Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

আত্মঘাতী, অমানবিক বর্ণ/জাতপ্রথা, জাতিভেদ


সনাতন ধর্মে বর্ণ/জাত কি জন্ম অনুসারে হয়? ব্রাহ্মণের ছেলেই কি ব্রাহ্মণ?

সনাতন হিন্দুধর্মে সমাজে বর্ণ/জাতিভেদ প্রথা কারণে হিন্দুদেরকে ধ্বংসের শেষ সীমান্তের এনে দাঁড় করিয়েছে। ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠিন পর্বতের মত, আর ছড়িয়েছে মহামারীর মত।

শ্রীমদ্ভগবতগীতার ৪র্থ অধ্যায়ের ১৩তম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বাণীতে বলেছেনঃ—

चातुर्वर्ण्यं मया सृष्टं गुणकर्मविभागशः ।
तस्य कर्तारमपि मां विद्ध्यकर्तारमव्ययम् ॥

চাতুর্ব্বর্ণ্যন ময়া সৃষ্টং গুণকর্ম্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধকর্তারমব্যয়ম্।।
(শ্রীমদ্ভগবতগীতা, ৪/১৩)

অনুবাদঃ— প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।

(শ্রীমদ্ভগবতগীতা, ৪/১৩) বিশ্লেষণঃ— ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র___এই বর্ণচতুষ্টয় গুণ এবং কর্মের বিভাগ অনুসারে আমি সৃষ্টি করেছি। জীবেদের গুণ এবং কর্ম অনুসারে আমি তাদের চার বর্ণের সৃষ্টি (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র) ভাগ করি। কিন্তু এই সৃষ্টি-রচনা প্রভৃতির কর্মগুলি কর্তৃত্ব ও ফলেচ্ছা পরিত্যাগ করেই করি।।

শ্রীমদ্ভগবতগীতার ১৮ অধ্যায়ের ৪১তম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বাণীতে বলেছেনঃ—

ब्राह्मणक्षत्रियविशां शूद्राणां च परन्तप ।
कर्माणि प्रविभक्तानि स्वभावप्रभवैर्गुणैः ॥

ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশং শূদ্রাণাঞ্চ পরন্তপ।
কর্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈর্গুণেঃ।।
(শ্রীমদ্ভগবতগীতা, ১৮/৪১)

অনুবাদঃ— হে পরন্তপ! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য তথা শূদ্রদের কর্ম স্বভাবজাত গুণ–অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে।

(শ্রীমদ্ভগবতগীতা, ১৮/৪১) বিশ্লেষণঃ— হে পরন্তপ! এই জগতে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি বর্ণের বিভাগ মানুষের স্বভাবজাত গুণাদি অনুসারে কথা হয়েছে। সুতরাং নিজ নিজ বর্ণনুসারে নিয়ত কর্ম (স্বধর্ম) অনুষ্ঠিত করাই হল এই গুণাদি থেকে মুক্ত হবার উপায়।।

গুণের অধিকার—

এখানে গুণ বলতে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই ৩টি গুণের কথা বলা হয়েছে। সত্ত্বপ্রধাণ গুণে ব্রাহ্মণ, সত্ত্বরজঃ প্রধান গুণে ক্ষত্রিয়, রজতমঃ প্রধান গুণে বৈশ্য এবং তমঃ প্রধান গুণে শুদ্র। অর্থাৎ ব্রাহ্মণের ছেলে হলেই ব্রাহ্মণ হবে এমন নয়। সত্ত্বগুণপ্রধান স্বভাব হলে শুদ্রের ছেলে হলেও ব্রাহ্মণ হবে এবং ব্রাহ্মণের ছেলের তমঃ গুণ প্রধাণ স্বভাব হলে সে শুদ্র হবে, এটাই ভগবদ্বাক্য হতে সহজ উপলব্ধি। এখানেই একটি বিষয়ে স্পষ্ট যে জাতি আছে কিন্তু জন্মের কারণে নয়, জন্সের পরে কৃত কর্মের উপর ভিত্তি করে।

ব্রাহ্মণ শব্দটা নিয়ে অনেক ভ্রান্তিতে রয়েছে কারণ সনাতন হিন্দু সমাজে সবচেয়ে বর্ণ/জাত প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। ব্রাহ্মণ শব্দের সত্য অর্থ কে না বোঝার কারণে বর্ণ/জাতিবাদ আধিক্য ঘটেছে।

ব্রাহ্মণ এর পরিভাষা বর্ণনা?

ব্রাহ্মণ পবিত্র বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্র অনুযায়ী ব্যক্তির গুণ ও তার কর্ম অনুযায়ী এই ব্রাহ্মণ তৈরি হয়। ব্রাহ্মণ হলো সেই সকল ব্যক্তি যারা জ্ঞানী পন্ডিত ও বেদ উপনিষদ অনুযায়ী সকলকে জ্ঞান দান করেন।

পড়া -পড়ানোর দ্বারা, চিন্তন মনন করার দ্বারা, ব্রহ্মচর্য, অনুশাসন, সত্যভাষন আদি ব্রত পালন করার দ্বারা পরোপকার  আদি সৎকর্ম করার দ্বারা, বেদ, বিজ্ঞান আদি পড়ার দ্বারা, কর্ত্যবের পালন দ্বারা, দান করার দ্বারা এবং আদর্শের প্রতি সমর্পিত থাকার দ্বারা মানুষের এই শরীর ব্রাহ্মণের শরীরের পরিণত হয়। (মনু, ২/২৮)

ব্রাহ্মণ বর্ণ/জাতি?

ব্রাহ্মণ বর্ণ জাত নয়। বর্ণের অর্থ চয়ন বা নির্ধারন এবং সামান্যতঃ শব্দ বরণেও এই অর্থ ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তি নিজ রূচি, যোগ্যতা এবং কর্মরন অনুসারে ইহাকে স্বয়ং বরণ করে, এই জন্য ইহার নাম বর্ণ।  বৈদিক বর্ণ ব্যবস্থা মধ্যে চার বর্ণ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র।

কোনো ব্রাহ্মণের জন্ম থেকেই হয় না কি গুণ কর্ম স্বভাব দ্বারা—

কোনো ব্যক্তির যোগ্যতার নির্ধারণ শিক্ষা প্রাপ্তির পশ্চাতেই হয়। জন্মের আধারের উপর হয় না। কোনো ব্যক্তির গুণ, কর্ম এবং স্বভাবের আধারের উপরই তার বর্ণের নির্ধারণ হয়। কোনো ব্যক্তি যদি অশিক্ষিত হন এবং নিজেকে ব্রাহ্মণ বলেন তাহা ভূল।

মনুর বাণীতে বলেছে দেখুন—

যেমন কাষ্ঠন নির্মিত হস্তি এবং চর্ম নির্মিত হরিণ কেবল নাম মাত্র হস্তি এবং হরিণ বলা হয় তেমনি বিদ্যাহীন ব্রাহ্মণ কেবল নাম মাত্র ব্রাহ্মণের নাম ধারণ করেন।
(মনু ২/১৫৭)

বর্ণাশ্রম কি—

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র - এই চার শ্রেণীর বর্ণ এই সমাজ ব্যবস্থাকে তারা নাম দিল 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'।
বর্ণপ্রথা বর্তমান সময়ে হিন্দু সমাজের অন্যতম বড় শত্রু। কিন্তু প্রকৃত সত্য কি? অনেকেই হয়তো জানেন।তবু যারা জানেন না তাদের জন্য বেদের আলোকে আলোচিত হল।

প্রথমেই নামের বিষয়টা খেয়াল করা যাক। মূল এবং সঠিক নামটি হচ্ছে ‘বর্ণাশ্রম’।

এখানে ‘বর্ণ’ শব্দটি এসেছে ‘Vrn’ root থেকে যার অর্থ ‘To choose বা পছন্দ করা অর্থাৎ পছন্দ অনুযায়ী আশ্রম বা পেশা নির্ধারন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে এখন একে জন্মসূত্রে বিবেচনা করা হয়। ভট্ট্যাচার্য, চট্ট্যোপাধ্যায় নামের পাশে থাকলেই ব্রাক্ষ্মন অথবা দাস,রায় থাকলেই শূদ্র এরকম হাস্যকর কিছু ধারনা প্রচলিত। আমরা বুঝিনা কি করে মানসিকভাবে সুস্থ্য পরিচিত এই আমরা এগুলো বিশ্বাস করি! চলুন দেখা যাক পবিত্র বেদে অলঙ্ঘনীয় এই ব্যাপারে কি বলে।

বর্ণ মানে নির্বাচন করা বা পছন্দ করা, আশ্রম মানে জীবিকা। বর্ণাশ্রম প্রথা মানুষকে তার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য ও যোগ্যতা অনুসারে জীবিকা বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। কেউ এক শ্রেনির ঘরে জন্ম হয়ে অন্য শ্রেনির জীবিকা বেছে নিতে পারে। জীবিকা যদি জন্ম দ্বারাই নির্ধারিত হত তবে বর্ণাশ্রম (জীবিকা নির্বাচন) কথাটা আসতোই কেন? হিন্দুরা দুটো ব্যাপার নিয়ে খুব গর্ববোধ করতেন। এক চতুরাশ্রম, দুই বর্ণাশ্রম। বর্ণশ্রম যদি অমানবিক প্রথাই হবে তবে তা নিয়ে এত গর্ববোধ করে বলার প্রশ্ন উঠত কি? পুত্র পিতার জীবিকা গ্রহণ করা সেকালের প্রেক্ষিতে খুব অবাক করার ব্যাপার বলে মনে মনে হয় না। বরং বর্ণাশ্রমের মাধ্যমে মানুষ স্বভাব অনুসারে যোগ্যতার মর্যাদা দেওয়ার প্রচেষ্টা আসলে সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে হিন্দুদের মানবিক পদক্ষেপ। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতকারীরা এটাকে নিয়ে কি করেছে ভাবুন।

শ্রমের বিভাজনে কোনো এক বর্ণের অধিকার হতে পারে না যদি ভার্গবের পুত্র পরশুরাম পরশু উঠাতে পারেন আর ২১টি বার ক্ষত্রিয়দের বিনাশ করতে পারেন, তবে চন্দ্রগুপ্তও রাজদণ্ড ধারণ করতে পারে। যদি রাজা বিশ্বমিত্র ব্রাহ্মণ হতে পারেন তবে চন্দ্রগুপ্তও ক্ষত্রিয় হতে পারে। যদি রোমহর্ষণ সূত ব্যাস পদ পেতে পারেন, তবে কর্ণেরও শস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার অধিকার পাওয়া চাই। আচার্য আমার দৃষ্টিতে সব ব্যাক্তি অসীম সম্ভাবনার স্বামী। আর সেই সম্ভাবনার দ্বার খোলাই বর্ণব্যাবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র এই চার বর্ণকে নিয়ে পবিত্র বেদে কি বলেছে—

“একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে (ব্রাক্ষ্মন), অপরজন বীরত্বের গৌরবে (ক্ষত্রিয়), একজন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে
(পেশাভিত্তিক), আরেকজন সেবার পরিশ্রমে (শূদ্র)। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়, সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত। (ঋগ্বেদ, ১/১১৩/৬)

একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেক রকম আর সে অনুসারে কেউ ব্রাক্ষ্মণ, কেউ ক্ষত্রিয়, কেউ বৈশ্য কেউ শূদ্র। (ঋগ্বেদ, ৯/১১২/১)

সনাতন ধর্মের হিন্দুদের আইন শাস্ত্র মনুসংহিতা তে বলেছেঃ—

"চারযুগে (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি) দায়িত্বের
রকমভেদ রয়েছে কারন প্রতি যুগে মানুষের আয়ু
হ্রাস পাচ্ছে।" (মনুসংহিতা ১/৮৫)

"সত্য যুগে ধ্যন ত্রেতায় জ্ঞান দ্বাপর এ যজ্ঞাদি ও কলিতে মোক্ষ (হরিনাম এর একমাত্র উপায় এ কথা কোথাও ইবলা হয়নি। হরিনাম খুবই পবিত্র সন্দেহ নেই কিন্তু শুধু হরিনাম করলেই মোক্ষ লাভ হয় না) (মনুসংহিতা, ১/৮৬)

"কিন্তু মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার্থে সবসময়ই চার ধরনের পেশা ভাগ করা হয়েছে।" (মনুসংহিতা, ১/৮৭)

বিষয়ঃ— ব্রাহ্মণ কে? ক্ষত্রিয় কে? বৈশ্য কে? শূদ্র কে?

ব্রাহ্মণ—

যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস, সৎ, নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল, বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সেই ব্রাক্ষ্মণ। (ঋগ্বেদ, ৭/১০৩/৮)

"ব্রাক্ষ্মনরা নিজ স্বার্থত্যগ করে কাজ করবে, বেদ পড়বে এবং তা অপরকে শেখাবে" (মনুসংহিতা, ১/৮৮)

১) মন নিগ্রহ করা, ২) ইন্দ্রিয়কে বশে রাখা, ৩) ধর্মপালনের জন্য কষ্ট স্বীকার করা, ৪) বাহ্যান্তর শুচি রাখা, ৫) অপরের অপরাধ ক্ষমা করা, ৬) কায়-মনো-বাক্যে সরল থাকা, ৭) বেদ-শাস্ত্রাদিতে জ্ঞান সম্পাদন করা, ৮) যজ্ঞবিধি অনুভব করা, ৯) পরমাত্মা, বেদ ইত্যাদিতে বিশ্বাস রাখা— এই সবই হর ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত কর্ম বা লক্ষণ।। (গীতা ১৮/৪২)

ক্ষত্রিয়—

যে দৃঢ়ভাবে আচার পালনকারী, সৎ কর্ম দ্বারা শুদ্ধধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন, অহিংস, ঈশ্বর সাধক, সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ণ ,বিদ্বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা,অসৎ এর বিনাশকারী সে ক্ষত্রিয়। (ঋগ্বেদ, ১০/৬৬/৮)

"ক্ষত্রিয়রা বেদ পড়বে, লোকরক্ষা ও রাজ্য পরিচালনায় নিযুক্ত থাকবে।" (মনুসংহিতা ১/৮৯)

১) শৌর্য, ২) তেজ বা বীর্য, ৩) ধৈর্য, ৪) প্রজা প্রতিপালনের দক্ষতা, ৫) যুদ্ধে পশ্চাদপসরণ না করা, ৬) মুক্ত হস্তে দান করা, ৭) শাসন করার ক্ষমতা—এগুলি হল ক্ষত্রিয়ের স্বাভাবিক কর্ম।। (গীতা ১৮/৪৩)

বৈশ্য—

যে দক্ষ ব্যবসায়ী, দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী সেই বৈশ্য। (অথর্ববেদ ৩/১৫/১)

"বৈশ্যরা বেদ পড়বে, ব্যবসা ও কৃষিকর্মে নিজেদের নিযুক্ত থাকবে।" (মনুসংহিতা, ১/৯০)

১) চাষ করা, ২) গো-রক্ষা করা, ৩) ব্যবসা-বাণিজ্য ও সত্য ব্যবহার করা—এগুলি হল বৈশ্যদের স্বাভাবিক কর্ম।। (গীতা ১৮/৪৪)

শূদ্র—

যে অদম্য,পরিশ্রমী, অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা, লোভমুক্ত কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।
(ঋগ্বেদ, ১০/৯৪/১১)

"শুদ্ররা বেদ পড়বে, এবং সেবা মুলক কর্মকান্ডে নিযুক্ত থাকবে।" (মনুসংহিতা ১/৯১)

বৈশ্যদের স্বভাবজাত কর্ম এবং সর্ব চার বর্ণের সেবা করাই হল শূদ্রদের স্বাভাবিক কর্ম। (গীতা ১৮/৪৪)

যারা এক বর্ণের অধিকার থেকে পরিবর্তন হয়ে অন্য বর্ণের অধিকার ধারণ করেছে তাদের রেফারেন্স গুলো নিচে দিয়েছি—

(১) সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।

(২) প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন।
পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ, ৪/১/১৪) যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(৩) ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ, ৪/২/২)

(৪) নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ, ৪/১/১৩)

(৫) তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ, ৯/২/২৩)

(৬) ভাগবত অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্মনেন এক রাজার ঘরে।

(৭) রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত অনুযায়ী।

(৮) হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও।
(বিষ্ণু পুরাণ, ৪/৩/৫)

(৯) শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ, ৪/৮/১) এমন কি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(১০) মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(১১) রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যেরঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(১২) প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(১৩) ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(১৪) বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(১৫) বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

(১৬) কর্ণ সূর্য নারায়নের পুত্র ছিলেন তা ও ক্ষত্রিয় যিনি পরে শূদ্র হন।

(১৭) ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রাহ্মণ এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রাহ্মণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

(১৮) ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়াব্রহ্ম, ২/১৯)

“শূদ্র” শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মত কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্ – যজুর্বেদ ৩০/৫) একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের ঘোষনা দিয়েছে মানব সভ্যতার কাঠামো হিসেবে। এজন্যেই পবিত্র বেদ ঘোষনা করেছে।

বৈদিক সাম্যের বানীতে—

অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায় যুবা পিতা স্বপা রুদ্র এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ॥ (ঋগ্বেদ ৫/৬০/৫)

অনুবাদঃ— কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন, কেউ ক্ষত্রিয়, কেউ বৈশ্য, কেউ শুদ্র। তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়। ইহারা ভাই ভাই। সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি। পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।

বর্ণ/জাত নিয়ে ছোট একটি যুক্তি—

সমাজে এই হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞোপবীত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞোপবীত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর। ডাক্তারের ছেলে যেমন ডাক্তার হবেই এমন কোন কথা নেই। ডাক্তার এর ঘরে জন্ম নিলেই এম.বি.বি.এস এর সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায়না ঠিক তেমন ব্রাহ্মন এর ঘরে জন্ম নিলেই ব্রাহ্মন হওয়া যায়না। বৈদিক বর্নাশ্রম ও একই। বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে এই ধরনের।

ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ

পবিত্র বেদ একমাত্র জ্ঞানের আলো।
এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে
বৈদিক সাম্যবাদে পথে সকলে ফিরে আসুন।

জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব।

শ্রী বাবলু মালাকার,
সনাতন সংস্কৃতি ও বেদ বেদান্তদর্শন প্রচারক,
(সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments