শ্রীকৃষ্ণের সহধর্মিণী রুক্মিণী এটাই সত্যি যে রুক্মিণী নামটি মহাভারতে প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু রাধা নামটি মহাভারতে ও শ্রীকৃষ্ণ জীবনী গ্রন্থের কোথাও পাওয়া যায় না।
বৈষ্ণব মতবাদে রাধা কে?রাধা শব্দের উৎপত্তি রাধ্ ধাতু থেকে নিস্পন্ন হয়। তাদের মতে রাধা নামটির অর্থ ধারণ, আরাধনা বা প্রকৃতি পাওয়া যায়।
এই রাধা শব্দের অর্থই বা কি?
রা + ধা = রাধা,
রা শব্দের অর্থ— ব্রহ্মাণ্ড,
ধা শব্দের অর্থ— ধারণ করা বা আরাধনা করা।
এখন এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মূল আশ্রয়ের তত্ত্ব হলেন সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ পরমব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণ, যে এই জগতকে সর্বদা ধারণ বা আরাধনা করে আছে তিনিই কৃষ্ণ, তিনিই রাধা। তবে রাধা কোন বিশেষ নারীর নাম নয়। রাধা নামের অর্থ ধন ও ঐশ্বর্য ইত্যাদি পাওয়া যায়।
নিরুক্তাকার যাস্ক রাধা শব্দের অর্থ ধন করেছেন (রাধ ইতি ধননাম; (নিরুক্ত, ৪/৪)। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামের আগে রাধা নামটি প্রকৃতি হিসাবে উল্লেখ আছে তাই প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ স্বরূপ হিসেবে শ্রীকৃষ্ণ অবতার। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বলা যায় জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি, সর্বশ্রেষ্ঠ স্বরূপ বা শক্তির শ্রীকৃষ্ণ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ব্রহ্মা প্রকৃতি পুরুষ তিনি সচ্চিদানন্দ। এই ব্রহ্মাণ্ডে ব্রহ্মের গুণ অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ব্রহ্মের মতোই সচ্চিদানন্দ, তার মধ্যেই তিনটি প্রধান শক্তি— সৎ শক্তি, চিৎ শক্তি এবং আনন্দ শক্তি।
"অনন্ত শক্তি" মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের তিনটি শক্তি— প্রধান ইচ্ছাশক্তি, ক্রিয়াশক্তি, জ্ঞানশক্তির। শ্রীকৃষ্ণ জগতের শক্তি মিলেই অখণ্ড প্রকৃতির রূপগুণের শক্তি'র উদ্ভব হয়ে আছে।
রাধাকৃষ্ণ নামের মূলতত্ত্ব কি?
সনাতন ধর্মের দশসংস্কার বিধিতে নামকরণ বলে একটি সংস্কার বিধি আছে। শাস্ত্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান করে জাতকের নামকরণ করা হয়ে থাকে। বহুজনেরই থেকে জাতককে পৃথকীকরণ যেমন এই নামের উদ্দেশ্য তেমনি জাতকের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয়াও এই নামকরণের লক্ষ্য। নাম ধরে ডাকলেই নির্দিষ্ট লোকটি উত্তর দেবে বা কাছে আসবো। অনেক লোকের ভিড়ে নামই আমার সত্ত্বাকে জানিয়ে দেয় "আমি" আছি। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি অনুপরমাণুতে ঈশ্বর আছেন। তিনি বহু হয়েছেন, ভিন্ন রূপে আমাদের চোখে প্রতিভাত হচ্ছেন। প্রতিটি রূপেরই ভিন্ন নাম আছে। আম গাছকে আমরা সিংহ বলি না, মাছকে শঙ্কর বলে ডাকি না সুতরাং নাম ধরে ডাকলেই যার নাম তার রূপ আমাদের চোখে প্রতিভাত হয় এমনটি তাতে নিবিষ্ট হয়। নামের যে প্রয়োজন আছে তা অনস্বীকার্য। বাগবিধি বা ভাষার রীতিতে নামের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। আমাদের আলোচ্য বিষয় সে সব অর্থ নিয়ে নয়। আমাদের আলোচনা নামের আধ্যাত্মিক প্রয়োগ নিয়ে ব্যক্তিগত নাম প্রয়োগেও আমরা ভিন্ন নাম, রূপ ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকি। যেমন, একটি থাকে পোশাকী নাম বা কোষ্ঠির বা নামকরণ অনুষ্ঠানের নাম। আবার একটি থাকে সর্বদা ব্যবহারের নাম, এরপরও থাকে একটি সংক্ষিপ্ত ডাক নাম অথচ ব্যক্তি একজনই।
তাই শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
ब्रह्मणो हि प्रतिष्ठाहममृतस्याव्ययस्य च ।
शाश्वतस्य च धर्मस्य सुखस्यैकान्तिकस्य च ॥
(Gita,14/27)
অনুবাদঃ— আমিই ব্রহ্ম, অবিনাশী অমৃত, সনাতন ধর্ম এবং ঐকান্তিক সুখের আশ্রয় অর্থাৎ এগুলি সমস্তই আমার নাম।।
(গীতা, ১৪/২৭)
(গীতা, ১৪/২৭ বিশ্লেষণ)
শ্রীকৃষ্ণ গুণ অবতার যেহেতু আমি ব্রহ্মের নিত্য অমৃতের অর্থাৎ মোক্ষের, সনাতন ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের প্রতিষ্ঠা (অথবা আমি অমৃত ও অব্যয় ব্রহ্মের, শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের প্রতিষ্ঠা)।
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব
শ্রী বাবলু মালাকার
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)

0 Comments
ওঁ তৎ সৎ
নমস্কার