Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

জগজ্জননী মাতৃরূপী দুর্গাপূজা কেন?


সনাতন ধর্মের পঞ্চমতের শাক্তমতে শক্তিপূজাকে দেবীপূজা বলা হয়। দুর্গাপূজা হচ্ছে রাজসিক পূজা এটি শক্তিপূজা। কারণ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যজাত রাজারাই পূজা করেছেন। শ্রীচণ্ডীতে দেখা যায় সুরথ নামে এক ধর্ম পরায়ণ, নিষ্ঠাবান, প্রজা প্রেয়সী, বীরযোদ্ধা, মহাত্মা ও আত্মজ্ঞানী রাজা ছিলেন। সুরথ রাজা প্রথম দুর্গা পূজার প্রচলন শুভারম্ভ করে। পবিত্র বেদে দেবীদুর্গার সম্পর্কে অনেক তত্ত্ব পাওয়া যায়।

                      দেবীদুর্গার সম্পর্কে

দেবীদুর্গা বৈদিক আদি শক্তিমাতা। দুর্গা (সংস্কৃত दुर्गा; অর্থাৎ "যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন"। দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত তবে আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। দুর্গাপূজাতে শ্রীচণ্ডী পাঠের প্রারম্ভে দেবীসূক্ত পাঠ করার নিয়ম। এই সূক্তটি ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৫ সংখ্যক সূক্ত। এই সূক্তে ৮টি মন্ত্র আছে। ছন্দ ত্রিষ্টুপ, শুধু দ্বিতীয় মন্ত্রটির ছন্দ জগতী। দ্রষ্টী ঋষি হলেন আম্ভৃণী (অম্ভৃণ ঋষির কন্যা) সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য এই সূক্তটি জপ করে মহাশক্তির আরাধনা করেছিলেন।

অন্যদিকে ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১০ম অনুবাকের ১২৭ তম সূক্ত হল রাত্রি সূক্ত। চণ্ডীপাঠের পূর্বে এটি পাঠ করতে হয়। এই সূক্তের দ্রষ্টী ঋষি ভরদ্বাজ কন্যা রাত্রি, কারো মতে সৌভরি মুনর পুত্র কুশিক। এই সূক্তে ৮টি মন্ত্র আছে। এর ছন্দ গায়ত্রী এই দুটি সূক্তেই মহাশক্তি দেবী দুর্গার স্তব ও গুণকীর্তন করা হয়েছে।
দেবীসূক্ত ও রাত্রিসূক্তের মন্ত্রের অনুবাদঃ—

আমি রাষ্ট্রী, সকল জগতের ঈশ্বরী (নিয়ন্ত্রী)। আমি উপাসকদিগকে ধনলাভ করাই। আমি পরমব্রহ্মকে আত্মরূপে জানিয়াছি।

                        দেবীসূক্ত/৩
এই সমুদয় বিশ্ব আমি কারণরূপে সৃষ্টি করি। বায়ু যেমন স্বেচ্ছায় স্বয়ং প্রবাহিত হয়, আমিও স্বয়ং প্রবাহিত হই, আমিও তদরূপ স্বাধীনা। আকাশ ও পৃথিবীকে অতিক্রম করিয়া আমি ব্রহ্মরূপে বর্তমান।
                        দেবীসূক্ত/৮
দেবী দুর্গা তাই বৈদিক দেবী ও ব্রহ্মময়ী। বৈদিক ধারা থেকে পৌরাণিক ধারা আরও পরে বাঙালির পারিবারিকরূপ সব মিলে আজ বিশ্বমাতৃত্বের, ঈশ্বরকে মাতৃরূপে সাধনার উৎকৃষ্ট দর্শন।

                নবপত্রিকা পূজা মানে কি? 
সনাতন ধর্মের অধ্যাত্মসাধনার দৃষ্টিই সর্বত্র প্রসারিত এবং এই দৃষ্টিই সমগ্র হিন্দুদের দিয়েছে জড় থেকে চৈতন্যের ও পার্থিব থেকে অপার্থিবের প্রতি শ্রদ্ধার ধারনা। তাই দেবীদুর্গাকে জগজ্জননী মাতৃরূপী পূজা করি।

১) কদলীকে ব্রহ্মাণী রুপে পূজা করা।
২) কচু গাছকে কালিকা রূপে পূজা করা।
৩) হরিদ্রাকে দুর্গা রূপে পূজা করা।
৪) জয়ন্তীকে কার্তিকী রূপে পূজা করা।
৫) বিল্ববৃক্ষকে শিবা রূপে পূজা করা।
৬) দাড়িম গাছকে রক্তদন্তিকা রূপে পূজা করা।
৭) অশোক গাছকে শোকরহিতারূপে পূজা করা।
৮) মান গাছকে চামুণ্ডারূপে পূজা করা।
৯) ধান গাছকে লক্ষ্মীরূপে কল্পনা পূজা করা।

ও চিন্তা করে পূজা করা হয়। এই নয়টি বৃক্ষকে (বৃক্ষের ডাল) জগজ্জননী মাতৃরূপী দেবীদুর্গা পূজায় ব্যবহৃত হয়। শ্রীচণ্ডী শাস্ত্রগ্রন্ত্রটি পড়ে দেখলেই আরো একটা বিষয় জানতে পারবেন শরৎকালের পূজা অকালবোধন নয়, এটাই আসল দুর্গাপূজা চণ্ডীতে দেবী স্বয়ং বলছে, শরৎকালেই তার মহাপূজা করতে।

            শরৎকালে মহাপূজা কেন বলা হয়?

শরৎকালে মহাপূজা ক্রিয়তে চ বার্ষিকী।
তস্যাং মমৈতন্মাহাত্ম্যং শ্রুত্বা ভক্তিসমন্বিতঃ।।
             (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১২/১২)

অর্থাৎ শরৎকালে যে বার্ষিক মহাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, সেই সময় আমার এই মাহাত্ম্য যে ভক্তিসহকারে শ্রবণ করে, সেই মানুষ আমার কৃপায় সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত হয় এবং ধন, ধান্য ও পুত্রাদি লাভ করে— এতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।

তামগ্নিবর্ণাং তপসা জ্বলন্তীং বৈরোচনীং কর্ম্ফলেষু জুষ্টাম্।
দুর্গাং দেবীং শরণমহং প্রপদ্যে সুতরসি তরসে নমঃ।।
(কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দশম প্রপাঠক)

অর্থাৎ আমি সেই বৈরোচনী, জ্যোতির্ময়ী অগ্নিবর্ণা, স্বীয় তাপে শত্রুদহনকারিণী, জীবের কর্মফলদাত্রী দুর্গাদেবীর শরণ নিলাম। হে সংসার-ত্রাণকারিণি দেবী তুমি আমার পরিত্রান করো, তোমায় প্রণাম।

আগের দিনে দুর্গাপূজা ধ্যানমন্ত্রের বর্ণনানুসারে মায়ের প্রতিমা জগজ্জননীরূপে ও মাতৃরূপী পরমব্রহ্মেরই উপসনা এবং শুদ্ধ হৃদয়ে মাতৃ আরাধনা, ধর্মীয় সংগীত, ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নৃত্য ও ঢাকের ব্যবহার করে পূজা করতেন।

"পূজা" কথাটির মানে পূর্ণ জাগরণ।
অর্থাৎ যাহা হইতে পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়া যায়, যাহা পূর্ণতা প্রাপ্ত করায়, বা যাহার দ্বারা পূর্ণতা আসে, তাই শক্তিপূজা করে নিজের মধ্যে শক্তির পূর্ণ জাগরণ করাকে পূজা বলে। আসলেই কি আমরা তা করছি উত্তর হবে না, কেন না হবে কারণ আমরা দুর্গাপূজা হোক বা অন্য যেকোনো শক্তির পূজা হোক না কেন সব পূজাতে বা মন্দিরকে ডান্স ক্লাব এবং লাইটিং দিয়ে করেছি নাইট ক্লাব এইসব বানিয়ে দিয়েছি আরো একটা বলতে ভুলে গেলাম যে পূজাই মদের নেশা, প্রেমের নেশা, মনে জমেছে ভালোবাসা হাইরে এইটাই নাকি সনাতনী পূজা করার নমুনা।

তাই এইধরনের পূজা করে আমাদের মধ্যেই ঈশ্বরের শক্তি পূর্ণ জাগরণ হচ্ছে না। পূজাতে মদের নেশা করে নিজের মধ্যেই পাপ জাগরণ করছি। অতিরিক্ত লাইটিং দিয়ে নাইট ক্লাব বানিয়ে পূজা করে পাপ জাগরণ করছি। সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে অশালীন গান দিয়ে মন্দিরকে ডান্স ক্লাব বানিয়ে এইধরনের পূজা করা মানে নিজের মধ্যেই পাপ জাগরণ করছি সবাই। দেখুন ব্রাহ্মণ কিন্তু ঠিকই পূজা করছে হয়তো বা তার মধ্যে পাপ জাগরণ নয়, ঈশ্বরের শক্তি পূর্ণ জাগরণ হচ্ছে। পূজার দিনে পাপ কাজের মাধ্যমে যারা নিজের মধ্যেই পাপ জাগরণ করছেন তাদেরকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ অনুসারে বলতে চাই যে—

উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং নাত্মানমবসাদয়েৎ।
আত্মৈব হ্যাত্মনো বন্ধুরাতৈব রিপুরাত্মনঃ।
               (গীতা, ৬/৫)

অর্থাৎ— নিজের দ্বারা নিজেকে উদ্ধার করো, নিজেকে কখনও অধোগতির পথে যেতে দেবে না নিজেকে নিজেই অধোগতির পথে নিয়ে গিয়ে পতন ঘটিও না। কেননা নিজের মিত্র নিজেই এবং নিজের শত্রু তুমি নিজেই।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশটি বিশ্লেষণ করে দিলাম—

আত্মার দ্বারাই আত্মাকে বিষয়কূপ হইতে উদ্ধার করিবে, আত্মাকে অবসর করিবে না (নিম্নদিকে যাইতে দিবে না)। কেননা, আত্মাই আত্মার বন্ধু এবং আত্মাই আত্মার শত্রু।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই উপদেশটি আমার বেশি মনে পড়ে। সত্যি বলতে আমরাই নিজের ক্ষতি নিজেকেই করছি।
                        দেখুন ধর্ম অনুসরণ

বৈদিক—বেদবিহিত,
বেদ—জ্ঞান,
সনাতন—চিরন্তন,
ধর্ম—ধারণ,
এরপরিপূর্ণ অর্থ বুঝা যায় বেদবিহিত জ্ঞান চিরন্তন ধারণ করা। কিন্তু আমরা নিজেরাই কখনোই ধর্মকে অনুসরণ করি না। বেদশাস্ত্রের উপর বিশ্বাস ও অনুসরণ করে সবাইকে বলতে চাই যে—

ধর্মকে ব্যবহার নয়, নিজের মঙ্গলের জন্য ধারণ করুন। তামসিক পূজা নয়, রাজসিক বা সাত্ত্বিক পূজা করুন।

                  শারদীয় দুর্গাপূজার আহ্বান

★ দুর্গাপূজায় সাত্ত্বিক পূজার মাধ্যমে অর্থের সদ্ব্যবহার করে শিক্ষাবৃত্তি এবং অভাবগ্রস্তদের প্রতি সহায়তা অনুদান চালু করুন। পাশাপাশি বেদ, গীতা ও চণ্ডীসহ ধর্মীয় গ্রন্থ বিতরন করুন।

★ তামসিক পূজা নয়, একমাত্র শাস্ত্রানুমোদিত সাত্ত্বিক পূজার মাধ্যমে বিশ্বমাতার আশীর্বাদ লাভ করুন। দুর্গাপূজা মাতৃরূপী পরমব্রহ্মেরই উপসনা। পূজায় আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজার মাহাত্ম্য ও স্বরূপ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করুন।

★ পূজার ধ্যানমন্ত্রের বর্ণনানুসারে মায়ের প্রতিমা জগজ্জননীরূপে তৈরি করুন এবং অবশ্যই আধুনিকতার নামে রুচিহীন ও দৃষ্টিকটু প্রতিমা তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন।

★ দুর্গাপূজায় অশালীন গান ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ এবং DJ ব্যবহার বন্ধ করুন। ধর্মীয় সংগীত, ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নৃত্য ও ঢাকের ব্যবহার আরো প্রসারিত করুন।

★ পূজার তিথিগুলোতে সকল ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকুন এবং শুদ্ধ হৃদয়ে মাতৃ আরাধনায় ব্রতী হোন।

সনাতনী পূজা এমন ভাবে করুন কেউ যেন আঙুল তুলে না বলতে পারে। এটা সবার প্রতি অনুরোধ করছি।

ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!

জয় শ্রী মা দুর্গা
জয় মা মহামায়া
জয় মা আদ্যাশক্তি

                       (শ্রী বাবলু মালাকার)
                      সনাতন ধর্মের প্রচারক


পবিত্র বেদের বাণী জানতে
চোখ রাখুন আমাদের পেইজে।
☞ www.facebook.com/পবিত্রবেদ

Post a Comment

0 Comments