Bablu Malakar

पवित्र वेद धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते

পবিত্র বেদে চিকিৎসার ধরণসমূহ



                ☀ ॐ বৈদিক চিকিৎসা শাস্ত্র ॐ ☀

প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে চিকিৎসাকে আটটি অংশের বিজ্ঞান হিসেবে শ্রেণী বিন্যাস করা হয়—

১.কায়া চিকিৎসা (জেনারেল মেডিসিন), 
২) কৌমারÑর্ভত্য (শিশু কিশোর চিকিৎসা), 
৩) শল্য চিকিৎসা (শল্য বিদ্যা),
৪) শালাক্য তন্ত্র (চক্ষু ও নাক কান গলা চিকিৎসা), 
৫) ভূত বিদ্যা (অপদেবতা, মনোরোগ সম্পর্কিত বিদ্যা),
৬) আগড় তন্ত্র (বিষক্রিয়া সম্পর্কিত),
৭) রসায়ন তন্ত্র (নানাবিধ দ্রব্য সহকারে তরল ঔষধি প্রস্তুতকরণ বিদ্যা)।
৮) বাজিকরণ তন্ত্র ও আফ্রোডিজিয়াক।

হাজার হাজার বছর পরেও বর্তমান বিশ্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই শ্রেণী বিন্যাসের কোনটাই অপাংক্তেয় বা পরিত্যাজ্য হয়ে যায়নি।

আয়ুর্বেদ হচ্ছে বৈদিক রীতি মতে উপবেদ (বা বাড়তি জ্ঞান) গোত্রীয়, ঋগে¦দের উত্তরখ- তথা সম্পূরণী অংশ বা পরিশিষ্টে এর অন্তর্ভূক্তি থাকলেও অথর্ববেদকে আয়ুর্বেদের মুখ্য উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। অথর্ব বেদের সংহিতা অংশে রোগ নিরাময়ের জন্য ১১৪ টি স্ত্রোত্রগীত বা জাদুবিদ্যার মন্ত্রোচ্চারণমূলক শ্লোক আছে। চরক তাঁর সংহিতায় উল্লেখ করেন যে চিকিৎসকরা অথর্ব বেদ সংলগ্ন থাকা বিধেয়। আয়ুর্বেদকে পাঁচ হাজার বছরের পুরানো চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে অনেকে বিবেচনা করেন।

☀ শোধন চিকিৎসা (বিশুদ্ধিকরণ চিকিৎসা) ✎

এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণগুলি দুর করে চিকিত্সা করা হয়। এই পদ্ধতিতে শরীরের ভিতর ও বাহিরের শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণ পদ্ধতিগুলি হল পঞ্চকর্ম (বমনকারক ঔষধ, বিরেচন, গুহ্যদেশে প্রক্ষিপ্ত তৈল ঔষধ, মলদ্বারে প্রবেশ করানো তরল ঔষধ এবং নাসিকার মধ্যে দিয়ে দেওয়ার ঔষধ।

☞☀ পঞ্চকর্মপূর্ব পদ্ধতিসমূহ (বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীন ওলিশন এবং কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘামের মাধ্যমে চিকিৎসা) ✎

পঞ্চকর্ম চিকিৎসায় শরীরের রাসায়ণিক প্রক্রিয়ার যথাযথ পরিচালনার মাধ্যমে চিকিত্সা করা হয়। প্রয়োজনীয় শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে আরোগ্য আনা হয়। স্নায়ুরোগের জন্য, অস্থি ও মাংসপেশীর অসুখে, কিছু ধমণী ও স্নায়ু-ধমণী সংক্রান্ত অবস্থায়, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পাচন প্রক্রিয়ার অসুখে এই চিকিৎসা বিশেষ করে উপযোগী হয়।

☞☀ শমন চিকিৎসা(প্রশমণকারী চিকিৎসা) ✎

শমন চিকিৎসায় রোগে আক্রান্ত দোষগুলিকে দমন করা হয়। যে পদ্ধতিতে দূষিত ‘দোষ’ বা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট না করে পূর্বাবস্থায় ফেরে তাকে শমণ চিকিৎসা বলে। ক্ষুধার উদ্রেক ও হজমের মাধ্যমে, ব্যয়াম ও আলো হাওয়ায় শরীরকে উজ্জীবিত করে এই চিকিত্সা করা হয়। এতে রোগ
উপশমকারী ও বেদনা নাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
পথ্য ব্যবস্থা (ক্রিয়াকলাপ এবং খাদ্যাভাসের নিয়মাবলী)
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ক্রিয়াকর্ম, অভ্যাস ও আবেগজনিত অবস্থা সংক্রান্ত্ উচিত অণুচিৎ বিষয়ে ইঙ্গিতসমূহ পথ্য ব্যবস্থার অন্তর্গত। থেরাপেটিক পরিমাপ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে এবং প্যাথোজেনিক প্রক্রিয়াকে বাধা প্রদান করতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের উপর নিষেধাবলী জারি করে অগ্নিকে উদ্দিপীত করা এবং খাদ্যবস্তুর ভালভাবে হজম করানোর মাধ্যমে কলাসমূহের শক্তি লাভই হল এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।

☞☀ নিদান পরিবর্জন (অসুখ হওয়া ও অসুখের বৃদ্ধিকারক কারণগুলির বর্জন) ✎

নিদানবর্জন হল শরীর রোগগ্রস্ত হওয়ার যেসব কারণসমূহ দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় বর্তমান, সেগূলির পরিহার। যে সকল কারণে রোগগ্রস্ত শরীর আরো রোগগ্রস্ত হতে পারে, সেকারণগুলিকে পরিত্যাগ/পরিবর্তন করাও এর অন্তর্গত।

 ☀ সত্ববজায় (মানসিক রোগের চিকিৎসা) 

সত্ববজায় প্রধানতঃ মানসিক অসুবিধায় বেশী কাজ করে। মনকে অস্বাস্থ্যকর বস্তুর কামনা থেকে মুক্ত রাখা, সাহস, স্মৃতিশক্তি, বিদ্যা ও মনোবিজ্ঞান চর্চা অনেক বিশদভাবে আয়ুর্বেদে বর্ণিত আছে এবং মানসিক রোগের চিকিৎসার অনেক বিভিন্ন পদ্ধতির উল্লেখ আছে।

☞☀ রসায়ন চিকিৎসা (আনাক্রম্যতা এবং পুনর্যৌবনপ্রাপ্তির ঔষধ) ✎

রসায়ন চিকিৎসা মানবদেহে শক্তি ও প্রাণশক্তি আনয়নের চিকিৎসা। শারীরিক কাঠামোর দৃঢ়তা স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধি, বুদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যৌবনজ়্যোতি অক্ষুন্ন রাখা এবং শরীর ও ইন্দ্রীয় সমূহে পূর্ণমাত্রায় শক্তি সংরক্ষণ - রসায়ন চিকিত্সার অন্যতম উপকারীতা। অসময়ে শরীরের ক্ষয় প্রতিরোধ করা ও ব্যাক্তিবিশেষের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য অর্জনে রসায়ন চিকিত্সা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
 
ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
 
পবিত্র বেদের বাণী জানতে চোখ রাখুন আমাদের পেইজে ☞ Facebook.com/পবিত্র বেদ

Post a Comment

0 Comments