স সিদ্ধিঃ স ধর্ম্মঃ।।২।।
(বৈশেষিক দর্শন, ১/১/২)

অর্থাৎ— যাদ্বা অভ্যুদয় (অর্থাৎ ইহলোকে "বৈধ বৈভব
 এবং দেহান্তে স্বর্গাদিসুখঃ) লাভ হয় এবং যাদ্বা-নিশ্রেয়স (মোক্ষ) প্রাপ্ত হওয়া যায় তকেই ধর্ম বলে।

    (বৈশেষিক দর্শন, ১/১/২) বিশ্লেষণ করে দিলাম—

ইহার কোনও বিশিষ্ট প্রবর্তক নেই, সুতরাং ইহা অনাদি। যা অভ্যুদয় (উন্নতি) এবং  নিঃশ্রেয়স (মুক্তি) প্রাপ্তি ঘটায় তাই ধর্ম।

                  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে—

শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ । স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ ।। ৩৫

স্বধর্ম কিঞ্চিদ্দোষবিশিষ্ট হইলেও উহা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্মাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। স্বধর্মে নিধনও কল্যাণকর, কিন্তু পরধর্ম গ্রহণ করা বিপজ্জনক।
                 (গীতা ৩/৩৫)

গীতার ৩/৩৫ শ্লোকটি নিচে বিশ্লেষণ করে করে দিয়েছে,

নিজের (স্ব) ধর্ম পালন করা উচিত। গুণাদি কম হলেও নিজের ধর্ম শ্রেষ্ঠ। নিজের ধর্ম পালন কালে যদি মৃত্যুও ঘটে, তবে তা ধর্ম পালন কল্যাণকারক হয়। কিন্তু পরধর্ম যতই গুণসম্পন্ন হোক না কেন তা মহাভয়ংকর।

উত্তমরূপে আচরিত অন্য ধর্ম হতে গুণরহিত নিজ ধর্মই শ্রেষ্ঠ। নিজ ধর্মে মৃত্যুও কল্যানকারক কিন্তু পরধর্ম ভয়াবহ।

ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহমমৃতস্যাব্যয়স্য চ । শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সুখস্যৈকান্তিকস্য চ ।।
              (গীতা, ১৪/২৭)

যেহেতু আমি ব্রহ্মের নিত্য অমৃতের অর্থাৎ মোক্ষের, সনাতন ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের প্রতিষ্ঠা (অথবা আমি অমৃত ও অব্যয় ব্রহ্মের, শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের প্রতিষ্ঠা)।

        (গীতা, ১৪/২৭) বিশ্লেষণ করে দিলাম—

আমি সনাতন ধর্মের, অবিনাশী পরব্রহ্মের, অমৃতের ও অখণ্ড একরসসম্পন্ন আনন্দের আশ্রয় আমিই।

ত্বমক্ষরং পরমং বেদিতব্যং ত্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ । ত্বমব্যয়ঃ শাশ্বতধর্মগোপ্তা সনাতনস্ত্বং পুরুষো মতো মে ।।
                     (গীতা ১১/১৮)

তুমি অক্ষর পরব্রহ্ম, তুমি একমাত্র জ্ঞাতব্য তত্ত্ব, তুমিই এই বিশ্বের পরম আশ্রয়, তুমিই সনাতন ধর্মের প্রতিপালক, তুমি অব্যয় সনাতন পুরুষ, ইহাতে আমার সংশয় নাই।

        (গীতা, ১১/১৮) বিশ্লেষণ করে দিলাম—

আমি পরম ব্রহ্ম ও একমাত্র জ্ঞাতব্য। আপনি জগতে পরম আশ্রয় ও সনাতন ধর্মের রক্ষক, আপনিই অবিনাশী সনাতন পুরুষ, এই আমার মত।

ধর্মকে যদি তুমি রক্ষা করো, তবে ধর্মই তোমাকে সকলদিক থেকে রক্ষা করবে; পক্ষান্তরে যদি তুমি ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যাও, তবে ধর্মই তোমাকে নির্মমভাবে বিনাশ করবে। তাই সর্বদা ধর্মের আশ্রয়ে থাকো।
           (মহাভারতঃ বনপর্ব, ৩১২/১২৮)

এর উত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন যে—

সমাজকে, জনসাধারণকে যা ধারণ করে রাখে, তাই ধর্ম। তাই কিসে জনসাধারণকে, সমাজের সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ হয়, তার সাথে যুক্ত হওয়াই ধর্ম; এ কথা নিশ্চিতরূপে যেন।
               (মহাভারতঃ কর্ণপর্ব, ৬৯/৫৮)

এই পবিত্র ধর্ম পালনের অসংখ্য উপদেশ মহাভারতের সর্বত্র দেয়া আছে। ধর্ম সম্পর্কিত উপদেশগুলো একস্থান জড়ো করলে হয়তো সহস্রের উপর হবে। মহাভারত আমাদের শিখিয়েছেন-জগতে ধর্ম হতে শ্রেষ্ঠ লাভ করার পরম বস্তু আর কিছুই নেই।
           (মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১০৬/৬৫)

                মহাভারতের প্রধান শিক্ষাই হলো—

"যথা ধর্ম, তথা জয়"।
তাই আমাদের সবার উচিৎ সদা সত্যরূপে ধর্মের শরণে থাকা। এ শরণই পারে একমাত্র আমাদের জাগতিক অভ্যুদয় এবং মুক্তির পথে নিয়ে যেতে।

ধর্ম হতেই অর্থ এবং প্রভাব আসে ধর্ম থেকেই সুখ উৎপন্ন হয়। ধর্মের দ্বারাই জগতের সকল অভীষ্ট বস্তুর লাভ হয়; সুতরাং এ জগতে ধর্মই প্রকৃত সারবস্তু তাই সকলকেই ধর্মের শরণে থাকার সর্বদা চেষ্টা করা উচিত।
(মহাভারতঃ অরণকাণ্ড, ৯/৩০)

           এই ধর্মের শাস্ত্রীয় নাম "সনাতন ধর্ম"।
(মনুসংহিতা, ৪/১৩৮), (ভাগবত, ৮/১/৪৪), (মহাভারতঃ অনুশাসন পর্ব, ১৪১/৬৫)।

শাস্ত্রকারগণ আখ্যা দিয়েছিলেন, কারণ এই ধর্ম কোনও নিদিষ্ট প্রবর্তক বা (পয়গম্বর) হইতে উদ্ভূত নহে, এবং কতকগুলি চিরন্তন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত বলিয়া ইহা অনাদি ও শাশ্বত সনাতন ধর্ম।

                  সনাতন ধর্মের লক্ষণ

"সনাতন ধর্মে পূর্ব সূত্রে বলা হয়েছে ধর্মের লক্ষণ। 
ধর্মের দশটি লক্ষণ মনুসংহিতা ৬ অধ্যায় ৯২ শ্লোক আছে—

ধৃতি ক্ষমা দমোহস্তেয়ং শৌচমিইন্দ্রিয়হঃ।
ধী র্বিদ্যা সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্।। ৯২।।
 
"১। ধৃতি (সন্তোষ), ২। ক্ষমা (কেউ অনিষ্ট কররেও তার অনিষ্ট না করা, শক্তি থাকা সত্ত্বেও সহ্যকরা), ৩। দম (ঔদ্ধত্ত্য না থাকা, বিদ্যাপ্রভিতি জনিত যে উদ্ধতভাব ত্যাগ করা) ৪। অস্তেয় (অন্যায় পূর্বক পরধন হরন না করা), ৫। শৌচ (আহার প্রভিতি বিষয়ে শুদ্ধতা), ৬। ইন্দিয়নিগ্রহ (নিজ নিজ বিষয় থেকে ইন্দ্রিয় গুলিকে প্রত্যাহার করানো), ৭। ধী (প্রতিপক্ষের সংশায়দি নিরাকরণপূর্বক স্যমক জ্ঞান লাভ), ৮। বিদ্যা-(আত্ম জ্ঞান লাভ), [ধী ও বিদ্যা — দুটির মধ্যে প্রভেত এই যে, প্রথম টি কর্মজ্ঞান ও দ্বিতিয় টি আধ্যাত্মজ্ঞান], 
৯। সত্য (পদার্থ স্বরুপ কে যথার্থ যানা ও মান্য করা) এবং ১০। অক্রোধ (যে ক্রোধ হ'তে পারত তা উৎপন্ন না হওয়া) এই দশটি ধর্মের লক্ষণ।

১) ধৃতি, ২) ক্ষমা, ৩) দম, ৪) অস্তেয়, ৫) শৌচ,
৬) ইন্দিয়নিগ্রহ, ৭) ধী, ৮)বিদ্যা, ৯) সত্য, ১০) অক্রোধ।

                      সনাতন ধর্মের উপাসনা—

বৈদিক সন্ধ্যাপদ্ধতি বৃহদারণ্যক উপনিষদে রয়েছে। এবং
পঞ্চমত এর পঞ্চদেবতা পবিত্র বেদ মতে বেদের বিভিন্ন সুক্তে প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই পঞ্চমত বৈদিক মতে স্বীকৃত এই পঞ্চমতে ঈশ্বরের উপাসনা করার নিয়ম সনাতন ধর্মের পবিত্র বেদ গ্রন্থ হতেই উদ্ভব হয়েছে।

                     আসুন জেনে নেই—

১) শাক্তমতঃ— শাক্তমতের আরাধ্য দেবী কালী বা দুর্গা অর্থাৎ মাতৃ উপাসনা। ঋগ্বেদের দেবীসূক্ত শাক্তমতের বিকাশ।
২) শৈব মতঃ— শৈবমতের আরাধ্য শিব। ঋগ্বেদের রুদ্র সূক্তে এ মতের উদ্ভব।
৩) বৈষ্ণবমতঃ— এ মতে আরাধ্য হলেন বিষ্ণু। ঋগ্বেদের বিষ্ণুসূক্তে এ মতের উদ্ভব।
৪) গাণপত্যমতঃ— এ মতে আরাধ্য হলেন গণেশ। ঋগ্বেদের গাণপত্য সূক্তে এ মতের উদ্ভব।
৫) সৌরসূক্তঃ— এ মতের আরাধ্য হলেন সূর্য। ঋগ্বেদের সৌর সূক্ত এ মতের উদ্ভব।

                হিন্দুধর্মের ভগবানের প্রতি প্রার্থনা—

হিন্দুদের পূজোর সময় কাঁসর-ঘণ্টা বাজানো হয়। এই কাঁসা ঘণ্টা বাজানোর পিছনে রয়েছে একটা বৈজ্ঞানিক কারণ৷ পূজোর অন্য সব আয়োজনে শাস্ত্রীয় রীতির কথা উল্লেখ করা হলেও, সবেতেই মেলে বিজ্ঞানের যুক্তি। কাঁসা ঘণ্টা সাধারণ বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি হয়৷ তাতে থাকে ক্যাডিয়াম, সিসা, তামা, দস্তা, নিকেল, ক্রোমিয়াম ও ম্যানগিনিসের মতো ধাতু সব ধাতুতে মিশ্রণে তৈরি হয়। ঘণ্টার শব্দের ধ্বনি এক ধরণের সাউন্ড থেরাপি৷ ঘণ্টা বাজালেই, যে ধ্বনি তৈরি হয় তা প্রায় ৭-৮ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এই ধ্বনিতে সকলের মন শান্ত হয়ে যায়। এই সাত সেকেন্ডে শব্দের ধ্বনি আমাদের শরীরের সাতটি আরোগ্য কেন্দ্র সক্রিয় করে তুলে এবং যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কে বর্তমান সমস্ত নেগেটিভ চিন্তাধারা মুছে যাওয়া সাহায্য করে আর শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে৷ এ ছাড়াও ঘর ও মন্দিরে শঙ্খ, কাঁসা ও ঘণ্টার শব্দের ধ্বনি অশুভের বিনাশ করে।

          আমরা ভগবানের সামনে প্রদীপ জ্বালায় কেন?

ঘিয়ের প্রদীপে ঘরের বাতাস শুদ্ধ হয়। অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণের জন্য আমাদের জীবনটা যেন আলোকিত হোক সে আশাতে প্রদীপ জ্বালায়। এটা এক প্রকার যজ্ঞ বা প্রার্থনা করা।
                     ঘরে ও আশনে ধূপ দিই কেন?

ধুপের বা ধুপকাঠির সুগন্ধ যেমন সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক তেমন ঈশ্বরের আশীর্বাদ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক সেই উদ্দেশ্যই এসব আধ্যাত্মিক হলেও কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে অনেক কথা আছে আর এটা বিশেষ করে সুগন্ধ ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। ধূপের ধোঁয়াই বাতাসের জীবাণু মারা যায়। কিন্ত আমার যে আজকাল যেসব ধূপ কৃত্রিম ব্যবহার করি তা কিন্তু বাজে তাতে আমাদের ক্ষতি করে তাই কৃত্রিম ধূপ ব্যবহার করা ভালো নয়।

ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!

                  শ্রী বাবলু মালাকার
                (সনাতন ধর্মের প্রচারক)


 

Post a Comment

0 Comments