মহাবলী হনুমান প্রভু, শ্রীরামচন্দ্রের ভজনায় সবসময় আকুল থাকেন তিনি একমাত্র শ্রীরাম, জয় শ্রীরাম নামে শরণে থাকতো কারণ রাম নামটিতে শক্তি বহন করে তাই ঠিক তেমনি আমরা শ্রীরামচন্দ্রকে মনেপ্রানে শরণ করি মনের শক্তিস্তরে জন্য।
শ্রীরাম
নিজস্বরূপবোধক কৃপাকরং ভবাপহম্।
সমং শিবং নিরঞ্জনং ভজে হ রামমদ্বয়ম্।।
"শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের জয় নাম"
(কলিসন্তরণ্ উপনিষদ) মাত্র তিনটি শ্লোক আছে এতে ১, ২ নং শ্লোক মহামন্ত্র হিসাবে প্রচলিত।
মূল শ্লোক,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।।
(কলিসন্তরণ্ উপনিষদ ১/১)
শব্দের সম্বোধন,
হরি শব্দের সম্বোধনের একবচন হলো হরে।
যার অর্থ হরণ করা কৃষ্ণ শব্দের অর্থ
চিত্তাকর্ষক, রাম শব্দের অর্থ মনোহর।
ব্যাখ্যাঃ— হরে (হরি শব্দের সম্বোধনের
একবচন যার অর্থ হরণ করা)।
কৃষ্ণ (কৃষ্ণ শব্দের অর্থ চিত্তাকর্ষক যদিও এটি কৃষ্ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ কর্ষণ করা)।
শ্রীহরিকে সম্বোধন করে বলা হয় হে হরণ করা ভগবান শ্রীহরি তুমি কৃষ্ণ রূপে আমার চিত্ব অর্থাৎ মস্তিষ্ক থেকে সমস্ত পাপ চিন্তাহরণ কর।
হরে রাম (মনোহর) এর ব্যাখ্যাঃ—
হরণ করা হরি কে সম্বোধন করে বলা হয় হে হরণ করা হরি তুমি রাম রূপে আমার মন অর্থাৎ হৃদয় থেকে সমস্ত অহংকার দূর কর।
পিতৃভক্তির, মাতৃভক্তির, ভাতৃভক্তির, পতিভক্তির, সত্য ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এবং দেশপ্রেমের এক জ্বলন্ত প্রমাণ শ্রীরাম চরিত্র তথা রামায়ণ।
সমস্ত সৃষ্টিতত্ত্বের নিংড়ানো রসটুকু নিয়েই হলো এই 'রাম নারায়ণ রাম' মহাধ্বনি। 'রাম নারায়ণ রাম' নাম-ধ্বনি মহাকাশেরই বর্ণনা করে। মহাকাশের যেমন বর্ণনা চলে না, তার যেমন শেষ নেই, তেমনি মহাকাশের সেই শেষবিহীনের সারগর্ভ 'সরগম্' হিসাবেই দেওয়া এই নাম। সকল ব্যাখ্যার ও নামের সারমর্মের সারকথা এনে দেওয়া হ'লো এই 'রাম নারায়ণ রাম' নামের মধ্যে।
[পুস্তক সূত্র : বেদ সূত্রসার, পৃষ্ঠা : ১০৬, ১০৭]।
রাম নারায়ণ রাম। রাম নারায়ণ রাম। রাম নারায়ণ রাম।
রাম নারায়ণ রাম। রাম নারায়ণ রাম। রাম নারায়ণ রাম।
ওঁ রাং শ্রী রামচন্দ্রায় নমঃ
দশরথায় বিদ্মহে সীতাবল্লবায় ধীমহি।
তন্নো রাম প্রচোদয়াৎ।।
রামায় রামভদ্রায় রামচন্দ্রায় বেধসে।
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ।।
"জয় শ্রীরাম সনাতন ধর্মের জয় গান"
"যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনম্ ,
তত্র তত্র মম মস্তকাঞ্জলিম্"।।
"জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম"
🚩 ধর্মের জয় হোক 🚩
🚩 অধর্মের নাশ হোক 🚩
🚩 সনাতন ধর্মের রক্ষা হোক 🚩
🚩সকল হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হোক 🚩
এক ধ্বনি, এক নাম;
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীরাম!
"রাম নাম সত্য,
বলিতে পারিনি তাই;
মিথ্যা এ বেঁচে থাকা থাকি।
পুণ্য ভগবদগীতা,
আর মনুসংহিতা।
সবাই বলেছে বলো নাকি,
শুধু কি মানুষ হলে চলে?
ধর্মই শেষ কথা বলে।
পবিত্র বেদে শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণ নামে ঔষধে গুণ পাওয়া যায়—
(অথর্ববেদ ১/২৩/১)
(অথর্ববেদ ১/২৩/২)
(অথর্ববেদ ১/২৩/৩)
(অথর্ববেদ ১/২৩/৪)
নক্তং জাতাস্যোষধে রামে কৃষ্ণে অসিক্নি চ।
ইদং রজনি রন্জয় কিলাস পলিতং চ যৎ।।
(অথর্ববেদ ১/২৩/১)।
ভাষার্থঃ— (ঔষধে) ঔষুধি তুমি (নক্তজাতা) রাত্রিতে উৎপন্ন (অসি) হও, যে তুমি (রামে) রমন কারক (কৃষ্ণে) চিত্তকে আকর্ষন কারক (চ) এবং (অসিক্লি) পূর্ণ সার সম্পন্ন (রজনি) হে উত্তম অঙ্গ কারক! তুমি (ইদম্) এই (যত্) যে (কিলাসম্) রূপের হানিকারক কুষ্ট আদি (চ) এবং (পলিতম্) শরীরে শ্বেতপন রোগ [তাহাকে] (রজয়) রঙ প্রদান করো।
★ নক্তং জাতস্য হল একটি পদ অর্থাৎ চন্দ্রের সমান মুখ যার।
★ ওষ অথবা দোষ শব্দ উপপদ রেখে ধেট্ ধাতু দ্বারা কর্মে কি প্রত্যয় হয়ে ওষধি শব্দ তৈরী হয়। ওষধয়তে যে ত্রিবিধ তাপের পান-নাশ করে তার নাম ওষধি।
★ কিলাস= কিল+আস। যে ক্রীড়া দূর করে তা হল কিলাস। ক্রীড়া-বিরক্ত।
★ পলিত= শুভ্র কেশ (শ্বেত কেশ)। এখানে রাজা দশরথকে বোঝানো হয়েছে।
★ রজনী অর্থ পতির রন্জনকারিনী পত্নী। আবার, র= রাম, জমি= জন্ম। অর্থাৎ রামের জন্ম যার থেকে তিনিই রজনী। অর্থাৎ কৌশল্যা দেবী।
★ আসিক্নি- যে স্ত্রীর কেশ এখনো শুভ্র হয়নি। অর্থাৎ যার মৃত্যু এখনো অনেক দূরে। এখানেও তাৎপর্য্য কৌশল্যা দেবীই।
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
শ্রী বাবলু মালাকার,
সনাতন সংস্কৃতি ও বেদ বেদান্তদর্শন প্রচারক,
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।
জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম;
হর হর মহাদেব।

0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার