বেদ ও গীতা
আজকের সনাতন সমাজে কোন হিন্দুকে যদি জিজ্ঞাস করা হয়।
"সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্ম গ্রন্থ কি? "
কেও বলেন বেদ
কেও বলেন গীতা
যদিও প্রায় উত্তর পাওয়া যায় বেদ।
কিন্তু প্রধান ধর্ম গ্রন্থ বেদ বলার পরো তারা বলে এ কলি যুগে বেদ পড়ে তা আত্মস্থ করা বা বোঝা সম্ভব নয়।এ যুগের মানুষের আয়ু অনেক কম।সত্য যুগের মানুষের আয়ু বেশি ছিল তাই তারা বেদ পড়ে আত্মস্থ করতে পারত আর সময় ছিল অনেক।
তখন প্রশ্ন জাগে
তাহলে ঈশ্বর কি ভুল করে বেদ মানব জাতির জন্য প্রবর্তন করেছিলেন,
যা সত্য যুগের জন্য শুধুমাত্র
কলি যুগের মানুষের জন্য নয়।
যদি মানুষই পড়ে আত্মস্থ করতে না পারে তাহলে কি ঈশ্বর বেদ পশুজাতির জন্য পাঠালেন ?
আচ্ছা মেনে নিলাম বেদ ছোট কোন গ্রন্থ নয় যা অনেক গ্রন্থের সমাহার এককথায় গ্রন্থাগার। তাই এ কলি যুগে আয়ু যেহেতু কম তাই শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী গীতা পড়লে হবে যেহেতু ৭০০ শ্লোক মাত্র।আবার অনেকে বলে থাকেন বেদের সার হল গীতা।তাই কলি যুগে গীতা প্রধান।
তাহলে আমার প্রশ্ন বেদের
সার যদি গীতা হয়।তাহলে গীতার পর সার গ্রন্থ হল ব্রহ্মসূত্র যার ৫৫৫ টি শ্লোক।
তাহলে ত গীতার চাইতেও আরো কম শ্লোক নিয়ে বেদের সার হল ব্রহ্মসূত্র সেটা পড়লে ত হল তাইনা ?
যেহেতু কলি যুগে বেদ পড়ার মত বা বোঝার মত সময় বা আয়ু নেই...
যদি গীতার মাধ্যমে সব জানা যেত তাহলে ঈশ্বর কেন সৃষ্টির শুরুতে গীতা প্রবর্তন না করে বেদ করলেন?
ঈশ্বর সবর্জ্ঞ তিনি ত জানতেন কলি যুগে আয়ু কম।
তাহলে কি ঈশ্বরের ভুল ছিল?
তখন অনেকে বলবেন তাহলে গীতার প্রবর্তন কেন হল?
আচ্ছা ভেবেছেন কখনো শ্রীকৃষ্ণ অজুর্নকে কখন উপদেশ দান করছিলেন?
ঠিক যুদ্ধের আগমুহূর্তে যখন অর্জুন যুদ্ধ করবে না বলে তখন শ্রীকৃষ্ণ উপদেশ দান করেন।
আচ্ছা যুদ্ধের সে সময় কি শ্রীকৃষ্ণ বেদ বোঝাবে নাকি বেদের উপনিষদ এর সার রুপ উপদেশ দিবেন।
ধরুন আপনার কোন ছাত্র সারাবছর পাঠ্যবই না পড়ে পরীক্ষার আগের দিন এসে যদি বলে স্যার আমাকে পাস করতে পারি এ জন্য সাজেশন দিন।
তখন হয়তো আপনি বলবেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিষয় পড়তে বা অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ পড়তে।
সারসংক্ষেপ পড়লে ছাত্রটি হইত পাস করবে কিন্ত ভাল রেজাল্ট করতে হলে তাকে অবশ্যই পাঠ্যবই পড়তে হবে।
আসুন শাস্ত্র কি বলে দেখি....
সর্ব্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ ।
পার্থো বত্সঃ সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহত্ ।।(গীতা মাহাত্ম্য)
অর্থ: সমস্ত উপনিষদ ধেনুস্বরুপ, শ্রীকৃষ্ণ হইলেন দোহন কর্তা, অর্জুন উহার বৎস আর দুগ্ধ হইল শ্রেষ্ঠ গীতাশাস্ত্র স্বরুপ অমৃত।
বলা হচ্ছে গীতা হল উপনিষদের সার।
তাহলে আসুন উপনিষদ কি তা একটু জানি...
সমগ্র বেদকে দুইকান্ডে বিভক্ত করা হয়েছে।
১/কর্মকান্ড(সংহিতা ও ব্রাহ্মণ)
২/জ্ঞানকাণ্ড (আরণ্যক ও উপনিষদ)
বেদের চারটি ভাগ অর্থাৎ সংহিতা,ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ।
উপনিষদে ব্রহ্মবিদ্যাই বিশেষভাবে ব্যাখা করা হইয়াছে।
গীতা যদি বেদের জ্ঞানকান্ডের শেষ অংশ উপনিষদ এর সার হয়।
তাহলে বাকী তিন অংশ (ব্রাহ্মণ, সংহিতা,আরণ্যক) সম্পর্কে কিভাবে জানব ?
একজন মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপের মধ্যে গর্ভদান, বিবাহ,অন্তোষ্টিক্রিয়া, শ্রাদ্ধ।এসব কিছু বেদ নিয়মে ত হয়ে থাকে। বলতে গেলে বেদ মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ সংবিধান।
গীতা পড়ে আমরা ব্রহ্মবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি।
কিন্তু কর্মবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হচ্ছেনা।
সেজন্য বেদের সান্নিধ্য প্রয়োজন।
বেদই সনাতন ধর্ম
বেদই হিন্দুর কর্ম
বেদই হিন্দুর হিন্দুত্ব
যিনি বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করেন-তিনিই হিন্দু নামে অভিহিত হন।
পবিত্র বেদ অনাদি ও অনন্ত;
কালাদির দ্বারা পরিচ্ছিন্ন নহে।
বেদগ্রন্থ নাশ হইতে পারে।
কিন্তু বেদ নামধেয় জ্ঞানরাশি অনাদি ও অনন্ত।
শ্রী বিজয় বিদ্যার্থী
(সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম)

0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার